ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে এএফপি জানায়, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই ফোনালাপে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিই ছিল আলোচনার একমাত্র বিষয়। তবে আলোচনার বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারি সূত্র জানায়, রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ সতর্কতা জারির ঘোষণা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এর আগে গত শুক্রবার ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ধারণাভিত্তিক মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে বাস্তবে কী ঘটছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।”
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যত যাচ্ছে, বিক্ষোভের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। মূলত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে।
অবমূল্যায়নের কারণে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ।
বিক্ষোভ দমাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী। ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মাঠে নামানো হয়েছে।
গতকাল রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এদিকে পশ্চিমা গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের চলমান বিক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিক্ষুব্ধ জনগণকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
শু/সবা


























