১২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছয় মাসে কোনআনের হাফেজ শফিকুল

অভাব অনটনের সংসারে বেড়ে ওঠা শরিফুল ইসলাম (১৩)। সাত বছর বয়সেই হারিয়েছে
বাবাকে। কয়েক বছর না যেতেই তার মা চলে যান নতুন সংসারে। তখন ছোট্ট শরিফুল ইসলামের জন্য
এগিয়ে আসেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক। বছরখানেক আগে তাকে তার মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। কায়দা
ও আমপারা শেখার পর মাত্র ছয় মাসেই পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে শরিফুল। হাফেজ
শরিফুল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের ইদুলপুর গ্রামের আজিজার-
জুলেখা দম্পতির ছেলে ও দারুত তাকওয়া মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মাত্র ছয় মাসে পবিত্র কোরআনের
হাফেজ হওয়ায় খুশি তার মা ও স্থানীয়রা। আনন্দিত মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। এলাকাবাসী
বলেন, যখন শরিফুল ইসলামের বয়স মাত্র সাত বছর তখনই তার বাবা মারা যান। অভাবের সংসারে বাবা
হারা শরিফুলের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। সেই সময়ে দারুত তাকওয়া
মডেল মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি হাসান আহমেদ আফেন্দী শিশুটির পাশে দাঁড়ান। গত বছরের
ডিসেম্বরে তার ব্যক্তিগত খরচে শিশুটিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন।এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর
নতুন সংসারে চলে যাওয়া শরিফুলের মা জুলেখা বেগম সন্তানের ভরণপোষণ দিতে পারেননি। দিতে
পারেরনি পড়ালেখার অর্থের যোগান। কিন্তু সন্তানের টানে মাঝেমধ্যে ঠিকই ছুটে আসতেন
মাদ্রাসায়। খোঁজ রাখতেন শরিফুলের। সন্তানের এই অর্জনে খুশি মা জুলেখা। এ জন্য তিনি
মাদ্রাসার পরিচালক হাসান আহমেদ আফেন্দীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাফেজ শরিফুল
ইসলাম বর্তমানে উপজেলার জায়গীরহাট পুরাতন গরুহাটি সংলগ্ন দারুত তাকওয়া মডেল
মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছে। তার এই অর্জন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষকে কোরআন
শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে। শরিফুল ইসলাম বলে, বড় হয়ে বরেণ্য আলেম হতে চাই। ইসলামের খাদেম
হতে চাই। আল্লাহ যেন আমাকে কবুল করেন। শিশুটির শিক্ষক দারুত তাকওয়া মডেল মাদ্রাসার
পরিচালক মুফতি হাসান আহমেদ আফেন্দী বলেন, শরিফুল খুবই মেধাবী ও উদ্যমী। বাবা-মাকে
হারানো শিশুটিকে ছোটবেলা থেকে আমার সঙ্গে রেখেছি। মসজিদ ও মাদ্রাসামুখী শরিফুল
কায়দা, আমপারা শেষ করলে গত বছরের ডিসেম্বরে আমার মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। ছয় মাসেই
শরিফুল কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে। তার এই সাফল্যে দারুত তাকওয়া মডেল মাদদ্রাসার নাম
উজ্জ্বল হয়েছে। মহান আল্লাহ তাকে অনেক বড় আলেম হিসেবে কবুল করুন সেই দোয়া করি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছয় মাসে কোনআনের হাফেজ শফিকুল

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

অভাব অনটনের সংসারে বেড়ে ওঠা শরিফুল ইসলাম (১৩)। সাত বছর বয়সেই হারিয়েছে
বাবাকে। কয়েক বছর না যেতেই তার মা চলে যান নতুন সংসারে। তখন ছোট্ট শরিফুল ইসলামের জন্য
এগিয়ে আসেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক। বছরখানেক আগে তাকে তার মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। কায়দা
ও আমপারা শেখার পর মাত্র ছয় মাসেই পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে শরিফুল। হাফেজ
শরিফুল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের ইদুলপুর গ্রামের আজিজার-
জুলেখা দম্পতির ছেলে ও দারুত তাকওয়া মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মাত্র ছয় মাসে পবিত্র কোরআনের
হাফেজ হওয়ায় খুশি তার মা ও স্থানীয়রা। আনন্দিত মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। এলাকাবাসী
বলেন, যখন শরিফুল ইসলামের বয়স মাত্র সাত বছর তখনই তার বাবা মারা যান। অভাবের সংসারে বাবা
হারা শরিফুলের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। সেই সময়ে দারুত তাকওয়া
মডেল মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি হাসান আহমেদ আফেন্দী শিশুটির পাশে দাঁড়ান। গত বছরের
ডিসেম্বরে তার ব্যক্তিগত খরচে শিশুটিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন।এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর
নতুন সংসারে চলে যাওয়া শরিফুলের মা জুলেখা বেগম সন্তানের ভরণপোষণ দিতে পারেননি। দিতে
পারেরনি পড়ালেখার অর্থের যোগান। কিন্তু সন্তানের টানে মাঝেমধ্যে ঠিকই ছুটে আসতেন
মাদ্রাসায়। খোঁজ রাখতেন শরিফুলের। সন্তানের এই অর্জনে খুশি মা জুলেখা। এ জন্য তিনি
মাদ্রাসার পরিচালক হাসান আহমেদ আফেন্দীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাফেজ শরিফুল
ইসলাম বর্তমানে উপজেলার জায়গীরহাট পুরাতন গরুহাটি সংলগ্ন দারুত তাকওয়া মডেল
মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছে। তার এই অর্জন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষকে কোরআন
শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে। শরিফুল ইসলাম বলে, বড় হয়ে বরেণ্য আলেম হতে চাই। ইসলামের খাদেম
হতে চাই। আল্লাহ যেন আমাকে কবুল করেন। শিশুটির শিক্ষক দারুত তাকওয়া মডেল মাদ্রাসার
পরিচালক মুফতি হাসান আহমেদ আফেন্দী বলেন, শরিফুল খুবই মেধাবী ও উদ্যমী। বাবা-মাকে
হারানো শিশুটিকে ছোটবেলা থেকে আমার সঙ্গে রেখেছি। মসজিদ ও মাদ্রাসামুখী শরিফুল
কায়দা, আমপারা শেষ করলে গত বছরের ডিসেম্বরে আমার মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। ছয় মাসেই
শরিফুল কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে। তার এই সাফল্যে দারুত তাকওয়া মডেল মাদদ্রাসার নাম
উজ্জ্বল হয়েছে। মহান আল্লাহ তাকে অনেক বড় আলেম হিসেবে কবুল করুন সেই দোয়া করি।