নাগরিক সেবার ভোগান্তির নাম রংপুর সিটি কর্পোরেশন। আওয়ামী লীগ সরকারের
পতনের পর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউিিন্সলরদের অপসারণ করার পর চরম ভোগান্তিতে পড়ে
নগরবাসী। রংপুর সিটি কর্পোরেশন ভবনে সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়েই
ফিরে যাচ্ছেন মানুষ। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতাগণ নিজ দপ্তরে ব্যস্ত থাকার কারণে নাগরিক সেবায়
চরম দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেবা নিতে এসে নগরবাসীর ফিরে যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
প্রায় প্রতিদিনই তালাবদ্ধ থাকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কার্যালয়। এছাড়া ওয়ার্ড
কাউন্সিলরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারাও নিজেদের দাপ্তরিক কাজের চাপে সময় দিতে
পারছেন না। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ২০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রংপুর সিটির মানুষ।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুদিন পর রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ ৩৩টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের
অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তীকালিন সরকার। একসঙ্গে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে
প্রশাসক ও বিভিন্ন দপ্তরের ১৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ৩৩টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব দেওয়া
হয়। কর্মকর্তারা নিজেদের দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে সিটি কর্পোরেশনে তেমন আসতেই পারেন
না। এতে জন্মসনদ, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশন সনদ, নাগরিকত্ব-জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসহ জরুরি
সেবাসমুহ পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। দিনের পর দিনেও সমস্যার সমাধান করতে
পারছেন না। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের চারটি ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তা
বিটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মালেক ও এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুল ওহাব
খান নিজ দপ্তরের কাজের চাপে সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। এ অবস্থায়
অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে সিটি কর্পোরেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম। উন্নয়ন কাজও ব্যাহত
হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধকের কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের উপচে পড়া ভিড়
দেখা যাচ্ছে। অনেকে অনলাইনে আবেদন করে কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের
দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার প্রত্যায়ন না থাকায় সনদ ছাড়াই ফিরে যাচ্ছে তারা। নাগরিকত্ব সনদ
নিতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, তিন দিন নগর ভবনে এসে কাউকে না পেয়ে পরে নগর ভবন থেকে
সনদের ফরম ক্রয় করে ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী
আজাদ হোসেনের কার্যালয়ে যাওয়ার পর প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার নাগরিকত্ব সনদের স্বাক্ষর
পেয়েছেন। মহাদেবপুর এলাকার উত্তম কুমার ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, কাউন্সিলর না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত
কর্মকর্তাদের পেছনে ছুটতে সময় ও অর্থ দুইটাই ব্যয় হচ্ছে। তার পর সেবা মিলছে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রংপুর মহানগর সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, সিটি
কর্পোরেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সবাই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী। তাদের
দাপ্তরিক কাজের বাইরে নাগরিক সেবার কাজ সঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। যতটুকু সেবা
দিচ্ছেন, তা একেবারে অপ্রতুল। সামনে জনদুর্ভোগ বাড়বে। সিটি কর্পোরেশনের জন্ম-মৃত্যু
নিবন্ধক বলেন, প্রতিদিন ভিড় থাকলেও কর্মকর্তাদের প্রত্যায়ন না থাকায় সনদ দিতে সমস্যা
হচ্ছে। এছাড়া সার্ভারের সমস্যা তো আছেই। রংপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক
প্রকৌশলী এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেন,
ওয়ার্ডগুলোতে জানানো হয়েছে কোনো সেবা প্রয়োজন হলে অফিস সময়ে আমার অধিদপ্তরের
কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় আসতে। সিটি কর্পোরেশনে দাঁড়িয়ে থাকা সেবাপ্রার্থীরা হয়তো
এ তথ্য না জানায় সেখানে অপেক্ষা করেছেন। ৯, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সিটি
কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, প্রথম দিকে কিছু সমস্যা
হলেও বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদসহ সার্বিক বিষয়ে দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা
হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসক দিয়ে জনপ্রতিনিধির
কাজ চালানো সম্ভব নয়। প্রশাসকদের অনেক আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে। জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে
তা নেই। তার পরও কোনো কাজ ফেলে রাখি না। আর কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা তো হতেই পারে।
শিরোনাম
রংপুর সিটি কর্পোরেশনে নাগরিক সেবার চরম ভোগান্তি
-
রংপুর ব্যুরো - আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- ।
- 53
জনপ্রিয় সংবাদ




















