১২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে নানা অপরাধে জড়িত বিএনপির ৩ নেতার পদ স্থগিত

যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।
তারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম সাগর, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমীর হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আমিন উদ্দীন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অনিয়মের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বুধবার (২৫ জুন) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। তাদের সাথে দলীয়
নেতাকর্মীর কোন সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে বিএনপি নেতা আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর ও আমিন হোসেন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তারা এফএমবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল পুরাতন ভবনের লোহার দরজা, জানালা ও লোহার রড বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এছাড়া ভাঙা ভবনের ইট সুড়কি আমির হোসেনের বাড়ির রাস্তায় ব্যবহার করে। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। যশোর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে।
এদিকে, ফরিদপুর গ্রামের লুৎফর রহমান ঢাকার “মেসার্স স্মার্ট কনসালটেন্সী” নামক একটি ট্যাভেল এজেন্সীতে চাকরি করেন। এই চাকরির সুবাধে তার সাথে পরিচয় ঘটে যশোর শহরের ষষ্টিতলাপাড়ার কামরুল হাসানের। কামরুল হাসান তার ছেলেকে কানাডাতে পাঠানোর জন্য ওই এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। পরে কামরুল হাসান তার ছেলেকে না পাঠিয়ে নিজেই বিদেশ যাবেন বলে জানান দেন। এ জন্য কামরুল হাসান প্রথমে এক লাখ পরে আরও এক লাখ ৯০ হাজার টাকা দেন কোম্পানিকে। এরপর কোম্পানির চুক্তি মোতাবেক বাকি টাকা না দিয়ে উল্টো টালবাহানা শুরু করেন। চুক্তি মোতাবেক কামরুল হাসান টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিকে বলে দেন তিনি বিদেশে যাবেন না। কিন্তু কিছু দিন গড়াতেই লুৎফর রহমানের কাছে টাকা দাবি করেন কামরুল।
গত ৮ জুন কামরুল হাসান দেয়াড়ার
বিএনপির নেতা আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর, আমিন উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে লুৎফর রহমানের বাড়ি যান। এদিন তারা টাকা ফেরত দেবার জন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে আসেন। পরে ১১ জুন লুৎফর রহমানকে
জিম্মি করে তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেন।
এসব কু কর্ম ফাঁস হওয়ার পর তাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপির বদনাম হতে থাকে। তাদের বহিষ্কারের দাবিতে অন্য নেতা-কর্মীরা সোচ্চার হয়। বিষয়টি জেলা-উপজেলা নেতাদের কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক নেতা জানান, বিএনপি নেতা আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর ও আমিন হোসেন দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মানতেন না। তাদের পদ স্থগিত করায় অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই নেতার মত অনেকের দাবি আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর ও আমিন হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। তাহলে দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপিতে স্বস্তি ফিরে আসবে।
যশোর জেলা বিএনপির এক নেতা জানান, দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হাই কমান্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দলের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা আদায়কারীদের ছাড় দেয়া হবে না। দলীয়
শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের দলে ঠাঁই নেই। নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর ও আমিন হোসেনের  পদ স্থগিত হয়েছে। এরপরও না শুধরালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে নানা অপরাধে জড়িত বিএনপির ৩ নেতার পদ স্থগিত

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।
তারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম সাগর, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমীর হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আমিন উদ্দীন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অনিয়মের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বুধবার (২৫ জুন) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। তাদের সাথে দলীয়
নেতাকর্মীর কোন সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে বিএনপি নেতা আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর ও আমিন হোসেন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তারা এফএমবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল পুরাতন ভবনের লোহার দরজা, জানালা ও লোহার রড বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এছাড়া ভাঙা ভবনের ইট সুড়কি আমির হোসেনের বাড়ির রাস্তায় ব্যবহার করে। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। যশোর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে।
এদিকে, ফরিদপুর গ্রামের লুৎফর রহমান ঢাকার “মেসার্স স্মার্ট কনসালটেন্সী” নামক একটি ট্যাভেল এজেন্সীতে চাকরি করেন। এই চাকরির সুবাধে তার সাথে পরিচয় ঘটে যশোর শহরের ষষ্টিতলাপাড়ার কামরুল হাসানের। কামরুল হাসান তার ছেলেকে কানাডাতে পাঠানোর জন্য ওই এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। পরে কামরুল হাসান তার ছেলেকে না পাঠিয়ে নিজেই বিদেশ যাবেন বলে জানান দেন। এ জন্য কামরুল হাসান প্রথমে এক লাখ পরে আরও এক লাখ ৯০ হাজার টাকা দেন কোম্পানিকে। এরপর কোম্পানির চুক্তি মোতাবেক বাকি টাকা না দিয়ে উল্টো টালবাহানা শুরু করেন। চুক্তি মোতাবেক কামরুল হাসান টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিকে বলে দেন তিনি বিদেশে যাবেন না। কিন্তু কিছু দিন গড়াতেই লুৎফর রহমানের কাছে টাকা দাবি করেন কামরুল।
গত ৮ জুন কামরুল হাসান দেয়াড়ার
বিএনপির নেতা আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর, আমিন উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে লুৎফর রহমানের বাড়ি যান। এদিন তারা টাকা ফেরত দেবার জন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে আসেন। পরে ১১ জুন লুৎফর রহমানকে
জিম্মি করে তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেন।
এসব কু কর্ম ফাঁস হওয়ার পর তাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপির বদনাম হতে থাকে। তাদের বহিষ্কারের দাবিতে অন্য নেতা-কর্মীরা সোচ্চার হয়। বিষয়টি জেলা-উপজেলা নেতাদের কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক নেতা জানান, বিএনপি নেতা আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর ও আমিন হোসেন দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মানতেন না। তাদের পদ স্থগিত করায় অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই নেতার মত অনেকের দাবি আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর ও আমিন হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। তাহলে দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপিতে স্বস্তি ফিরে আসবে।
যশোর জেলা বিএনপির এক নেতা জানান, দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হাই কমান্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দলের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা আদায়কারীদের ছাড় দেয়া হবে না। দলীয়
শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের দলে ঠাঁই নেই। নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আমির হোসেন, শাহ আলম সাগর ও আমিন হোসেনের  পদ স্থগিত হয়েছে। এরপরও না শুধরালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।