ভোলা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে-আওয়ামীলীগ নেতা সালাউদ্দিন মিয়া গং পরিচালিত-মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেসন্স এন্ড কোং-এর কর্ণফুলী-৪ লঞ্চের তৃতীয় তলা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ রয়েছে এক নারী। যার আনুমানিক বয়স ২০ থেকে ২২ বছর হবে বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ ঘাট থেকে আধা ঘণ্টা লঞ্চ চালানোর পর মেঘনা নদীতে তিনি ঝাঁপ দেন। এ ঘটনায় তখন লঞ্চজুড়ে যাত্রীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নদীতে ঝাপ দেওয়া নিখোঁজ নারীর এখন অবধি সঠিক পরিচয়, ঝাপের রহস্য ও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ তথ্য নিশ্চিত করছেন কর্ণফুলী-৪ লঞ্চের সুপারভাইজার নান্টু বাবু। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে লঞ্চ ষ্টাফদের বিরুদ্ধে নানান মুখরোচক আলোচনার ঝড় বইছে। এই কম্পানীর লঞ্চ গুলোতে প্রায় নারী কেলেংকারী, দেহব্যবসা, যাত্রীদের দামী মোবাইল ও মালামল চুরি,যাত্রীদের সাথে র্দূব্যবহারসহ বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।
লঞ্চের সুপারভাইজার নান্টু বাবু জানান,ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে আসে কর্ণফুলী-৪ লঞ্চটি। কালীগঞ্জ ঘাট থেকে আধা ঘণ্টা লঞ্চ চালানোর পর তৃতীয় তলা থেকে এক নারী যাত্রী নদীতে ঝাপঁ দিয়েছে এমন খবর তিনি শুনতে পান। পরে লঞ্চটি দ্রুত ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গেলে লাইফ বয়া ফালানো হয়। এর মধ্যে একবার নদীতে ভাসা অবস্থায় ওই নারীকে দেখলেও কাছাকাছি গেলে তাকে আর পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ধারণা করছেন তাৎক্ষণাত ডুবে যাওয়ায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে ঘণ্টাখানেক খুঁজাখুঁজি করার পর কোস্টগার্ডকে ঘটনাটি অবহিত করে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চটি চলে যায়। ওই নারী ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেন।
এ বিষয়ে লঞ্চ ষ্টাফ ও যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ নারী প্রথমে ইলিশা ঘাট থেকে কেবিন নিয়েছিলো। কেবিন নেওয়ার সময় ওই নারী একা ছিলেন। পরে লঞ্চ ছাড়ার পর নারীর কাছে টাকা নেই বলে কেবিন ম্যানকে জানানোর পর ওই নারীকে ডেকে যেতে বললে, তিনি লঞ্চের তৃতীয় তলায় গিয়ে মুঠো ফোনে কারো সাথে কথা বলতে দেখা গেছে। মুঠো ফোনে কথা বলার পরে তাকে কিছুটা নার্ভাস অবস্থায় দেখা গেছে। পরে হঠাৎ নদীতে ঝাঁপ দেন। তখন পাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা ডাক-চিৎকারে লঞ্চটি ঘুরিয়ে তাকে উদ্ধার চেষ্টা করে। তবে একবার তাকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেলেও পরে আর দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান,ভোলার ইলিশা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কর্ণফুলী-৪ লঞ্চটি ছাড়ার পরে কয়েকজন লঞ্চের ষ্টাফ ও বিভিন্ন লোক কয়েকবার তার কেবিনে আসা যাওয়া করতে দেখেছেন। তার কিছুক্ষন পরেই হঠাৎ করেই তৃতীয় তলা থেকে ওই নারী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিছু ষ্টাফ ভোলা-ঢাকা নৌ রুটে বিভিন্ন নারীদের নিয়ে লঞ্চের কেবিনে উঠিয়ে দেহ ব্যবসা করে কাচা টাকা ইনকাম করে, খদ্দের ঢাকা ও ভোলা থেকে সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরকম ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদ পত্রে আরো সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেসন্স এন্ড কোঃ এর ভোলা অফিসের ম্যানেজার আলাউদ্দিন জানান, ষ্টাফেরা ওই নারীকে লঞ্চে নিয়েছে এমন কথা আমিও শুনেছি। যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে তদন্ত করে জড়িতদেরকে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিবে। এখনও ওই নারীর কোন স্বজন ও তার খোজ পাওয়া যায়নি। আমরা হিজলা থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছি এবং মুন্সিগঞ্জ থানা ৩ জন ষ্টাফ ও প্রত্যক্ষদশী ২ জন যাত্রীর জবানবন্ধি নিয়েছেন। লঞ্চ ওই থানা হেফাজতে রয়েছে।
নিখোঁজ নারীর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে,তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা, নির্যাতন, নারী কেলেংকারি না কি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন।
মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেসন্স এন্ড কোঃ প্রতিষ্ঠানের ১৪ নাম্বার পর্যন্ত লঞ্চ রয়েছে। কথিত আছে আওয়ামীলীগের সাবেক শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই কম্পানীর একটি বড় অংশের মালিক।
এমআর/সব
শিরোনাম
চলন্ত লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ, নিখোঁজ তরুণীর সন্ধান মেলেনি
-
ভোলা প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
- ।
- 181
জনপ্রিয় সংবাদ
























