শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী দুর্নীতিবাজ আশরাফুজ্জামান ফরিদের অপসারণ দাবিতে সংবাদ সন্মেলন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাধারণ কর্মচারীরা।
আজ মঙ্গলবার উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনিষ্ঠত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তেওতা ইউপি স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল মালেক।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৪ সালের জুলাই মানের ৩১ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। প্রায় এক যুগ ধরে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত রয়েছেন আসরাফুজ্জামান ফরিদ। সাথে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান সহকারী হিসেবেও। ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া আশরাফুজ্জামান ফরিদ মানিকগঞ্জ ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যর পি এস এর ভগ্নিপতি হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী অনিয়মিত অফিস করেন। তিনি সাধারণ কর্মচারীদের কর্মক্ষেত্রে সরকারি ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছেন। এক ব্যক্তি দুটি পদে কর্মরত থাকায় বিভিন্ন খাতের অর্থ সহসায় আত্নসাৎ করছেন।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক কোয়াটার যাদের নামে বরাদ্দ থাকার কথা তাদেরকে না দিয়ে তিনি অর্থের বিনিময়ে তার পছন্দের লোকের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ দিন ড্রাইভার না থাকায় তিনি তার ব্যক্তিগত ড্রাইভার দিয়ে সরকারি গাড়ি পরিচালনা করছেন। এখানেও তিনি সরকারি ভাড়ার নিয়ম তোয়াক্কা না করে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। অতিরিক্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তা নিজেই আত্মসাৎ করছেন। কর্মচারীদের উচ্চতর গেট অনুমোদন হবার পর তিনি তাদের কাছে অর্থ দাবি করেন। তার চাহিদা অনুযায়ী অর্থ না দিলে উচ্চতর গেটের বিষয়ে কোন কাজ করেন না। উল্টো কর্মচারীদের সার্ভিস বুকে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করে থাকেন।
তিনি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালনে ভুয়া বিল তৈরি করে তার সকল টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০২৪ ও ২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য সহকারীদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন প্রদানে নানা তালবাহানা করেছে। সে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে সরকারি কোয়াটারের দ্বিতীয় শ্রেণীর বাসায় অবস্থান করছেন। হাসপাতালের ‘ওটি ‘ রুমের এসি তার নিজ কোয়াটারে ব্যবহার করছেন। তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়সহ অপসারণ দাবিতে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী মাহবুবুর রহমান, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আফরোজা আক্তার, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সিএইচসিপি তপন কুমার ঘোষ ও আরতি সাহা উপস্থিত ছিলেন।
























