০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভুয়া প্রেসক্রিপশন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ চিকিৎসকের সিল-স্বাক্ষর ছাড়া ওষুধ দেয়া বন্ধ, তদন্ত কমিটি

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বর্হিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে চিকিৎসকের সিল-স্বাক্ষর ছাড়া সরকারি ওষুধ বিতরণ করা হবে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফার্মেসি বিভাগে দায়িত্বরতদের এমন নিদের্শনা দিয়েছেন। ফলে নিয়মনীতি মেনেই সরকারি ওষুধ নিতে হচ্ছে রোগীদের। তবে ভুয়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন চক্র বিপাকে পড়েছেন। তারা চিকিৎসক সেজে স্বাক্ষর করা প্রেসক্রিপশন ও টোকেন নিয়ে ফার্মেসি থেকে সরকারি ওষুধ উত্তোলন করতে পারছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে , ভুয়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ উত্তোলন নিয়ে গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিদের্শনাটি জারির পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ২৬ জানুয়ারি আয়শা নামে চিকিৎসকের সই করা প্রেসক্রিপশনে রোগীর নামও ছিলো আয়শা। তিনি বর্হিবিভাগের ১১০ নম্বর কক্ষে ডাক্তার দেখিয়েছেন বলে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ রয়েছে। নার্সিং ইনস্টিটিউটের আয়শা নামের এক প্রশিক্ষণার্থী সেবিকা সরকারি ওষুধ তোলার জন্য প্রেসক্রিপশনে নিজেই ডাক্তারের সই করেছেন।  প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে লেখা ওষুধগুলো ছিলো ক্যালবো ৫০০,ওমেপ ২০, ফেক্সো ১২০ ও মেটরো ৪০০। বাস্তবে হাসপাতালে আয়শা নামে কোন চিকিৎসক নেই।

গত ২৫ জানুয়ারি নুসরাত নামে আরেক প্রশিক্ষর্ণাথী সেবিকা প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে ডাক্তার মাধবী রানীর সই নকল করে ফার্মেসিতে ওষুধ তুলতে আসেন। পরে ফার্মেসিতে দায়িত্বরত কর্মচারী ভুয়া সই নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি ওষুধ না নিয়ে চলে যান। এভাবে প্রতিদিন একটি চক্র ভুয়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও টোকেন নিয়ে সরকারি মূল্যবান ওষুধ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের কতিপয় সেবিকা, কর্মচারি, মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট ও প্রশিক্ষণার্থী সেবিকারা চক্রের সাথে জড়িত। এ নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতাল ফার্মেসির ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণার্থী সেবিকা ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের লেখা অসংখ্য টোকেন নিয়ে একটি চক্র ওষুধ নিতে ফার্মেসিতে আসতেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসকের স্বাক্ষর করা এমন প্রেসক্রিপশনের দেখা মেলেনি। মনে হচ্ছে ভুয়া চক্রের সদস্যরা বিপাকে রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের মাঝে ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আ ন ম বজলুর রশীদ টুলু জানান, ভুয়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে সরকারি ওষুধ উত্তোলন করা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে চিকিৎসকের সিল-স্বাক্ষর ছাড়া কোন রোগীর ওষুধ না দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা.হিমাদ্রী শেখর সরকার জানান, ভুয়া প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে সরকারি উত্তোলন নিয়ে  গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদনটি আমলে নেয়া হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য গত ২৯ জানুয়ারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারাকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকিরা হলেন সদস্য যশোর নার্সিং ইসন্সিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর আরজিনা খাতুন, জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রাহিমা বেগম ও সদস্য সচিব আরএমও ডা. আ ন ম বজলুর রশীদ। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

ভুয়া প্রেসক্রিপশন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ চিকিৎসকের সিল-স্বাক্ষর ছাড়া ওষুধ দেয়া বন্ধ, তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ০৪:৩২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বর্হিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে চিকিৎসকের সিল-স্বাক্ষর ছাড়া সরকারি ওষুধ বিতরণ করা হবে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফার্মেসি বিভাগে দায়িত্বরতদের এমন নিদের্শনা দিয়েছেন। ফলে নিয়মনীতি মেনেই সরকারি ওষুধ নিতে হচ্ছে রোগীদের। তবে ভুয়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন চক্র বিপাকে পড়েছেন। তারা চিকিৎসক সেজে স্বাক্ষর করা প্রেসক্রিপশন ও টোকেন নিয়ে ফার্মেসি থেকে সরকারি ওষুধ উত্তোলন করতে পারছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে , ভুয়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ উত্তোলন নিয়ে গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিদের্শনাটি জারির পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ২৬ জানুয়ারি আয়শা নামে চিকিৎসকের সই করা প্রেসক্রিপশনে রোগীর নামও ছিলো আয়শা। তিনি বর্হিবিভাগের ১১০ নম্বর কক্ষে ডাক্তার দেখিয়েছেন বলে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ রয়েছে। নার্সিং ইনস্টিটিউটের আয়শা নামের এক প্রশিক্ষণার্থী সেবিকা সরকারি ওষুধ তোলার জন্য প্রেসক্রিপশনে নিজেই ডাক্তারের সই করেছেন।  প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে লেখা ওষুধগুলো ছিলো ক্যালবো ৫০০,ওমেপ ২০, ফেক্সো ১২০ ও মেটরো ৪০০। বাস্তবে হাসপাতালে আয়শা নামে কোন চিকিৎসক নেই।

গত ২৫ জানুয়ারি নুসরাত নামে আরেক প্রশিক্ষর্ণাথী সেবিকা প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে ডাক্তার মাধবী রানীর সই নকল করে ফার্মেসিতে ওষুধ তুলতে আসেন। পরে ফার্মেসিতে দায়িত্বরত কর্মচারী ভুয়া সই নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি ওষুধ না নিয়ে চলে যান। এভাবে প্রতিদিন একটি চক্র ভুয়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও টোকেন নিয়ে সরকারি মূল্যবান ওষুধ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের কতিপয় সেবিকা, কর্মচারি, মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট ও প্রশিক্ষণার্থী সেবিকারা চক্রের সাথে জড়িত। এ নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতাল ফার্মেসির ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণার্থী সেবিকা ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের লেখা অসংখ্য টোকেন নিয়ে একটি চক্র ওষুধ নিতে ফার্মেসিতে আসতেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসকের স্বাক্ষর করা এমন প্রেসক্রিপশনের দেখা মেলেনি। মনে হচ্ছে ভুয়া চক্রের সদস্যরা বিপাকে রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের মাঝে ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আ ন ম বজলুর রশীদ টুলু জানান, ভুয়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে সরকারি ওষুধ উত্তোলন করা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে চিকিৎসকের সিল-স্বাক্ষর ছাড়া কোন রোগীর ওষুধ না দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা.হিমাদ্রী শেখর সরকার জানান, ভুয়া প্রেসক্রিপশন ও টোকেনে সরকারি উত্তোলন নিয়ে  গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদনটি আমলে নেয়া হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য গত ২৯ জানুয়ারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারাকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকিরা হলেন সদস্য যশোর নার্সিং ইসন্সিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর আরজিনা খাতুন, জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রাহিমা বেগম ও সদস্য সচিব আরএমও ডা. আ ন ম বজলুর রশীদ। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।