হাটহাজারী পৌরসভার অষ্টম শ্রেণি পাস বিদ্যুৎ লাইনম্যান মো. মনোয়ার হোসেনের আচরণে হতবাক স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণ। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থেকে প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ করে তোলা এই কর্মচারী বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজ আদেশ অমান্য করে রীতিমতো সরকারকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকার পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ১৯ মে মনোয়ার হোসেনকে বদলির আদেশ প্রদান করা হয়। তাকে ২৯ মে-র মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়, অন্যথায় পরদিন থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু এর কোনোটিই মানেননি মনোয়ার।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন লাইনম্যান হলেও মনোয়ার হোসেনের প্রভাব যেন পৌর প্রশাসককেও হার মানায়। নানা দুর্নীতি, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তিনি হয়ে উঠেছেন পৌরসভা জুড়ে আলোচিত-সমালোচিত এক চরিত্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত দায়িত্ব পালনের বদলে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ঠিকাদারি, প্রকল্প তদারকি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কাজকর্মে। এমনকি একসময় কয়েকজন ইউএনও’র ক্যাশিয়ার হিসেবেও কাজ করেছেন বলে জানা যায়।
পৌরসভার সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া একটি প্রকল্পের দায়িত্ব ছিল বিএম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তদারকির পুরো দায়িত্ব পালন করেন এই বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ার হোসেন। শুধু পৌরসভা নয়, উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পেও তিনি জড়িয়ে পড়েন, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বদলি আদেশ বাতিল হয়েছে কি না জানতে বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে হাটহাজারী পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক মো. নোমান হোসেন বলেন, “মনোয়ারকে বিভাগীয় কমিশনার স্যার বদলি করেছেন। কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ না থাকলে কি বদলি করতেন? আমি সদ্য যোগ দিয়েছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, “বদলি আদেশ প্রত্যাহার হয়নি। তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মনোয়ার হোসেনের দাপটপূর্ণ অবস্থান ও সরকারি আদেশ অমান্য করার ঘটনায় হাটহাজারী পৌরসভায় নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। জনসাধারণের প্রশ্ন — একজন অষ্টম শ্রেণি পাস কর্মচারী কীভাবে পুরো প্রশাসনকে ছড়ি ঘোরানোর ক্ষমতা অর্জন করে বসেন? এটি তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি রাখে।
























