০৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিবিএসের জরিপ

সরকারি সেবায় ঘুষ-দুর্নীতির শিকার ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক

  • রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারেন মাত্র ২৭ শতাংশ নাগরিক
  • সন্ধ্যার পর নিজ এলাকায় একা চলাফেরায় নিরাপদ বোধ করেন ৮৪.৮১% নাগরিক

গত এক বছরে যেসব নাগরিক সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। সেখানে পুরুষ ৩৮.৬২ শতাংশ এবং নারী ২২.৭১ শতাংশ ঘুষের শিকার। নাগরিকদের সর্বাধিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে বিআরটিএ, ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ৬১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, পাসপোর্ট অফিসে ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে ৫৪ দশমিক ৯২ শতাংশ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সময়ে দেশব্যাপী সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) পরিচালনা করা হয়। ৬৪ জেলার ১ হাজার ৯২০টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট থেকে ৪৫ হাহার ৮৮৮টি খানার ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী-পুরুষ উত্তরদাতার সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপে নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বৈষম্য বিষয়ক এসডিজি ১৬ এর ছয়টি সূচকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। জরিপের প্রশ্নপত্র জাতিসংঘ নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মান ও পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।
বিবিএস জানায়, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নাগরিকদের সর্বাধিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে বিআরটিএ, ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ৬১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, পাসপোর্ট অফিসে ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে ৫৪ দশমিক ৯২ শতাংশ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। গত দুই বছরে ১৬.১৬ শতাংশ নাগরিক কোনো না কোনো বিবাদ বা বিরোধের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮৩.৬০ শতাংশ নাগরিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪১.৩৪ শতাংশ আনুষ্ঠানিক যেমন আদালত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং ৬৮.৯৬ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক যেমন কমিউনিটি নেতা, আইনজীবী ইত্যাদির মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন।
জরিপের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী গত এক বছরে দেশের ১৯.৩১ শতাংশ জনগণ কোনো না কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। নারীদের মধ্যে এ হার কিছুটা বেশি, যা ১৯.৬২ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের মধ্যে তা ১৮.৯৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলে বৈষম্যের হার ২২.০১ শতাংশ, গ্রামাঞ্চলের ১৮.০৭ শতাংশের তুলনায় বেশি। এ ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক অবস্থা এবং লিঙ্গভেদে বৈষম্য/হয়রানির হার সর্বাধিক। নিজের পরিবারের মধ্যে ৪৮.৪৪ শতাংশ, গণপরিবহন/উন্মুক্ত স্থানে ৩১.৩০ শতাংশ এবং কর্মস্থলে ২৫.৯৭ শতাংশ বৈষম্য/হয়রানির ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে মাত্র ৫.৩৫ শতাংশ ভুক্তভোগী এসব ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট করেছেন।
২৭.২৪% নাগরিক মনে করেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করতে পারেন। জরিপে বলা হচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শহর (২৭.৮৭%) ও গ্রামের (২৬.৯৪%) মধ্যে উলে¬খযোগ্য পার্থক্য না থাকলেও লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য রয়েছে, যা পুরুষের ক্ষেত্রে ৩১.৮৬% এবং নারীর ক্ষেত্রে ২৩.০২%। অনুরূপভাবে ২১.৯৯% নাগরিক মনে করেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন মর্মে মত প্রকাশ করেন। এই হার নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৭.৮১% ও ২৬.৫৫%।
জরিপ অনুযায়ী ৮৪.৮১% নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ এলাকায় একা চলাফেরায় নিরাপদ বোধ করেন। তবে এই নিরাপত্তাবোধে স্পষ্ট লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য দেখা যায়: পুরুষের ক্ষেত্রে এটি ৮৯.৫৩% হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ৮০.৬৭%। শহর ও গ্রামভেদেও কিছু পার্থক্য রয়েছে শহরে ৮৩.৭৫% ও গ্রামে ৮৫.৩০% নাগরিক নিরাপদ বোধ করেন। অপরদিকে সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে নিরাপত্তাবোধের হার ৯২.৫৪%, যা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৯১.৮২% ও ৯৩.৩৫%।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে দুঃস্থদের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

বিবিএসের জরিপ

সরকারি সেবায় ঘুষ-দুর্নীতির শিকার ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
  • রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারেন মাত্র ২৭ শতাংশ নাগরিক
  • সন্ধ্যার পর নিজ এলাকায় একা চলাফেরায় নিরাপদ বোধ করেন ৮৪.৮১% নাগরিক

গত এক বছরে যেসব নাগরিক সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। সেখানে পুরুষ ৩৮.৬২ শতাংশ এবং নারী ২২.৭১ শতাংশ ঘুষের শিকার। নাগরিকদের সর্বাধিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে বিআরটিএ, ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ৬১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, পাসপোর্ট অফিসে ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে ৫৪ দশমিক ৯২ শতাংশ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সময়ে দেশব্যাপী সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) পরিচালনা করা হয়। ৬৪ জেলার ১ হাজার ৯২০টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট থেকে ৪৫ হাহার ৮৮৮টি খানার ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী-পুরুষ উত্তরদাতার সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপে নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বৈষম্য বিষয়ক এসডিজি ১৬ এর ছয়টি সূচকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। জরিপের প্রশ্নপত্র জাতিসংঘ নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মান ও পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।
বিবিএস জানায়, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নাগরিকদের সর্বাধিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে বিআরটিএ, ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ৬১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, পাসপোর্ট অফিসে ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে ৫৪ দশমিক ৯২ শতাংশ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। গত দুই বছরে ১৬.১৬ শতাংশ নাগরিক কোনো না কোনো বিবাদ বা বিরোধের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮৩.৬০ শতাংশ নাগরিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪১.৩৪ শতাংশ আনুষ্ঠানিক যেমন আদালত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং ৬৮.৯৬ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক যেমন কমিউনিটি নেতা, আইনজীবী ইত্যাদির মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন।
জরিপের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী গত এক বছরে দেশের ১৯.৩১ শতাংশ জনগণ কোনো না কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। নারীদের মধ্যে এ হার কিছুটা বেশি, যা ১৯.৬২ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের মধ্যে তা ১৮.৯৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলে বৈষম্যের হার ২২.০১ শতাংশ, গ্রামাঞ্চলের ১৮.০৭ শতাংশের তুলনায় বেশি। এ ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক অবস্থা এবং লিঙ্গভেদে বৈষম্য/হয়রানির হার সর্বাধিক। নিজের পরিবারের মধ্যে ৪৮.৪৪ শতাংশ, গণপরিবহন/উন্মুক্ত স্থানে ৩১.৩০ শতাংশ এবং কর্মস্থলে ২৫.৯৭ শতাংশ বৈষম্য/হয়রানির ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে মাত্র ৫.৩৫ শতাংশ ভুক্তভোগী এসব ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট করেছেন।
২৭.২৪% নাগরিক মনে করেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করতে পারেন। জরিপে বলা হচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শহর (২৭.৮৭%) ও গ্রামের (২৬.৯৪%) মধ্যে উলে¬খযোগ্য পার্থক্য না থাকলেও লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য রয়েছে, যা পুরুষের ক্ষেত্রে ৩১.৮৬% এবং নারীর ক্ষেত্রে ২৩.০২%। অনুরূপভাবে ২১.৯৯% নাগরিক মনে করেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন মর্মে মত প্রকাশ করেন। এই হার নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৭.৮১% ও ২৬.৫৫%।
জরিপ অনুযায়ী ৮৪.৮১% নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ এলাকায় একা চলাফেরায় নিরাপদ বোধ করেন। তবে এই নিরাপত্তাবোধে স্পষ্ট লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য দেখা যায়: পুরুষের ক্ষেত্রে এটি ৮৯.৫৩% হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ৮০.৬৭%। শহর ও গ্রামভেদেও কিছু পার্থক্য রয়েছে শহরে ৮৩.৭৫% ও গ্রামে ৮৫.৩০% নাগরিক নিরাপদ বোধ করেন। অপরদিকে সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে নিরাপত্তাবোধের হার ৯২.৫৪%, যা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৯১.৮২% ও ৯৩.৩৫%।