কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার গুজবে লাফ দিয়েছেন এক দম্পতি। এ সময় তারা গুরুতর আহত হন। তাদের কোলে থাকা ৮ মাস বয়সের হামদান নামে এক শিশু মারা গেছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনের লোহাগাড়া রশিদার পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন কক্সবাজার সদর পিএমখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড হাংগুর ঘোনা এলাকার সোলতান আহমদের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩০) এবং তার স্ত্রী লিজা আক্তার (২০)।এ প্রসঙ্গে লোহাগাড়া রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার দিদার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেসের ‘ড‘ বগিতে শর্ট সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেন লোহাগাড়া স্টেশনে পৌঁছার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে। পরে স্বাভাবিক হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ট্রেন।স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ট্রেন চলে যাওয়ার পর অন্ধকারে চিৎকার শোনে টর্চ লাইটের আলোতে মায়ের কোলে শিশু সন্তানকে জড়িয়ে থাকাবস্থায় দুজনকে দেখা যায়। এ সময় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে শিশু সন্তানটি মৃত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।আহত লিজা আক্তার বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন বাপের বাড়ি বাঁশখালীতে বেড়াতে এসেছিলাম। আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার সময় শ্বশুরবাড়ি কক্সবাজারের উদ্দেশ্য প্রবাল এক্সপ্রেসের একটি বগিতে করে রওনা দিই। লোহাগাড়া স্টেশনে পৌঁছানোর আগে ট্রেনে আগুন ধরছে বলে সবাই এদিক–ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে। প্রাণে বাঁচতে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ি আমরা।লিজার মা মোরশেদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে আসে। স্বামীর সাথে ট্রেনে করে শ্বশুরবাড়ি চলে যাবার সময় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্খ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: শিমুল দত্ত বলেন, কয়েকজন যুবক ৮ মাস বয়সী এক শিশু সন্তানসহ ৩ জনকে আহতবস্থায় নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে শিশুটি ঘটনাস্থালে মারা গিয়েছিল। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।লোহাগাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার মো. জাহেদ হোসেন বলেন, ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে এক শিশু নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল করেছে।























