১২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুর নগরীতে বাড়ছে মশার উপদ্রব

রংপুর সিটি কর্পোরেশনে মশকনিধনে প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাড়ছে
মশার উপদ্রব। মহানগরীর সেনপাড়ার গৃহবধূ জাহিদা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের কষ্ট কী
জিনিস বুঝেছি। এ জ্বরে আক্রান্ত হলে কেউ বাঁচে, কেউ মারা যায়। আমরা ট্যাক্স, ভ্যাট দেই, কিন্তু
মশা তাড়াতে সিটি কর্পোরেশনের কোনো কার্যক্রম দেখি না। দিনে-রাতে সমান তালে মশা
কামড়ায়। কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা স্প্রে করেও কাজ হচ্ছে না। মশার উৎপাতে দিনেও ঘরে মশারি
টানিয়ে থাকতে হচ্ছে। শুধু জাহিদা খাতুন নয়, এমন অভিযোগ অনেক মহানগরবাসীর। তবে
সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, মশকনিধনের লক্ষ্যে ওয়ার্ডগুলোতে কাজ শুরু হয়েছে। রংপুরের
সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা বলেন, নগরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত পাঁচজন ডেঙ্গু আক্রান্ত
হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন থাকতে হবে।
আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়,
২০২৩-২৪ অর্থবছরে মশকনিধনে সিটি কর্পোরেশন ব্যয় করেছে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। আর চলতি
অর্থবছরে এ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। তারপরও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।
নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নগরীর খাল ও ড্রেন পরিষ্কার না করায় সেগুলো ভাগাড়ে পরিণত
হয়েছে। সেখানে প্রজনন বাড়ছে মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গের। নগরীর কেরানীপাড়ার
দুলাল হোসেন বলেন, রংপুরের প্রাণ শ্যামাসুন্দরী খাল। সেই শ্যামাসুন্দরী আমাদের গলার কাঁটা হয়ে
দাঁড়িয়েছে। মশা-মাছির কারখানায় পরিণত হয়েছে। রংপুর মহানগরীর গোমস্তাপাড়ায় শ্যামাসুন্দরী
খালপাড় এলাকায় দেখা যায়, মশার হুল থেকে রক্ষা পেতে দিনেও মশারি টানানো হয়েছে। অনেক বাসা
বাড়িতে বন্ধ রাখা হচ্ছে দরজা-জানালা। মশার উপদ্রবে মশারি টানিয়ে, স্প্রে করে ও কয়েল জ্বালিয়েও
কোনো কাজ হচ্ছে না। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা
বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন ও স্প্রে দিয়ে মশা নিধন ঔষধ ছিটানো হচ্ছে। তবে জনবল,
মেশিন ও ঔষধের স্বল্পতার কারণে একটু ধীরগতিতে কাজ হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর নগরীতে বাড়ছে মশার উপদ্রব

আপডেট সময় : ১১:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

রংপুর সিটি কর্পোরেশনে মশকনিধনে প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাড়ছে
মশার উপদ্রব। মহানগরীর সেনপাড়ার গৃহবধূ জাহিদা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের কষ্ট কী
জিনিস বুঝেছি। এ জ্বরে আক্রান্ত হলে কেউ বাঁচে, কেউ মারা যায়। আমরা ট্যাক্স, ভ্যাট দেই, কিন্তু
মশা তাড়াতে সিটি কর্পোরেশনের কোনো কার্যক্রম দেখি না। দিনে-রাতে সমান তালে মশা
কামড়ায়। কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা স্প্রে করেও কাজ হচ্ছে না। মশার উৎপাতে দিনেও ঘরে মশারি
টানিয়ে থাকতে হচ্ছে। শুধু জাহিদা খাতুন নয়, এমন অভিযোগ অনেক মহানগরবাসীর। তবে
সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, মশকনিধনের লক্ষ্যে ওয়ার্ডগুলোতে কাজ শুরু হয়েছে। রংপুরের
সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা বলেন, নগরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত পাঁচজন ডেঙ্গু আক্রান্ত
হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন থাকতে হবে।
আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়,
২০২৩-২৪ অর্থবছরে মশকনিধনে সিটি কর্পোরেশন ব্যয় করেছে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। আর চলতি
অর্থবছরে এ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। তারপরও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।
নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নগরীর খাল ও ড্রেন পরিষ্কার না করায় সেগুলো ভাগাড়ে পরিণত
হয়েছে। সেখানে প্রজনন বাড়ছে মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গের। নগরীর কেরানীপাড়ার
দুলাল হোসেন বলেন, রংপুরের প্রাণ শ্যামাসুন্দরী খাল। সেই শ্যামাসুন্দরী আমাদের গলার কাঁটা হয়ে
দাঁড়িয়েছে। মশা-মাছির কারখানায় পরিণত হয়েছে। রংপুর মহানগরীর গোমস্তাপাড়ায় শ্যামাসুন্দরী
খালপাড় এলাকায় দেখা যায়, মশার হুল থেকে রক্ষা পেতে দিনেও মশারি টানানো হয়েছে। অনেক বাসা
বাড়িতে বন্ধ রাখা হচ্ছে দরজা-জানালা। মশার উপদ্রবে মশারি টানিয়ে, স্প্রে করে ও কয়েল জ্বালিয়েও
কোনো কাজ হচ্ছে না। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা
বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন ও স্প্রে দিয়ে মশা নিধন ঔষধ ছিটানো হচ্ছে। তবে জনবল,
মেশিন ও ঔষধের স্বল্পতার কারণে একটু ধীরগতিতে কাজ হচ্ছে।