০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাবনা জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটিতে পাবিপ্রবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮ কর্মী

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলা ৩০৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রা আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির কথা জানানো হয়।

এই কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী বরকুতুল্লাহ ফাহাদ এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনজুরুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। এই কমিটিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৮ কর্মী পদ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, কমিটিতে সংগঠক হিসেবে পদ পেয়ছেন হামিম মাহমুদ যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেহজাদ হাসানের অনুসারী ছিলেন। মুখপাত্র হিসেবে পদ পেয়েছেন শফিক রেহমান কাদের, আল শাওভির সিফাত, আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও মোহা. আলাউদ্দিন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তারাও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেহজাদ হাসানের অনুসারী ছিলেন।

সদস্য পদ পাওয়া রাসেল আহমেদ, মোকাররম সজিব বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো নুরুল্লাহর অনুসারী ছিলেন। সংগঠক হিসেবে পদ পাওয়া শাহীন হোসেন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন, যে ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কোটা বিরোধী মিছিলে অংশগ্রহণও করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন একটি নিরপেক্ষ ও ন্যায়ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠার কথা থাকলেও এখানে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে করে আন্দোলনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, ছাত্রলীগের একাংশ কৌশলে এই আন্দোলনকে প্রভাবিত করতে চাইছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কমিটিতে ছাত্রলীগের নাম সমন্বয়কদের মাধ্যমেই গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জুলাই এদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নিয়েছে অথচ এরা আজকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে পদ পেয়েছে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নাম কেন্দ্রে গেছে সমন্বয়ক মনজুরুল ইসলামের মাধ্যমে। ছাত্রলীগের যাদের নাম কমিটিতে দেওয়া হয়েছে এদের কয়েকজনের সাথে মনজুরুলের সম্পর্কও ভালো।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলার সদস্য সচিব মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে যাদের নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এরা যে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল সেটা আমার জানা ছিল না। কিছুক্ষণ আগেই আমি ওদের বিষয়ে জানতে পেরেছি এবং আমি কেন্দ্রে বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা দ্রুত নামগুলো কমিটি থেকে কাটানোর ব্যবস্থা করছি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা: ৫৪ জনকে আসামি, ৪৫ গ্রেপ্তার

পাবনা জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটিতে পাবিপ্রবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮ কর্মী

আপডেট সময় : ০২:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলা ৩০৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রা আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির কথা জানানো হয়।

এই কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী বরকুতুল্লাহ ফাহাদ এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনজুরুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। এই কমিটিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৮ কর্মী পদ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, কমিটিতে সংগঠক হিসেবে পদ পেয়ছেন হামিম মাহমুদ যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেহজাদ হাসানের অনুসারী ছিলেন। মুখপাত্র হিসেবে পদ পেয়েছেন শফিক রেহমান কাদের, আল শাওভির সিফাত, আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও মোহা. আলাউদ্দিন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তারাও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেহজাদ হাসানের অনুসারী ছিলেন।

সদস্য পদ পাওয়া রাসেল আহমেদ, মোকাররম সজিব বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো নুরুল্লাহর অনুসারী ছিলেন। সংগঠক হিসেবে পদ পাওয়া শাহীন হোসেন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন, যে ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কোটা বিরোধী মিছিলে অংশগ্রহণও করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন একটি নিরপেক্ষ ও ন্যায়ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠার কথা থাকলেও এখানে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে করে আন্দোলনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, ছাত্রলীগের একাংশ কৌশলে এই আন্দোলনকে প্রভাবিত করতে চাইছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কমিটিতে ছাত্রলীগের নাম সমন্বয়কদের মাধ্যমেই গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জুলাই এদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নিয়েছে অথচ এরা আজকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে পদ পেয়েছে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নাম কেন্দ্রে গেছে সমন্বয়ক মনজুরুল ইসলামের মাধ্যমে। ছাত্রলীগের যাদের নাম কমিটিতে দেওয়া হয়েছে এদের কয়েকজনের সাথে মনজুরুলের সম্পর্কও ভালো।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলার সদস্য সচিব মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে যাদের নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এরা যে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল সেটা আমার জানা ছিল না। কিছুক্ষণ আগেই আমি ওদের বিষয়ে জানতে পেরেছি এবং আমি কেন্দ্রে বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা দ্রুত নামগুলো কমিটি থেকে কাটানোর ব্যবস্থা করছি।’