১১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নান্দাইলে দীর্ঘ ‘দখলতন্ত্রের’ অবসান, সেনা-প্রশাসনের যৌথ অভিযানে উদ্ধার ১৫ কোটি টাকার খাস জমি

দুই দশকের অব্যাহত দখল,কোটি কোটি টাকার ভাড়া আদায়,ক্ষমতাসীনদের মদদ এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রতারণা ও আশ্বাসের ফাঁদ-সব কিছুর অবসান ঘটল এক ঝটিকায়।ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের প্রাচীন কালিয়াপাড়া বাজারে গড়ে উঠা অন্তত ২৫০টি অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।দুইদিনব্যাপী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুর রহমান।সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কোটি টাকার মূল্যমানের সরকারি খাসজমি।
জানা গেছে,কালিয়াপাড়া বাজারটি সরকারি হাটবাজার তালিকাভুক্ত হলেও বাজারটির ৩ একর ৪৮ শতক খাস জমির বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছিল স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ ও রাজনৈতিক প্রভাবের ছত্রছায়ায় তারা এই জায়গায় অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছিল।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে,বাজারের দখলকৃত স্থানে গড়ে উঠা প্রতিটি দোকানের ভাড়া এককালীন জামানতসহ লাখ টাকায় তুলে নেওয়া হতো।এমনকি দোকান বিক্রিও হয়েছে লাখ লাখ টাকায়।এই চক্রটি কয়েক কোটি টাকার অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
২০০৩-০৪ সালের দিকে তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন একবার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। সেসময় ব্যবসায়ীদের একসনা বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কিছুদিন পরেই সেই জমিতে পুনরায় দোকান নির্মাণ করে নেয় দখলদাররা।এরপর প্রায় দুই দশক ধরে চলে অবৈধ দখলের রাজত্ব।
এর প্রেক্ষিতে গত ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ‘কালিয়াপাড়া বাজার অধিকার রক্ষা আন্দোলন কমিটি’ অন্তত ১৯টি সরকারি দপ্তরে আবেদন করেছে। বিভাগীয় কমিশনার,জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-প্রত্যেকের দপ্তরে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন করা হয়।তবে ফল শূন্য। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন,লিজ দেবার নাম করে এবং উচ্ছেদ ঠেকানোর আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতারা।
“প্রতারণার পর প্রতারণা”:ব্যবসায়ীদের আর্তি
প্রায় হঠাৎ করে চলে আসা উচ্ছেদ অভিযানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাঁরা নিজের জমানো টাকা কিংবা ধার করে দোকান কিনে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন।
ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী নুসরাত উল্লাহ্ বলেন, “আমার দাদা,বাবা সবাই এখানে ব্যবসা করতো। সাবেক এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন আমাদের কাছে লিজের কথা বলে ৫৭ হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন। পরে ফেরত দিয়েছে মাত্র ১৬ হাজার। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম প্রশাসন আবার পিছিয়ে যাবে। কিন্তু এবার হঠাৎ এসে ভেঙে দিল সব।”
মুদি দোকানদার আল-আমিন মিয়া বলেন, “তিন লাখ টাকা দিয়ে কিছুদিন আগে দোকানটা কিনেছি। সংসার চালাচ্ছিলাম এই দোকানের আয় দিয়ে।এখন শেষ হয়ে গেলাম।এতটা হঠাৎ উচ্ছেদ হবে-ভাবতেও পারিনি।নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলো,শেষ পর্যন্ত সেটা ছিল ধোঁকা।”
নতুন করে ‘প্রভাবশালীদের’ তৎপরতা: আবারও লিজের নামে বাণিজ্যের শঙ্কা
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে যাচাই-বাছাই করে লিজ দেওয়া হবে;তবুও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।অনেকে অভিযোগ করেছেন,ভাঙা দোকানের ছবি ও পুরোনো কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় কিছু নেতা আবার তালিকা তৈরিতে নেমেছে। আইডি কার্ড,ছবি সংগ্রহের নামে তথ্য নিচ্ছে। ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে,প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা নয়-বরং নতুন করে কিছু সুবিধাভোগী আবার এই লিজপ্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন,“আমাদের ব্যবসার অধিকার লুটে নেওয়ার পর এখন আবার লিজের নামে নতুন করে চক্র গড়ে উঠছে। কিছু লোক ছবি ও পুরোনো কাগজপত্র ব্যবহার করে আইডি কার্ডসহ নানাবিধ তথ্য নিচ্ছে।আমাদের মতো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যেন বাদ পড়ে,সে আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।এই লিজও যদি নেতাদের মাধ্যমে বিক্রি হয়,তাহলে আমাদের পরের প্রতারিত হওয়ারই কথা।”
প্রশাসনের বক্তব্য: “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুর রহমান বলেন,“এটি তালিকাভুক্ত সরকারি হাটবাজার। দীর্ঘদিন অবৈধ দখল ছিল। বহুবার নোটিশ,মাইকিং করেও সাড়া না পেয়ে অভিযান চালানো হয়।”
তিনি বলেন,”প্রকৃত ব্যবসায়ীদের জন্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে-যার একটি বাজার কমিটি থেকে,অন্যটি স্থানীয় নায়েবের মাধ্যমে।যাচাই-বাছাই শেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লিজ দেওয়া হবে।তবে যারা দোকান বিক্রি করে দিয়েছেন,তারা আর এই লিজপ্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।”
ভূমি ব্যবস্থাপনায় বারবার ব্যর্থতা,কে নেবে দায়?
সরকারি খাস জমি উদ্ধারে এই অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়-দুই দশক ধরে অবৈধ দখলকারীরা কীভাবে কোটি টাকার বাজার চালিয়ে গেছে? কেন আগের অভিযান ফলপ্রসূ হয়নি?
আর যারা বছর ধরে ভাড়া দিয়ে এসেছে, তারা কি শুধুই ‘বোকা’? তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও কেন তারা আজ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,নান্দাইলের কালিয়াপাড়া বাজারের ঘটনা বাংলাদেশের স্থানীয় হাটবাজার ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও স্বেচ্ছাচারিতার একটি নিদর্শন। জমি দখলের রাজনীতি,প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অসহায় ব্যবসায়ীদের ব্যবহারের এই বৃত্ত থেকে যদি শিক্ষা না নেওয়া হয়- তবে একই দৃশ্য আমরা ভবিষ্যতেও বারবার দেখতে পাব। এজন্য প্রয়োজন, সুনির্দিষ্ট মনিটরিং, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার।
জনপ্রিয় সংবাদ

নান্দাইলে দীর্ঘ ‘দখলতন্ত্রের’ অবসান, সেনা-প্রশাসনের যৌথ অভিযানে উদ্ধার ১৫ কোটি টাকার খাস জমি

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
দুই দশকের অব্যাহত দখল,কোটি কোটি টাকার ভাড়া আদায়,ক্ষমতাসীনদের মদদ এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রতারণা ও আশ্বাসের ফাঁদ-সব কিছুর অবসান ঘটল এক ঝটিকায়।ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের প্রাচীন কালিয়াপাড়া বাজারে গড়ে উঠা অন্তত ২৫০টি অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।দুইদিনব্যাপী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুর রহমান।সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কোটি টাকার মূল্যমানের সরকারি খাসজমি।
জানা গেছে,কালিয়াপাড়া বাজারটি সরকারি হাটবাজার তালিকাভুক্ত হলেও বাজারটির ৩ একর ৪৮ শতক খাস জমির বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছিল স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ ও রাজনৈতিক প্রভাবের ছত্রছায়ায় তারা এই জায়গায় অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছিল।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে,বাজারের দখলকৃত স্থানে গড়ে উঠা প্রতিটি দোকানের ভাড়া এককালীন জামানতসহ লাখ টাকায় তুলে নেওয়া হতো।এমনকি দোকান বিক্রিও হয়েছে লাখ লাখ টাকায়।এই চক্রটি কয়েক কোটি টাকার অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
২০০৩-০৪ সালের দিকে তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন একবার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। সেসময় ব্যবসায়ীদের একসনা বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কিছুদিন পরেই সেই জমিতে পুনরায় দোকান নির্মাণ করে নেয় দখলদাররা।এরপর প্রায় দুই দশক ধরে চলে অবৈধ দখলের রাজত্ব।
এর প্রেক্ষিতে গত ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ‘কালিয়াপাড়া বাজার অধিকার রক্ষা আন্দোলন কমিটি’ অন্তত ১৯টি সরকারি দপ্তরে আবেদন করেছে। বিভাগীয় কমিশনার,জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-প্রত্যেকের দপ্তরে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন করা হয়।তবে ফল শূন্য। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন,লিজ দেবার নাম করে এবং উচ্ছেদ ঠেকানোর আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতারা।
“প্রতারণার পর প্রতারণা”:ব্যবসায়ীদের আর্তি
প্রায় হঠাৎ করে চলে আসা উচ্ছেদ অভিযানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাঁরা নিজের জমানো টাকা কিংবা ধার করে দোকান কিনে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন।
ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী নুসরাত উল্লাহ্ বলেন, “আমার দাদা,বাবা সবাই এখানে ব্যবসা করতো। সাবেক এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন আমাদের কাছে লিজের কথা বলে ৫৭ হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন। পরে ফেরত দিয়েছে মাত্র ১৬ হাজার। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম প্রশাসন আবার পিছিয়ে যাবে। কিন্তু এবার হঠাৎ এসে ভেঙে দিল সব।”
মুদি দোকানদার আল-আমিন মিয়া বলেন, “তিন লাখ টাকা দিয়ে কিছুদিন আগে দোকানটা কিনেছি। সংসার চালাচ্ছিলাম এই দোকানের আয় দিয়ে।এখন শেষ হয়ে গেলাম।এতটা হঠাৎ উচ্ছেদ হবে-ভাবতেও পারিনি।নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলো,শেষ পর্যন্ত সেটা ছিল ধোঁকা।”
নতুন করে ‘প্রভাবশালীদের’ তৎপরতা: আবারও লিজের নামে বাণিজ্যের শঙ্কা
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে যাচাই-বাছাই করে লিজ দেওয়া হবে;তবুও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।অনেকে অভিযোগ করেছেন,ভাঙা দোকানের ছবি ও পুরোনো কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় কিছু নেতা আবার তালিকা তৈরিতে নেমেছে। আইডি কার্ড,ছবি সংগ্রহের নামে তথ্য নিচ্ছে। ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে,প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা নয়-বরং নতুন করে কিছু সুবিধাভোগী আবার এই লিজপ্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন,“আমাদের ব্যবসার অধিকার লুটে নেওয়ার পর এখন আবার লিজের নামে নতুন করে চক্র গড়ে উঠছে। কিছু লোক ছবি ও পুরোনো কাগজপত্র ব্যবহার করে আইডি কার্ডসহ নানাবিধ তথ্য নিচ্ছে।আমাদের মতো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যেন বাদ পড়ে,সে আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।এই লিজও যদি নেতাদের মাধ্যমে বিক্রি হয়,তাহলে আমাদের পরের প্রতারিত হওয়ারই কথা।”
প্রশাসনের বক্তব্য: “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুর রহমান বলেন,“এটি তালিকাভুক্ত সরকারি হাটবাজার। দীর্ঘদিন অবৈধ দখল ছিল। বহুবার নোটিশ,মাইকিং করেও সাড়া না পেয়ে অভিযান চালানো হয়।”
তিনি বলেন,”প্রকৃত ব্যবসায়ীদের জন্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে-যার একটি বাজার কমিটি থেকে,অন্যটি স্থানীয় নায়েবের মাধ্যমে।যাচাই-বাছাই শেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লিজ দেওয়া হবে।তবে যারা দোকান বিক্রি করে দিয়েছেন,তারা আর এই লিজপ্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।”
ভূমি ব্যবস্থাপনায় বারবার ব্যর্থতা,কে নেবে দায়?
সরকারি খাস জমি উদ্ধারে এই অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়-দুই দশক ধরে অবৈধ দখলকারীরা কীভাবে কোটি টাকার বাজার চালিয়ে গেছে? কেন আগের অভিযান ফলপ্রসূ হয়নি?
আর যারা বছর ধরে ভাড়া দিয়ে এসেছে, তারা কি শুধুই ‘বোকা’? তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও কেন তারা আজ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,নান্দাইলের কালিয়াপাড়া বাজারের ঘটনা বাংলাদেশের স্থানীয় হাটবাজার ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও স্বেচ্ছাচারিতার একটি নিদর্শন। জমি দখলের রাজনীতি,প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অসহায় ব্যবসায়ীদের ব্যবহারের এই বৃত্ত থেকে যদি শিক্ষা না নেওয়া হয়- তবে একই দৃশ্য আমরা ভবিষ্যতেও বারবার দেখতে পাব। এজন্য প্রয়োজন, সুনির্দিষ্ট মনিটরিং, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার।