১১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৭ বছরে গেইট আর বাউন্ডারি ওয়ালে সীমাবদ্ধ শিশুপার্ক

সৈকত নগরী কক্সবাজারের নেই কোন শিশুপার্ক। দুই দফায় ৮ বছরে আলোর মুখ দেখেনি কক্সবাজার শিশুপার্ক নির্মাণ কাজ। জেলাবাসীর এই প্রাণের দাবীটি, আদৌ পূর্ণতা পাবে কিনা সেটা নিয়েও আছে যথেস্ট সংশয়।
কক্সবাজারে ব্যাপক উন্নয়ন যজ্ঞের ডামাডোলে ও আলোর মুখ দেখেনি এই শিশুপার্কটি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১৮ সালের ১ জুন শহরের বিয়াম ফাউন্ডেশন সংলগ্ন মাঠে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে জমি জটিলতার পার করে দুই বছর। পরবর্তী ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট গেইট আর বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে উদ্বোধন করা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এর পর গত পাঁচ বছরে গেইট আর বাউন্ডারি ওয়ালই রয়ে গেছে। আর কোন অগ্রগতি দেখেনি কক্সবাজারবাসি।
সরজমিন দেখা যায়, সাইনবোর্ড সর্বস্ব শিশুপার্কের ভেতর শীতকালীন সবজি চাষ চলছে। শিশুপার্কের পাহারাদার নিজে এই সবজি চাষ করছেন। তার কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, শিশুপার্কের কাজ কবে হবে জানি না। জায়গাটি এমনি পড়ে আছে আর আমার তেমন কাজ নেই তাই শীতকালীন সবজি চাষ করছি।
২০১৮ সালের ১ জুন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ভাবে বীচের পাশে আড়াই একর জমিতে শিশু পার্ক নির্মাণের জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন করে শিশুপার্ক নির্মানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, জমিটি শিশু পার্কের জন্য অনুমোদন করে পাঠানো হলেও কিছু জটিলতা তৈরি হওয়াতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে সাবেক জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন শিশুপার্কের জয়গার সকল জটিলতা শেষ করে ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট গেইট আর বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে উদ্বোধন করে শিশুপার্কের পূর্ণাঙ্গ রূপদিতে কক্সবাজার পৌরসভার কাছে স্থানন্তর করেন।
গত ৫ বছরের কক্সবাজার পৌরসভা এক মুঠো মাঠিও ফেলতে পারেনি। গেইট আর বাউন্ডারি ওয়ালই রয়ে গেছে। কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকতা খোরশেদ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কক্সবাজার পৌরসভা একটি আধুনিক শিশুপার্ক নির্মান করেতে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। আর্থিক জটিলতার কারণে আমার কাজ করতে পারিনি।
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহি প্রকোশলী পরাক্রম চাকমা বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের সাথে আমাদে আলোচনা হয়েছে, আমরা চেষ্টা করছি সরকারি বেসরকারি কোন প্রতিষ্টান থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেলে কাজ শুরু করে দেবো। যদি কোন প্রাইভেট প্রতিষ্টান বা কোম্পানি শিশুপার্ক নির্মানে এগিয়ে আসে আলোচনার মাধ্যমে আমরা শিশুপার্ক নির্মানের কাজ শেষ করতে চায়।
এদিকে কক্সবাজারের ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু পার্ক নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবী জেলার সর্বস্তরের মানুষের।
এ ব্যপারে খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জেলা খেলাঘর আসরের সহ সভাপতি, শিক্ষিকা উৎপলা বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে বলেন, কক্সবাজার দেশের পর্যটন জেলা, বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। তাই বিশ্ববাসী এই জেলাকে খুবই সমাদরের চোখে দেখে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখানে বিনোদনের জন্য সমুদ্র সৈকত ছাড়া তেমন আর কিছুই নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই জেলার মানুষের প্রাণের দাবী একটি শিশু পার্কের।
কক্সবাজার জেলা খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলাতে শিশু পার্ক আছে শুধু পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নেই। আমাদের শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য একটি শিশুপার্ক অপরিহার্য, তাই দ্রুত কক্সবাজারে একটি শিশু পার্ক নিমার্ণের দাবী জানান তিনি।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন সভা সেমিনারে আমরা শিশুদের জন্য অনেক কথা বলি, তাদের জন্য সবাই অনেক মায়া কান্না করি। কিন্তু সেই সভা থেকে বের হয়ে সবাই সব কথা ভুলে যায়। শিশু পার্কের জন্য আমরা অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আলোর মুখ দেখছি না। আসলে আমরা বড়ই অভাগা, জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে এমন কোন নেতা আমাদের নাই।
কক্সবাজার প্রভাতী শিশুশিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক বুলবুল এ জান্নাত বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েদের কথা আমরা অনুভব করি তাদের খেলার মাঠ কমে যাচ্ছে, বিনোদনের জন্য এই শহরে তেমন কিছু নেই। তাই আর কাল বিলম্ব না করে জরুরী ভিত্তিতে একটি শিশু পার্ক গড়ে তোলা দাবি জানাচ্ছি।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

৭ বছরে গেইট আর বাউন্ডারি ওয়ালে সীমাবদ্ধ শিশুপার্ক

আপডেট সময় : ০৩:১১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
সৈকত নগরী কক্সবাজারের নেই কোন শিশুপার্ক। দুই দফায় ৮ বছরে আলোর মুখ দেখেনি কক্সবাজার শিশুপার্ক নির্মাণ কাজ। জেলাবাসীর এই প্রাণের দাবীটি, আদৌ পূর্ণতা পাবে কিনা সেটা নিয়েও আছে যথেস্ট সংশয়।
কক্সবাজারে ব্যাপক উন্নয়ন যজ্ঞের ডামাডোলে ও আলোর মুখ দেখেনি এই শিশুপার্কটি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১৮ সালের ১ জুন শহরের বিয়াম ফাউন্ডেশন সংলগ্ন মাঠে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে জমি জটিলতার পার করে দুই বছর। পরবর্তী ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট গেইট আর বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে উদ্বোধন করা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এর পর গত পাঁচ বছরে গেইট আর বাউন্ডারি ওয়ালই রয়ে গেছে। আর কোন অগ্রগতি দেখেনি কক্সবাজারবাসি।
সরজমিন দেখা যায়, সাইনবোর্ড সর্বস্ব শিশুপার্কের ভেতর শীতকালীন সবজি চাষ চলছে। শিশুপার্কের পাহারাদার নিজে এই সবজি চাষ করছেন। তার কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, শিশুপার্কের কাজ কবে হবে জানি না। জায়গাটি এমনি পড়ে আছে আর আমার তেমন কাজ নেই তাই শীতকালীন সবজি চাষ করছি।
২০১৮ সালের ১ জুন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ভাবে বীচের পাশে আড়াই একর জমিতে শিশু পার্ক নির্মাণের জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন করে শিশুপার্ক নির্মানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, জমিটি শিশু পার্কের জন্য অনুমোদন করে পাঠানো হলেও কিছু জটিলতা তৈরি হওয়াতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে সাবেক জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন শিশুপার্কের জয়গার সকল জটিলতা শেষ করে ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট গেইট আর বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে উদ্বোধন করে শিশুপার্কের পূর্ণাঙ্গ রূপদিতে কক্সবাজার পৌরসভার কাছে স্থানন্তর করেন।
গত ৫ বছরের কক্সবাজার পৌরসভা এক মুঠো মাঠিও ফেলতে পারেনি। গেইট আর বাউন্ডারি ওয়ালই রয়ে গেছে। কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকতা খোরশেদ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কক্সবাজার পৌরসভা একটি আধুনিক শিশুপার্ক নির্মান করেতে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। আর্থিক জটিলতার কারণে আমার কাজ করতে পারিনি।
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহি প্রকোশলী পরাক্রম চাকমা বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের সাথে আমাদে আলোচনা হয়েছে, আমরা চেষ্টা করছি সরকারি বেসরকারি কোন প্রতিষ্টান থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেলে কাজ শুরু করে দেবো। যদি কোন প্রাইভেট প্রতিষ্টান বা কোম্পানি শিশুপার্ক নির্মানে এগিয়ে আসে আলোচনার মাধ্যমে আমরা শিশুপার্ক নির্মানের কাজ শেষ করতে চায়।
এদিকে কক্সবাজারের ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু পার্ক নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবী জেলার সর্বস্তরের মানুষের।
এ ব্যপারে খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জেলা খেলাঘর আসরের সহ সভাপতি, শিক্ষিকা উৎপলা বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে বলেন, কক্সবাজার দেশের পর্যটন জেলা, বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। তাই বিশ্ববাসী এই জেলাকে খুবই সমাদরের চোখে দেখে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখানে বিনোদনের জন্য সমুদ্র সৈকত ছাড়া তেমন আর কিছুই নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই জেলার মানুষের প্রাণের দাবী একটি শিশু পার্কের।
কক্সবাজার জেলা খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলাতে শিশু পার্ক আছে শুধু পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নেই। আমাদের শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য একটি শিশুপার্ক অপরিহার্য, তাই দ্রুত কক্সবাজারে একটি শিশু পার্ক নিমার্ণের দাবী জানান তিনি।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন সভা সেমিনারে আমরা শিশুদের জন্য অনেক কথা বলি, তাদের জন্য সবাই অনেক মায়া কান্না করি। কিন্তু সেই সভা থেকে বের হয়ে সবাই সব কথা ভুলে যায়। শিশু পার্কের জন্য আমরা অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আলোর মুখ দেখছি না। আসলে আমরা বড়ই অভাগা, জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে এমন কোন নেতা আমাদের নাই।
কক্সবাজার প্রভাতী শিশুশিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক বুলবুল এ জান্নাত বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েদের কথা আমরা অনুভব করি তাদের খেলার মাঠ কমে যাচ্ছে, বিনোদনের জন্য এই শহরে তেমন কিছু নেই। তাই আর কাল বিলম্ব না করে জরুরী ভিত্তিতে একটি শিশু পার্ক গড়ে তোলা দাবি জানাচ্ছি।