আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। বাড়িঘরে হামলা,গরু লুট ও ক্লিনিক ব্যবসার অংশীদার করার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও একটি সি.আর মামলায় ৮ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেক্রেটারী পদ থেকে বহিস্কৃত এই জামায়াত নেতা। অপরদিকে ইটভাটা নির্মাণে অন্যের জমি লীজ নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করেই জোরপূর্বক দখল করে রাখারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জেলার মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম বুরুঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. নবীন বলেন, গেল ২০১৮ সালে বহিস্কৃত জামায়াত নেতা মো.হারুনুর রশিদ জোরপূর্বকভাবে ইটভাটা করার জন্য তাদের কাছ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত লীজ নেন। চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষে হয়ে গেলেও হারুন ওই জায়গা প্রকৃত মালিকদের ফেরত না দিয়ে অন্য একজনের কাছে লীজ দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জানুয়ারী মাসে নবীন তার জমিতে গেলে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক আহম্মেদকে দিয়ে তাকে ও তার এক ভাতিজাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে জেল হাজাতে প্রেরণ করেন। দীঘদিন জেল খেটে বের হয়ে নবীন তার জায়গাটি ফিরিয়ে দিতে জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদকে অনুরোধ করতে থাকেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হারুন তার সন্ত্রাসী বাহিনীদের দিয়ে গত জানুয়ারীর ৯ তারিখে নবীনের অনুপস্থিতিতে তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাড়িঘর তছনছ করেন। এসময় তারা নবীনের নৈশ প্রহরীকে জিম্মি করে তার গোয়াল ঘরে থাকা আটটি গরু নিয়ে যায়। এঘটনায় মেলান্দহ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন নবীন।
জানা যায়, জামাত নেতা মো.হারুনুর রশিদ বিভিন্ন পন্থায় স্থানীয় লোকদের কাছে থেকে ব্যবসার অংশীদারের কথা বলে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তা ছাড়াও ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল আদালত একটি সি.আর মামলায় হারুনকে ৮ মাসের সাজা প্রদান করলেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এব্যাপারে মেলান্দহ থানার ওমি মো. মাসুদুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি থাকলে তাকে দ্রæত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি চুক্তি করে বৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করেছি।
জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মো. খলিলুর রহমান বলেন, দলীয় নীতি বহির্ভূত কাজের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ইতিমধ্যেই সেক্রেটারি পদ থেকে নামিয়ে সদস্য পদে অবনমন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















