০১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বসা হলো না বিয়ের পিঁড়িতে, রিমঝিমের বাড়িতে শোকের মাতম

রিমঝিমের। আগামী ৬ জুলাই তার বিয়ের দিন ধার্য্য ছিলো। সোমবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের রামুর রশিদ নগরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে রিমঝিমের।
তার নিজ এলাকা রামু রাজারকুলের ইউপি সদস্য স্বপন বড়ুয়া জানান, দিনমজুর হিমাংশু বড়ুয়ার মেয়ে রিমঝিমের বিয়ের দিন ধার্য্য ছিলো আগামী ৬ জুলাই। মূলত বিয়ের বাজার করতে যাচ্ছিলেন চট্টগ্রাম। পথিমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান।
পরিবারের বরাত দিয়ে স্বপন বড়ুয়া বলেন, “চট্টগ্রামের পটিয়ায় রিমঝিমের হবু শ্বশুর বাড়ি। আর তার ছোটবোন চট্টগ্রামে পড়ালেখা করেন। আজ সবাই মিলে বিয়ের বাজার করার কথা ছিলো তাদের। সেকারণেই সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রামুর বাইপাস থেকে পূরবী বাসে উঠেন।” “রামুর বাইপাস থেকে ঘটনাস্থল রশিদ নগরের দূরত্ব মাত্র এক দুই মিনিটের। হয়তো বাসে উঠার মিনিট না পেরোনোর আগেই মৃত্যু হয় রিমঝিমের” বলেন স্বপন বড়ুয়া।
রিমঝিম বড়ুয়া একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী হিসেবে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে কাজ করতেন।
এদিকে রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ওসি নাসির উদ্দীন জানান, সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সাথে বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি উলটে সড়কের পাশে পড়ে যায়।
সোমবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে রামু রশিদ নগর ইউনিয়নের জেটিরঘাটা রাস্তার মাথা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
নিহতরা হলেন, কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকার বাসিন্দা হাবিব উল্লাহ (৫৫), তার ৯ বছরের শিশু রিয়াদ, রামু এলাকার বাসিন্দা রিমঝিম বড়ুয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী কুদ্দুস জানান, কক্সবাজার শহর থেকে ছেড়ে আসা পূরবী বাস ও বিপরীত থেকে আসা কার্ভারভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহতদের বাস কেটে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈয়বুর রহমান। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।
এমআর/সব

জনপ্রিয় সংবাদ

বসা হলো না বিয়ের পিঁড়িতে, রিমঝিমের বাড়িতে শোকের মাতম

আপডেট সময় : ০৬:১৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

রিমঝিমের। আগামী ৬ জুলাই তার বিয়ের দিন ধার্য্য ছিলো। সোমবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের রামুর রশিদ নগরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে রিমঝিমের।
তার নিজ এলাকা রামু রাজারকুলের ইউপি সদস্য স্বপন বড়ুয়া জানান, দিনমজুর হিমাংশু বড়ুয়ার মেয়ে রিমঝিমের বিয়ের দিন ধার্য্য ছিলো আগামী ৬ জুলাই। মূলত বিয়ের বাজার করতে যাচ্ছিলেন চট্টগ্রাম। পথিমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান।
পরিবারের বরাত দিয়ে স্বপন বড়ুয়া বলেন, “চট্টগ্রামের পটিয়ায় রিমঝিমের হবু শ্বশুর বাড়ি। আর তার ছোটবোন চট্টগ্রামে পড়ালেখা করেন। আজ সবাই মিলে বিয়ের বাজার করার কথা ছিলো তাদের। সেকারণেই সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রামুর বাইপাস থেকে পূরবী বাসে উঠেন।” “রামুর বাইপাস থেকে ঘটনাস্থল রশিদ নগরের দূরত্ব মাত্র এক দুই মিনিটের। হয়তো বাসে উঠার মিনিট না পেরোনোর আগেই মৃত্যু হয় রিমঝিমের” বলেন স্বপন বড়ুয়া।
রিমঝিম বড়ুয়া একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী হিসেবে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে কাজ করতেন।
এদিকে রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ওসি নাসির উদ্দীন জানান, সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সাথে বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি উলটে সড়কের পাশে পড়ে যায়।
সোমবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে রামু রশিদ নগর ইউনিয়নের জেটিরঘাটা রাস্তার মাথা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
নিহতরা হলেন, কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকার বাসিন্দা হাবিব উল্লাহ (৫৫), তার ৯ বছরের শিশু রিয়াদ, রামু এলাকার বাসিন্দা রিমঝিম বড়ুয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী কুদ্দুস জানান, কক্সবাজার শহর থেকে ছেড়ে আসা পূরবী বাস ও বিপরীত থেকে আসা কার্ভারভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহতদের বাস কেটে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈয়বুর রহমান। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।
এমআর/সব