হাটহাজারী পৌরসভার সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে সরকারি ক্রয় নীতিমালা উপেক্ষা করে সর্বনিম্ন ও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতার সঙ্গে চুক্তি করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন বাণিজ্যের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, হাটহাজারী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের এটিআই ও শীলছড়ি রোড এবং ৯নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর ও কমিউনিটি ক্লিনিক রোডে সড়কবাতি বসানোর জন্য ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৩০ ডিসেম্বর দরপত্র জমা ও খোলার শেষ তারিখ নির্ধারিত ছিল। অংশ নেয় মোট চারটি প্রতিষ্ঠান— মেসার্স সানি করপোরেশন, মেসার্স শুভেচ্ছা ইঞ্জিনিয়ারিং, মেসার্স এ অ্যান্ড জে ইন্টারন্যাশনাল এবং মেসার্স ফিলামেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
অভিযোগকারীদের দাবি, সর্বনিম্ন দর ছিল ৪ কোটি টাকা, আর সর্বোচ্চ দর ছিল ৫ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বেলাল আহমেদ খান ১ কোটি টাকা বেশি দিয়ে ফিলামেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংকে কাজ দিয়েছেন। অথচ প্রতিষ্ঠানটির নেই পূর্ব অভিজ্ঞতা, নেই কোনো আন্তর্জাতিক মানের সনদ (ROHS, CE, TUV)। অন্যদিকে বাদ দেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের রয়েছে সরকারি ও আধা-সরকারি অনেক প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা।
একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, প্রকৌশলী বেলাল সরাসরি সর্বনিম্ন দরদাতার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন, যা না পেয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে চুক্তি দেন। এই লেনদেনের বড় অংশই গেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পর্যন্ত।
মেসার্স এ অ্যান্ড জে ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইব্রাহিম পারভেজ বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি, তবুও আমাদের বাদ দিয়ে কমিশনের বিনিময়ে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।” মেসার্স শুভেচ্ছা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক আবু সুফিয়ান জানান, “আমরা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা, তবুও কোনো কারণ ছাড়া বাদ পড়েছি। মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।”
ফিলামেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার সিয়াম বলেন, “অভিজ্ঞতা নিয়ে কেউ জন্মায় না, কাজ করতে করতে হয়। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে বলেই পৌরসভা চুক্তি করেছে।” পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সালমা খাতুন বলেন, “বেলাল স্যার সব জানেন। কেউ অভিজ্ঞতা নিয়ে জন্মায় না, তবে আমি বিষয়টি পিডি ও বেলাল স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে জানাতে পারি।”
অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নাজমুল সাদাত মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, “সর্বনিম্ন দরদাতা হলেই কাজ দিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই, আর টাকা বেশি হলে সমস্যা কী?” এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান বলেন, “আমরা বিষয়টি জানি না, প্রমাণপত্র পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাটহাজারী পৌরসভার একাধিক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রকৌশলী বেলাল দীর্ঘদিন ধরে কমিশনের বিনিময়ে অনিয়ম করে আসছেন। কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে গড়েছেন সম্পদ, ফ্ল্যাট, গাড়ি।”
এমআর/সব
শিরোনাম
সর্বনিম্ন দরদাতা বাদ
হাটহাজারী পৌরসভার প্রকল্পে কমিশনের ছড়াছড়ি
-
মোঃ একরামুল হক, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) থেকে - আপডেট সময় : ০৬:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- ।
- 336
জনপ্রিয় সংবাদ
























