০১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পুনরায় সক্রিয় সদরপুরের বালু মহালের লুটেরা

ফরিদপুরের সদরপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে পুনরায় জেকে বসেছে অবৈধ বালু মহাল লুটেরা ও অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীরা। উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদের পাড় বালু মহাল এলাকা থেকে সারা বছরই স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে অবৈধ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা অভিযান চালিয়ে কিছু ব্যাক্তির নামে মামলা দিয়ে এবং বালু ও মাটি কাটা ড্রেজার ও বেকু জব্দ করেন। এতে সাময়িক সময়ের জন্য বালু মহালের লুটেরা থেমে থাকলেও রহস্যজনকভাবে পুনরায় পূর্বের চেয়ে আরো ভয়ংকরভাবে রাতের আঁধারে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ ব্যবসা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে আকোটের চর ইউনিয়নের নতুন সাহেবের চর এলাকায়, সদরপুর ইউনিয়ন,ঢেউখালী ইউনিয়ন, ভাষানচর ইউনিয়ন, চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কিছু ইট ভাটার মালিক ও বালু ব্যবসায়ী পুনরায় বীর দর্পে চালিয়ে যাচ্ছে টপ সয়েল নষ্ট করে মাটি কর্তন ও অবৈধ বালু মহাল লুট। রাতের আঁধার নেমে এলেই সোচ্চার হয়ে ওঠে এসব অবৈধ বালু ও মাটিবাহী রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ড্রাম ট্রাক এবং লাইসেন্স বিহীন চালকগণ।
এসব অবৈধ মাটি ও বালু পরিবহনের জন্য নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে বালিয়াহাটি চাররাস্তার মোড় হয়ে ঢেউখালী বাজার, পেঁয়াজখালী বাজার, মনিকোঠা বাজার ও মুটুকচরের ভিতরের রাস্তা ব্যবহার করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, রাতের আঁধারে প্রতিদিনই প্রশাশনের নাকের ডগা দিয়ে চলছে এসব লুটপাট। জনগন বলছে এ যেন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর শামিল। নদীর পাড়ের ফসলী জমি কেটে বালু বিক্রয় করে এসব অবৈধ ব্যবসায়ীরা রাতারাতি টাকার পাহাড় গড়ে তুলছেন। কেউ বাধা প্রদান করলে লুটেরা তাদেরকে মোটা অংকের উৎকোচ অথবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থামিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের বলেন, রাতের আঁধারে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের শব্দে তারা ঘুমাতে পারে না এবং দিনে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঠিকমত যাতায়াত করতে পারছে না। টপ সয়েল ধ্বংস ও নদী পাড়ের ফসলী জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে নিয়মিত চলছে বালু কর্তন। এলাকার এ অপুরনীয় ক্ষতি থেকে এলাকাবাসীকে উত্তরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা বলেন, ইতিপূর্বে একাধিক বালু মহাল লুটেরা ও অবৈধ মাটি ব্যাসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। অচিরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি সঠিক তথ্য দিয়ে এলাকাবাসীকে সহযোগীতা করারও আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পুনরায় সক্রিয় সদরপুরের বালু মহালের লুটেরা

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে পুনরায় জেকে বসেছে অবৈধ বালু মহাল লুটেরা ও অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীরা। উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদের পাড় বালু মহাল এলাকা থেকে সারা বছরই স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে অবৈধ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা অভিযান চালিয়ে কিছু ব্যাক্তির নামে মামলা দিয়ে এবং বালু ও মাটি কাটা ড্রেজার ও বেকু জব্দ করেন। এতে সাময়িক সময়ের জন্য বালু মহালের লুটেরা থেমে থাকলেও রহস্যজনকভাবে পুনরায় পূর্বের চেয়ে আরো ভয়ংকরভাবে রাতের আঁধারে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ ব্যবসা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে আকোটের চর ইউনিয়নের নতুন সাহেবের চর এলাকায়, সদরপুর ইউনিয়ন,ঢেউখালী ইউনিয়ন, ভাষানচর ইউনিয়ন, চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কিছু ইট ভাটার মালিক ও বালু ব্যবসায়ী পুনরায় বীর দর্পে চালিয়ে যাচ্ছে টপ সয়েল নষ্ট করে মাটি কর্তন ও অবৈধ বালু মহাল লুট। রাতের আঁধার নেমে এলেই সোচ্চার হয়ে ওঠে এসব অবৈধ বালু ও মাটিবাহী রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ড্রাম ট্রাক এবং লাইসেন্স বিহীন চালকগণ।
এসব অবৈধ মাটি ও বালু পরিবহনের জন্য নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে বালিয়াহাটি চাররাস্তার মোড় হয়ে ঢেউখালী বাজার, পেঁয়াজখালী বাজার, মনিকোঠা বাজার ও মুটুকচরের ভিতরের রাস্তা ব্যবহার করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, রাতের আঁধারে প্রতিদিনই প্রশাশনের নাকের ডগা দিয়ে চলছে এসব লুটপাট। জনগন বলছে এ যেন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর শামিল। নদীর পাড়ের ফসলী জমি কেটে বালু বিক্রয় করে এসব অবৈধ ব্যবসায়ীরা রাতারাতি টাকার পাহাড় গড়ে তুলছেন। কেউ বাধা প্রদান করলে লুটেরা তাদেরকে মোটা অংকের উৎকোচ অথবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থামিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের বলেন, রাতের আঁধারে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের শব্দে তারা ঘুমাতে পারে না এবং দিনে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঠিকমত যাতায়াত করতে পারছে না। টপ সয়েল ধ্বংস ও নদী পাড়ের ফসলী জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে নিয়মিত চলছে বালু কর্তন। এলাকার এ অপুরনীয় ক্ষতি থেকে এলাকাবাসীকে উত্তরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা বলেন, ইতিপূর্বে একাধিক বালু মহাল লুটেরা ও অবৈধ মাটি ব্যাসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। অচিরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি সঠিক তথ্য দিয়ে এলাকাবাসীকে সহযোগীতা করারও আহ্বান জানান।