বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের প্রতি চলমান বৈষম্য নিরসন ও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার হাতে জড়ো হন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং,ইইসিই,সিএসই,ইইই ও আইসিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা “বৈষম্যের অবসান চাই”, “ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার ফিরিয়ে দাও”এই স্লোগানে মুখর করে তোলেন ফটকের সামনের প্রাঙ্গণ।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, “বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা চার বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে একটি পেশাদার ডিগ্রি অর্জন করেন। অথচ কর্মক্ষেত্রে তাদের অবমূল্যায়ন ও পদমর্যাদায় বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এটা শুধু অযৌক্তিক নয়, এটি আমাদের পেশাগত সম্মানহানিকর।”
এসময় শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি পেশ করেন। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে –
১. ৯ম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সবাইকে একইভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কোটার ভিত্তিতে কিংবা অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করে পদোন্নতি দেওয়া চলবে না।
২. ১০ম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় ডিগ্রিধারীদের জন্য পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না—এই মর্মে আইন পাস করে গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাহের। তিনি বলেন, “আমরা চার বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম, পরীক্ষা আর প্র্যাকটিক্যালের মধ্য দিয়ে প্রকৌশল শিক্ষা সম্পন্ন করি। শুধু ডিগ্রি নয়, আমরা একটি পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করি—‘ইঞ্জিনিয়ার’। কিন্তু সেই পরিচয়ের যথাযথ সম্মান কোথাও পাচ্ছি না। কর্মক্ষেত্রে আমাদের অবমূল্যায়ন করা হয়, অনেকক্ষেত্রে যারা প্রকৃত অর্থে ইঞ্জিনিয়ার নন, তারাও আমাদের সমান মর্যাদা পান কিংবা বেশি সুযোগ পান। এটা কেবল অন্যায় নয়, এটা আমাদের শিক্ষাজীবনের প্রতি অবজ্ঞা, পরিশ্রমের প্রতি অসম্মান।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা চাই, সবাই যেন যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষা দিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করে। কোটার নামে বা অন্য কোনো কৌশলে যেন কেউ অগ্রাধিকার না পায়। এমন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা আমাদের মতো প্রকৃত ডিগ্রিধারীদের মনোবল ভেঙে দেয়।”
ইলেক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মেহরাফ হোসেন বলেন, “আমরা যখন ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবির মর্যাদা নিয়ে কথা বলি, তখন সেটা কেবল একটি শব্দ নয়। এটা আমাদের পরিচয়, আমাদের শ্রম, আমাদের দক্ষতার প্রতিফলন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, যাদের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি নেই, তারাও নিজেদের নামের সঙ্গে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করছে। এটা শুধু বিভ্রান্তিকর নয়, বরং আমাদের পেশাগত মর্যাদার জন্য হুমকি। আমরা চাই, সরকার এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইন করুক এবং গেজেট প্রকাশ করে এটি বাধ্যতামূলক করুক।”




















