লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এবার হাতেনাতে
ধরা পড়া চোরের ‘চাঁদাবাজির মামলায়’ বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন।
ঋণ নিয়ে স্থানীয় পাড়ার দোকানে ব্যবসা করে সংসার চলছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করে
একদিন চোরের হানা। একে একে চার বার দোকান চুরি হয় তার। অতিষ্ঠ হয়ে
চোরকে ধরতে পাতেন ফাঁদ। সেই ফাঁদে পা দেয় চোর, ধরাও পড়ে। নিয়ে যাওয়া সকল
মালামাল ফেরতের প্রতিশ্রুতিতে স্থানীয় গণ্যমান্যদের মধ্যস্থতায় ছাড়া পায় সেই
চোর।
এরপরই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেন
ব্যাবসায়ী জসিমের বিরুদ্ধে। ওই মামলা নিয়ে এ ব্যবসায়ী এখন পড়েছেন চরম
বিপাকে। ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ভক্তপাড়া এলাকার।
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন জানান, গত ৬ আগস্টের পর তার দোকানে চারবার চুরির
ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় চোর নগদ অর্থসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল
নিয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে চোরকে ধরতে কৌশল আঁটেন তিনি। কৌশলের অংশ
হিসেবে গত ২৩ নভেম্বর রাতে দোকানের কপাট তালাবদ্ধ করে তিনি ভেতরে লুকিয়ে
থাকেন। রাত ১২টার দিকে প্রতিবেশী খলিল মাঝির ছেলে মো. রাজু (২৭) দোকানের
মাচা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় দোকানে লুকিয়ে থাকা জসিম চুরির
পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি রাজুকে হাতেনাতে ধরে
ফেলেন। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে রাজু চুরির বিষয়টি স্বীকার করে। চুরির টাকা
জসিমকে ফেরৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন খলিল।
পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু লোকের ইন্ধনে খলিল দোকান মালিক জসিমসহ তার
পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। আদালত
মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কমলনগর থানাকে নির্দেশ
দেন। জসিম বলেন, ‘মামলার পর থেকে বাদী ও তার লোকজন আমাদেরকে বিভিন্নভাবে
হুমকি দিচ্ছে। করছে হয়রানিও। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করলেই মূল ঘটনা ওঠে আসবে। ওই
এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আবুল কাশেম, মো. সবুজ ও
স্থানীয় মসজিদের সেক্রেটারি আব্দুল হাইসহ আরও অনেকে জানান, চুরির সময়
রাজুকে হাতেনাতে ধরে জসিম তাদরকে খবর দেন। ওই সময় রাজু পূর্বেও জসিমের
দোকানে চুরি করে টাকা ও মালামাল হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করে, যা উপস্থিত
সকলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে রাজুর বাবা খলিলকে খবর দিলে তার
সামনেও রাজু চুরির কথা স্বীকার করে। এ সময় খলিল মাঝি ১৫দিনের মধ্যে চুরির
টাকাগুলো পরিশোধ করবে এমন আশ্বাস দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে নাটক
সাজিয়ে খলিল উল্টো জসিম ও তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মামলা করেন। জসিমের বড়
ভাই মহিউদ্দিন বলেন, ‘মিথ্যা মামলা করেই খলিল ও তার ছেলে ক্ষান্ত হয়নি। ওখানে
ব্যবসা করতে হলে রাজুকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে বলে তারা প্রকাশ্যে হুমকি
দিচ্ছে।’ অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য নিতে অভিযুক্ত রাজুর মোবাইলে একাধিকবার
কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন,
‘আদালতের নির্দেশে খলিল মাঝির করা মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া
হয়েছে। তদন্তে বাদীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবী করেন তিনি।’























