কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসিদের। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সেবা নিতে আসা হাজার হাজার নাগরিক সারাদিন দৌড়াদৌড়ি এটেবিল ওটেবিল ঘুরে, সময় ব্যয় করে সঠিক সময়ে তাদের কাজ হচ্ছে না। আছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
রোহিঙ্গাদের ভোটার হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও। প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে আমরা কক্সবাজারবাসি সহ বিভিন্ন সংগঠন।
কক্সবাজার পৌরসভার দায়িত্বে থাকা প্রশাসক বলছেন, রোহিঙ্গা চিহ্নিত করা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করাসহ কিছু জটিলতার কারণে সেবা পেতে ভোগান্তি হচ্ছে।
কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের স্হায়ী বাসিন্দা মীর কাশেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে ভোটার করার জন্য জাতীয়তা সনদ ও প্রত্যায়ন পত্র নিতে এসে আজ ৬ দিন পযন্ত ঘুরছি কাজ হয়নি এখনো। দায়িত্ব প্রাপ্তদের সাথে কথা বলাও যাচ্ছে না। কবে পাবো জানিনা।
৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমান উল্লাহ বলেন, জাতীয়তা সনদ ও প্রত্যায়ন পত্রের জন্য যথাযত নিয়ম মেনে আবেদন করে ও চার দিন ঘুরছি কোন সদুত্তর পাচ্ছি না। সনদ গুলো কবে পাবো তাও জানি না।
৩ নং ওয়ার্ড থেকে আগত কামাল উদ্দিন বলেন, ১০ টাকার ফরম, ২০ টাকা টোকেন, ব্যংকে টাকা জমা, ব্যংকের টাকা জমা দিতে স্লিপ ও টাকা দিয়ে নিতে হলো। তারপর লাইধরে স্বাক্ষর সংগ্রহ, ফরম ফাইল করতে টাকা সব মিলিয়ে যদি কাজ হতো আক্ষেপ থাকতো না। এখন ঘুরছি ফাইল প্রশাসকের কাজ থেকে আসলে পাওয়ার আশায়। অথচ আজ ২ জানুয়ারি, আগামীকাল ভোটার হওয়ার সময় শেষ হচ্ছে, যে ভাবে পৌরসভায় ঝুলে আছি মনে হয় আমার মেয়েকে ভোটার করাতে পারবো না।
২ জানুয়ারি, রবিবার, বেলা ১১টার সময় সরজমিন দেখা যায় লোকে লোকারণ্য কক্সবাজার পৌরসভা।
এতে পৌর ভবনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজারও মানুষের ভিড়। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দায়িত্ব প্রাপ্তরা যথাযথ অফিস করছেন না। একেকজনকে একাধিক ওর্য়াডের দায়িত্ব দেয়ায় কাজের চাপে রোহিঙ্গারাও সনদ পেয়ে ভোটার হওয়ার সুয়োগ পেতে পারে বলে শঙ্কা তাদের।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, ১৭ জন নির্বাচিত জন প্রতিনিধি এলাকার মানুষকে চিনতেন, জানতেন। তারা না থাকায় রোহিঙ্গা যাচাই-বাছাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপর ও আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি কোন রোহিঙ্গা যেন ভোটার হতে না পারে। আমাদের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মচারিরা এবিষয়ে সজাগ আছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ কক্সবাজারের নাগরিক ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, এক সাথে এতো মানুষ তাদের প্রত্যায়ন পত্র, জাতীয়তা সনদ সংগ্রহের জন্য ভিড় করছেন এতে করে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব নাগরিক সেবা দিতে।
সৈকত-পাহাড় বেষ্টিত পর্যটন শহর কক্সবাজার পৌরসভার জনসংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি। কলাতলির বড়ছড়া থেকে সমুদ্র সৈকতের হোটেল-মোটেল জোন হয়ে নাজিরারটেক সমিতি পাড়া হয়ে সদর উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে এ পৌরসভা। নারীসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন ১৭ জন। রাষ্ট্রের পট পরিবর্তনে সরকারের নির্দেশে বাতিল করা হয় মেয়র ও কাউন্সিলরদের। পৌরসভাকে গতিশীল করতে দায়িত্ব দেয়া হয় প্রশাসক ও কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীদের।




















