০৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় জনতা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গাড়ি জব্দ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির১৭৮ বস্তা চাল অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।গত সোমবার রাতে স্থানীয় জনতা ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে কালিয়াপাড়া বাজার থেকে গৌরিপুরের দিকে যাওয়া একটি চালবোঝাই গাড়ি আটক করা হয়।
ঘটনার সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের দত্তপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা একটি সন্দেহজনক গাড়ি আটক করেন।গাড়িতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১৭৮ বস্তা চাল (প্রতি বস্তা ৩০ কেজি)পাওয়া যায়।স্থানীয়রা গাড়ি থামিয়ে চালের উৎস জিজ্ঞাসা করলে চালক ও সহযোগীরা সরকারি চাল বলে স্বীকার করেন।
বিষয়টি নজরে আসার পর চালক গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বেলালাবাদ দত্তপুর এমএন ফিলিং স্টেশনের কাছে গাড়িটি জব্দ করা হয়। নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানে গাড়ি ও চাল থানায় জমা দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি,চালগুলি কালিয়াপাড়া বাজারের খাদ্য বান্ধব ডিলার দেলোয়ার হোসেন রিপনের গুদাম থেকে তোলা হয়েছে।অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারি বস্তা থেকে চাল পুনর্ব্যবহার করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন,“রাতে গোপনে একটা ট্রাক কালিয়াপাড়া বাজার থেকে চাল উঠাইতেছে শুনি।সন্দেহ হইলে স্থানীয় কয়েকজন মিলে গিয়ে দত্তপুর এলাকায় ট্রাকটারে থামাই দেয়। জিজ্ঞাসা করলে চালক প্রথমে অস্বীকার করে,পরে স্বীকার করে এইটা সরকারী চাল।”
হাজেরা বেগম নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,“আমরা কম টাকায় এসব চাল নিয়া বাঁচি।এখন দেখি সেই চাল লোকে চুরি করে বেইচা দিচ্ছে!এইটা তো গরিবের সঙ্গে জুলুম।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, কালিয়াপাড়া বাজারের তিনজন ব্যবসায়ী-আবু বক্কর ছিদ্দিক,মোস্তফা কামাল ও হারুন-অর-রশিদের দোকান থেকেই এই চাল তোলা হয়েছে। অনেকে দাবি করছেন, এই চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির স্থানীয় ডিলার দেলোয়ার হোসেন রিপনের গুদাম থেকেই সরানো হয়েছে।
তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশিদ বলেন,“এই চালের সঙ্গে আমি জড়িত না।কে বা কারা আমার দোকানে চাল রেখে গেছে জানি না। মোস্তফা কামাল এ বিষয়ে বেশি জানে।” অন্যদিকে ডিলার দেলোয়ার হোসেন রিপন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“এই চাল আমার গুদামের না।তবে যদি প্রমাণ হয়, আমি দোষী, তাহলে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এই প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়জুর রহমান বলেন,“গাড়ি ও চাল জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে।যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে,তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।”
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে পাচার রোধে মোড়কীকরণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ১৭৮ বস্তা চাল এতিমখানা, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করে দেওয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে বিভাগসেরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয়

স্থানীয় জনতা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গাড়ি জব্দ

আপডেট সময় : ০৮:০০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির১৭৮ বস্তা চাল অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।গত সোমবার রাতে স্থানীয় জনতা ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে কালিয়াপাড়া বাজার থেকে গৌরিপুরের দিকে যাওয়া একটি চালবোঝাই গাড়ি আটক করা হয়।
ঘটনার সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের দত্তপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা একটি সন্দেহজনক গাড়ি আটক করেন।গাড়িতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১৭৮ বস্তা চাল (প্রতি বস্তা ৩০ কেজি)পাওয়া যায়।স্থানীয়রা গাড়ি থামিয়ে চালের উৎস জিজ্ঞাসা করলে চালক ও সহযোগীরা সরকারি চাল বলে স্বীকার করেন।
বিষয়টি নজরে আসার পর চালক গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বেলালাবাদ দত্তপুর এমএন ফিলিং স্টেশনের কাছে গাড়িটি জব্দ করা হয়। নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানে গাড়ি ও চাল থানায় জমা দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি,চালগুলি কালিয়াপাড়া বাজারের খাদ্য বান্ধব ডিলার দেলোয়ার হোসেন রিপনের গুদাম থেকে তোলা হয়েছে।অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারি বস্তা থেকে চাল পুনর্ব্যবহার করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন,“রাতে গোপনে একটা ট্রাক কালিয়াপাড়া বাজার থেকে চাল উঠাইতেছে শুনি।সন্দেহ হইলে স্থানীয় কয়েকজন মিলে গিয়ে দত্তপুর এলাকায় ট্রাকটারে থামাই দেয়। জিজ্ঞাসা করলে চালক প্রথমে অস্বীকার করে,পরে স্বীকার করে এইটা সরকারী চাল।”
হাজেরা বেগম নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,“আমরা কম টাকায় এসব চাল নিয়া বাঁচি।এখন দেখি সেই চাল লোকে চুরি করে বেইচা দিচ্ছে!এইটা তো গরিবের সঙ্গে জুলুম।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, কালিয়াপাড়া বাজারের তিনজন ব্যবসায়ী-আবু বক্কর ছিদ্দিক,মোস্তফা কামাল ও হারুন-অর-রশিদের দোকান থেকেই এই চাল তোলা হয়েছে। অনেকে দাবি করছেন, এই চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির স্থানীয় ডিলার দেলোয়ার হোসেন রিপনের গুদাম থেকেই সরানো হয়েছে।
তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশিদ বলেন,“এই চালের সঙ্গে আমি জড়িত না।কে বা কারা আমার দোকানে চাল রেখে গেছে জানি না। মোস্তফা কামাল এ বিষয়ে বেশি জানে।” অন্যদিকে ডিলার দেলোয়ার হোসেন রিপন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“এই চাল আমার গুদামের না।তবে যদি প্রমাণ হয়, আমি দোষী, তাহলে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এই প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়জুর রহমান বলেন,“গাড়ি ও চাল জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে।যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে,তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।”
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে পাচার রোধে মোড়কীকরণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ১৭৮ বস্তা চাল এতিমখানা, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করে দেওয়া হবে।