বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে আবেদন দিয়ে দলীয় টেন্ড বানানোর আড়াই লক্ষ টাকার অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণ ও ঝালচত্বরের মধ্যবর্তী স্থানে ইতোমধ্যেই এই টেন্ড বানানোর কাজও শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বসার জন্য একটি টেন্ড বানাতে প্রকৌশল অফিস বরাবর গতবছরের ৯ অক্টোবর একটি আবেদন দেওয়া হয়। তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদে একটি স্থায়ী টেন্ড তৈরির আবেদন করেন। এতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস বাদে অবসর সময়ে বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য আম বাগানে একটি স্থায়ী টেন্ড বানানোর প্রয়োজন উল্লেখ করে একটি স্থায়ী টেন্ড বানাতে প্রশাসনের অনুমোদন চাওয়া হয়। প্রকৌশল অফিস থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ২০ অক্টোবর প্রশাসনের পক্ষ থেকে টেন্ড বানানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরএফকিউ পদ্ধতিতে টেন্ডার দেওয়ার পরে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজু এন্টারপ্রাইজকে গত ৪ জানুয়ারী কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
তবে, ছাত্রদল নেতার আবেদনে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য টেন্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ থাকলেও সরজমিনে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র৷ ক্যাম্পাসের আমতলায় বাংলা মঞ্চের পাশেই রয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি টেন্ড। তার অদূরেই বটতলা ও অনুষদ ভবনের মধ্যবর্তী জায়গার দু’প্রান্তে রয়েছে আরো দুটি টেন্ড। বটতলা থেকে ঝালচত্বরের দিকে এগোলে দেখা যাবে আরো একটি এবং ঝালচত্বরেও রয়েছে আরো দুটি টেন্ড। এমনকি যে স্থানে নতুন এই টেন্ডের কাজ শুরু হয়েছে সেখান থেকে ২ ফিটেরও কম দূরত্বেই একটি টেন্ড রয়েছে। ক্যাম্পাসের ১০০ গজ জায়গার মধ্যে ৬টি টেন্ড থাকার পরেও আরো একটি টেন্ডের কী প্রয়োজন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের আড্ডা দেওয়ার যথেষ্ট জায়গা আছে। নতুন করে টেন্ড বানানোর কোন প্রয়োজনীয়তা আমি দেখি না। আর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানার ব্যবহার করাটা ভালোভাবে দেখছি না৷ দেশে সবারই রাজনীতি করার অধিকার আছে, কেও রাজনীতি করতে চাইলে তার নিজের রাজনৈতিক দলের ব্যানারে রাজনীতি করাই ভালো।
এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রী সহ সব ছাত্রসংগঠনের ই টেন্ড আছে শুধু ছাত্রদলের কোন টেন্ড নেই। আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন দিয়েছিলাম, প্রশাসন সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বরাদ্দ দিয়েছে। এমন না যে প্রশাসনের ছাত্রদলের নামে বা আমার নামে টাকা দিয়ে দিয়েছে। এটা ছাত্রদলের টেন্ড হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত, তারা যেকোন সময় এসে বসবে, গল্পগুজব করবে। আমরা সাংগঠনিকভাবে একটি টেন্ডের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছি এবং আবেদন দিয়েছি। প্রশাসন যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু করেছে।
ভারপ্রাপ্তের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরিফ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের বসার জন্য একটি টেন্ড নির্মাণের আবেদন আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা স্টিমেট করে প্রশাসন বরাবর পাঠালে অনুমোদন লাভের পরে আমরা কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে টেন্ডার দেওয়া হয় এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজটি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৬টি টেন্ড থাকার ব্যাপারে বললে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করি নাই, আমরা শুধু আবেদনের প্রেক্ষিতে স্টিমেট করেছি৷ অনুমোদনের বিষয়টি প্রশাসনের আওতাধীন, আমরা শুধু বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করি৷




















