১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাটখিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অভিযোগে সকল সুযোগ-সুবিধা বন্ধ, ৯ মাস পর আদালতে মামলা

নোয়াখালী জেলার চাটখিলের বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের শহীদের স্বীকৃতি পাওয়া ইমতিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর ইমতিয়াজের পরিবারের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান বন্ধ রয়েছে। ইমতিয়াজ উপজেলার হাট পুকুরিয়া ঘাটলা বাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়ারি মিয়া বেপারী বাড়ির হাবিবুর রহমানের ছেলে। হাবিবুর রহমান তার ছেলে ইমতিয়াজকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী উল্লেখ করে তার ছেলে হত্যায় সাবেক এমপি এইচএম ইব্রাহিম, সাবেক পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহ পাটোয়ারীসহ ৫৭ জন আসামী করে নোয়াখালী জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। বাদীর আইনজীবি এ্যাডভোকেট সাফায়েত উল্যাহ কবির গতকাল সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসকের নিকট বৈষম্য বিরোধী নেতাদের দেওয়া অভিযোগে ইমতিয়াজকে ‘আত্মঘাতিক মৃত্যু আখ্যা দিয়ে গেজেট ভূক্ত তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ইমতিয়াজ পেশায় কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারীম্যান ছিলেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবরে চাটখিল থানায় ঢুকে অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশের অস্ত্র নিজের কোমরে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে স্থান ত্যাগ করার সময় পথিমধ্যে আত্মঘাতিক মূল বুলেট তার পায়ে লাগে এতে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। সে আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল না । তার আন্দোলনের কোন প্রমাণ পত্রও নেই। তাছাড়া এ আন্দোলনের ঘটনায় চাটখিল কারো মৃত্যু হয়নি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চাটখিল প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম জানান, তারা হতভাগ হয়েছেন কিভাবে একজন আত্মঘাতিক ব্যক্তি শহীদ হিসাবে গেজেট ভূক্ত হয়। আবার জেলা প্রশাসক ১০ লক্ষ টাকা সঞ্চয় পত্র তুলে দেন। তাছাড়া তারা জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে ৮ লক্ষ টাকা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইমতিয়াজের পিতা হাবিবুর রহমান আগস্টের পর থেকে মামলার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র নেতারা আরো জানান, আহত যোদ্ধারা চিকিৎসা পাচ্ছে না অথচ এরা এভাবে প্রতারনা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা ইমতিয়াজের পরিবারকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। ইমতিয়াজ কখনও সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কোন দল এবং আন্দোলনে যুক্ত থাকার প্রমাণ নেই। ৯ মাস পর আদালতে মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। হাবিবুর রহমান জানান, থানা থেকে অস্ত্র লুট করেছে। তার ছেলে থানার অস্ত্র দিয়ে অজ্ঞাত কেউ হত্যার করেছে। অথচ ৬ আগস্টে হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন তার ছেলে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিল না। মিছিল মিটিং এ যেত না। তার কোন অভিযোগও নেই। মামলায় ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্র্মী উল্লেখ করলেও ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, ২০২৪ সালে ১৮ জুলাই ছাড়া চাটখিলে কোন কর্মসূচী পালিত হয়নি। এ কর্মসূচীতে ইমতিয়াজ অংশ নেয়নি। স্থানীয় অনেকেই এ ঘটনাকে সন্তানের লাশ নিয়ে বাবার ব্যবসার বলে অভিযোগ করেছে।
তৎকালীন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের শহিদের স্বীকৃতি বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় যাচাই বাছায়ে ইমতিয়াজের নাম বাদ দেওয়া হয়। যে যে মাপকাঠিতে শহিদের স্বীকৃতি পাওয়া যায় তার ভিতর সেটা পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ জানান, গেজেট নিয়ে আপত্তি থাকায় ইমতিয়াজের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তার সব সুযোগ সুবিধা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাটখিল থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী মামলা সংক্রান্ত আদালতের কোন চিটি তিনি পাননি। আদালতের আদেশ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

চাটখিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অভিযোগে সকল সুযোগ-সুবিধা বন্ধ, ৯ মাস পর আদালতে মামলা

আপডেট সময় : ০১:৫৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
নোয়াখালী জেলার চাটখিলের বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের শহীদের স্বীকৃতি পাওয়া ইমতিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর ইমতিয়াজের পরিবারের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান বন্ধ রয়েছে। ইমতিয়াজ উপজেলার হাট পুকুরিয়া ঘাটলা বাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়ারি মিয়া বেপারী বাড়ির হাবিবুর রহমানের ছেলে। হাবিবুর রহমান তার ছেলে ইমতিয়াজকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী উল্লেখ করে তার ছেলে হত্যায় সাবেক এমপি এইচএম ইব্রাহিম, সাবেক পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহ পাটোয়ারীসহ ৫৭ জন আসামী করে নোয়াখালী জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। বাদীর আইনজীবি এ্যাডভোকেট সাফায়েত উল্যাহ কবির গতকাল সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসকের নিকট বৈষম্য বিরোধী নেতাদের দেওয়া অভিযোগে ইমতিয়াজকে ‘আত্মঘাতিক মৃত্যু আখ্যা দিয়ে গেজেট ভূক্ত তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ইমতিয়াজ পেশায় কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারীম্যান ছিলেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবরে চাটখিল থানায় ঢুকে অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশের অস্ত্র নিজের কোমরে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে স্থান ত্যাগ করার সময় পথিমধ্যে আত্মঘাতিক মূল বুলেট তার পায়ে লাগে এতে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। সে আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল না । তার আন্দোলনের কোন প্রমাণ পত্রও নেই। তাছাড়া এ আন্দোলনের ঘটনায় চাটখিল কারো মৃত্যু হয়নি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চাটখিল প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম জানান, তারা হতভাগ হয়েছেন কিভাবে একজন আত্মঘাতিক ব্যক্তি শহীদ হিসাবে গেজেট ভূক্ত হয়। আবার জেলা প্রশাসক ১০ লক্ষ টাকা সঞ্চয় পত্র তুলে দেন। তাছাড়া তারা জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে ৮ লক্ষ টাকা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইমতিয়াজের পিতা হাবিবুর রহমান আগস্টের পর থেকে মামলার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র নেতারা আরো জানান, আহত যোদ্ধারা চিকিৎসা পাচ্ছে না অথচ এরা এভাবে প্রতারনা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা ইমতিয়াজের পরিবারকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। ইমতিয়াজ কখনও সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কোন দল এবং আন্দোলনে যুক্ত থাকার প্রমাণ নেই। ৯ মাস পর আদালতে মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। হাবিবুর রহমান জানান, থানা থেকে অস্ত্র লুট করেছে। তার ছেলে থানার অস্ত্র দিয়ে অজ্ঞাত কেউ হত্যার করেছে। অথচ ৬ আগস্টে হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন তার ছেলে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিল না। মিছিল মিটিং এ যেত না। তার কোন অভিযোগও নেই। মামলায় ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্র্মী উল্লেখ করলেও ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, ২০২৪ সালে ১৮ জুলাই ছাড়া চাটখিলে কোন কর্মসূচী পালিত হয়নি। এ কর্মসূচীতে ইমতিয়াজ অংশ নেয়নি। স্থানীয় অনেকেই এ ঘটনাকে সন্তানের লাশ নিয়ে বাবার ব্যবসার বলে অভিযোগ করেছে।
তৎকালীন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের শহিদের স্বীকৃতি বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় যাচাই বাছায়ে ইমতিয়াজের নাম বাদ দেওয়া হয়। যে যে মাপকাঠিতে শহিদের স্বীকৃতি পাওয়া যায় তার ভিতর সেটা পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ জানান, গেজেট নিয়ে আপত্তি থাকায় ইমতিয়াজের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তার সব সুযোগ সুবিধা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাটখিল থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী মামলা সংক্রান্ত আদালতের কোন চিটি তিনি পাননি। আদালতের আদেশ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।