চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) রিসার্চ এন্ড পাবলিকেশন সেলের উদ্যোগে বেস্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ২০২৩ এবং রিসার্চ ওয়ার্কশপ ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
বুধবার (২৯জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে এই অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন চবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, চবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
বেস্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ প্রাপ্ত চবির চারজন শিক্ষক হলেন, চবির মার্কটিং বিভাগের প্রফেসর ড. ফুয়াদ হাসান, গবেষণা বিষয় “A cross-cultural analysis of ridesharing intentions and compliance with COVID-19 health guidelines: The rofes of social trust, fear of COVID-19, and trust-in-God” জার্নাল পাবলিকেশন JOURNAL OF RETAILING AND CONSUMER SERVICES (Q1)। রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. ফয়সাল ইসলাম চৌধুরী, গবেষণা বিষয় ” Electrochemical nitrogen fixation in metal-N 3 batteries: A paradigm for simultaneous NH, synthesis and energy generation” জার্নাল পাবলিকেশন ENERGY STORAGE MATERIALS (Q1)। ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোরশেদুল হক, গবেষণার বিষয় ” Dynamic Operating Envelope-Based Local Energy 4 Market for Prosumers with Electric Vehicles” জার্নাল পাবলিকেশন IEEE TRANSACTIONS ON SMART GRID(Q1)। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, গবেষণা বিষয় ” Environmental education for sustainable development of Bangladesh and its challenges” জার্নাল পাবলিকেশন Sustainable development (Q1)।
রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. ফয়সাল ইসলাম চৌধুরী অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমি বর্তমান প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। এই এ্যাওয়ার্ড আমাদের কাজ করার প্রতি আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিবে। বর্তমান প্রশাসন যেভাবে আমাদের গবেষণায় কাজ করার প্রতি আগ্রহ দিচ্ছে এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সারাবিশ্বে নাম-ডাক থাকবে। আপনাদের সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণায় আমরা আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবো।
চবির মার্কটিং বিভাগের প্রফেসর ড. ফুয়াদ হাসান বলেন, গবেষণা বিষয়ে আমাদের আগে থেকে এমন উৎসাহ সহযোগী দেওয়া হলে গবেষণায় আগ্রহ বৃদ্ধি পেতো। গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমাদের দেশের গবেষকরা নিজেদের ইচ্ছায় এবং অর্থে গবেষণা করে থাকেন। এর বিনিময় তারা কি পাবে সেগুলো নিয়ে ভাবে না।বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার বাহিরে গবেষণা একটি অপরিহার্য বিষয়। আমরা যারা প্রথমবারের মতো এ্যাওয়ার্ড পেলাম তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার শিক্ষককে অনুপ্রেরণা করবে।
চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাজ হলো জ্ঞান সৃষ্টি করা এবং বিতরণ করা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দু’টি বিষয়কে মিশন হিসেবে গ্রহণ করেছে। আমরা দায়িত্বে আসার পর থেকে গবেষণার বিষয় আরো কিভাবে বলিষ্ঠভাবে কাজ করা যায় সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অন্তরায় বাজেট। যে পরিমাণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট দেওয়ার কথা ছিল তা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জায়গার বাজেট অন্য জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে সরকার নতুন করে বাজেট দেয়নি। আমাদের শিক্ষকতার সাথে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। প্রত্যেক বিভাগের পক্ষ থেকে বেস্ট রিসার্চ এ্যাওয়ার্ড শিক্ষকদের নিবার্চন করতে হবে। এতে শুধু শিক্ষক নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানের উচ্চতর বিদ্যাপিঠ এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউশন। পলিটিক্যাল ফেভার যদি বেশি হয় আর একাডেমিক ফেভার যদি কম হয় তাহলে একটি জাতি অগ্রসর হতে পারে না। বাংলাদেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়াশোনার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা অনেক উন্নত। আজকে বেস্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তাদের প্রতি অভিনন্দন রইল। কিভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয় কে দখলদারিত্ব ও মাদকমুক্ত করে একাডেমিক ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে আমি গবেষণা করছি।
তিনি গবেষকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আপনারা গবেষণার সংখ্যার দিকে নজর না দিয়ে গুণগত মানের দিকে নজর দেন। যদি একটি গবেষণাও আন্তর্জাতিক মানের হয় এর মাধ্যমে আপনারা নোবেল পুরস্কারও পেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং বাড়ানো যদি সম্ভব না হয় তাহলে এটা কমানোর অধিকার আপনাদের নেই।গবেষণাপত্র যদি বাতিল হয় তাহলে আপনারা হতাশ হবেন না, লেগে থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচিতি লাভ করে বড় বড় গবেষকদের কাজের মাধ্যমে। আপনারা গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কে উচ্চতর স্থানে নিয়ে যেতে পারবেন।
























