১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে আতাউর রহমান আতার পদত্যাগ

নবগঠিত মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটি মূলত একটি পকেট কমিটি, যেখানে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত সাত সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আফরোজা খান রিতাকে আহ্বায়ক এবং এস এ জিন্নাহ কবির, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, আতাউর রহমান আতা, অ্যাডভোকেট আ.ফ.ম নুরতাজ আলম বাহার, সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন ও গোলাম আবেদিন কায়সারকে সদস্য করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আতাউর রহমান আতা বলেন, আমি জেলা বিএনপির সবচেয়ে সিনিয়র ব্যক্তি। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করছি। দীর্ঘ ছয় বছর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাত বছর সভাপতি, দুইবার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ আমাকে নতুন কমিটিতে তৃতীয় নম্বর সদস্য করা হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার সামিল।
তিনি আরও বলেন, এই কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আহ্বায়কের ঘনিষ্ঠদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। গোলাম আবেদিন কায়সার ১৫ বছর দেশের বাইরে ছিলেন, অথচ তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিবালয়ের সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজনেরও নিজস্ব কোনো কর্মী-সমর্থক নেই, তবুও তাকে রাখা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, এই কমিটি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গঠন করা হয়নি।”
আতাউর রহমান আতা বলেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, জেল-জুলুম সহ্য করেছি। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লিফলেট বিতরণের সময় গ্রেফতার হয়েছিলাম। তবুও আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হলো। ঢাকার কিছু বড় নেতা টাকার বিনিময়ে যোগ্য নেতাদের বঞ্চিত করে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রয়াত নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে বাবলুকে কমিটিতে রাখা হয়নি। সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্তকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কমিটিতে কোনো সদস্য সচিবও রাখা হয়নি। যাতে তিনি ইচ্ছামত কোন কমিটি অনুমোদন কিংবা ভাঙতে পারেন। আর আমি বাদে বাকি সদস্যগুলো তার আস্থাভাজন।
তিনি বলেন, অবিচারের প্রতিবাদে আমি আহ্বায়ক কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। তবে বিএনপির প্রতি আমার আনুগত্য অব্যাহত থাকবে। দলীয় আদর্শ ও জনগণের স্বার্থে আমি কাজ চালিয়ে যাব।
সংবাদ সম্মেলনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, মোতালেব হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হোসেন মহব্বতসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

মানিকগঞ্জে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে আতাউর রহমান আতার পদত্যাগ

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
নবগঠিত মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটি মূলত একটি পকেট কমিটি, যেখানে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত সাত সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আফরোজা খান রিতাকে আহ্বায়ক এবং এস এ জিন্নাহ কবির, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, আতাউর রহমান আতা, অ্যাডভোকেট আ.ফ.ম নুরতাজ আলম বাহার, সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন ও গোলাম আবেদিন কায়সারকে সদস্য করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আতাউর রহমান আতা বলেন, আমি জেলা বিএনপির সবচেয়ে সিনিয়র ব্যক্তি। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করছি। দীর্ঘ ছয় বছর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাত বছর সভাপতি, দুইবার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ আমাকে নতুন কমিটিতে তৃতীয় নম্বর সদস্য করা হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার সামিল।
তিনি আরও বলেন, এই কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আহ্বায়কের ঘনিষ্ঠদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। গোলাম আবেদিন কায়সার ১৫ বছর দেশের বাইরে ছিলেন, অথচ তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিবালয়ের সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজনেরও নিজস্ব কোনো কর্মী-সমর্থক নেই, তবুও তাকে রাখা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, এই কমিটি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গঠন করা হয়নি।”
আতাউর রহমান আতা বলেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, জেল-জুলুম সহ্য করেছি। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লিফলেট বিতরণের সময় গ্রেফতার হয়েছিলাম। তবুও আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হলো। ঢাকার কিছু বড় নেতা টাকার বিনিময়ে যোগ্য নেতাদের বঞ্চিত করে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রয়াত নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে বাবলুকে কমিটিতে রাখা হয়নি। সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্তকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কমিটিতে কোনো সদস্য সচিবও রাখা হয়নি। যাতে তিনি ইচ্ছামত কোন কমিটি অনুমোদন কিংবা ভাঙতে পারেন। আর আমি বাদে বাকি সদস্যগুলো তার আস্থাভাজন।
তিনি বলেন, অবিচারের প্রতিবাদে আমি আহ্বায়ক কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। তবে বিএনপির প্রতি আমার আনুগত্য অব্যাহত থাকবে। দলীয় আদর্শ ও জনগণের স্বার্থে আমি কাজ চালিয়ে যাব।
সংবাদ সম্মেলনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, মোতালেব হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হোসেন মহব্বতসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।