১২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ক্রিকেটারদের

বাংলাদেশ যেভাবে ক্রিকেট খেলছে তাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়েই শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। টেস্ট ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের সাথে হার, ওয়ানডে ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার সাথে সিরিজ হার। টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ এমনিতেও ছোট দল হিসেবে পরিচিত। কিছু দিন আগে পাকিস্তানের রমিজ রাজা মিরাজদের ক্রিকেট নিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ প্রথমে কিছু ভুল করে। তারপর আরও নতুন কিছু ভুল। সেখান থেকে তারা আরও নতুন নতুন ভুল করে।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছে। বিসিবির নতুন সভাপতি বুলবুল আহমেদও বলেছেন ক্রিকেটারদের সমস্যা মানসিকতায়। মাঝে মাঝে বাংলাদেশের পেস বোলাররা কিছু ম্যাচ জিতিয়েছে। কিন্ত আমাদের ব্যাটসম্যানরা জানে না কিভাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে হয়। কিভাবে ওয়ানডে খেলতে হয় বা কিভাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে হয়। ব্যাটসম্যানদের ফুটওয়ার্ক ঠিক নেই। লেগ সাইড ওরিয়েন্টেড খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেটে রান পেলেও আন্তর্জাতিক খেলায় ব্যর্থ হচ্ছেন। নিজেরা নিজেদের জন্য ইনভেস্ট করে না। হাসারাঙ্গা-থিকসানার গুগলি, স্পিন বা টপস্পিন তারা বুঝতে পারে না। ব্যাট ও প্যাডের মাঝে আকাশ-পাতাল ফাঁক। সেই ফাঁক দিয়েই আউট হচ্ছেন শান্ত-হৃদয়রা।

মাঝের ওভার গুলোতে কেউই ভালো করে স্ট্রাইক রোটেড করতে পারেনা। ছক্কা মারতে গিয়ে বা বাজে শটস খেলতে গিয়ে তারা আউট হচ্ছে। মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল বা সাকিব আল হাসানদের পরের জেনারেশন হওয়া উচিত ছিলো তাদের ছাড়িয়ে যাওয়া। অথচ হৃদয়-শান্ত-শামীম হোসেনরা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতকেই হুমকিতে ফেলে দিচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে জয়ের ধারায় ফিরে আসার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পারফরমেন্সের উন্নতির আশা করছে। আজ ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হবে।

টি-টোয়েন্টি ফর্মেটে গত পাঁচ ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। যদিও গত বছরের শেষের দিকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর, বাংলাদেশ এই ফরমেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশা করছে। তবে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের হতাশা পুরো দলকে ভুগিয়েছে। পরের সপ্তাহেই পাকিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইট ওয়াশ হতে হয়। এই ফর্মেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পাওয়ার-হিটিং দক্ষতা সবসময়ই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আইসিসির সহযোগী দেশ আরব আমিরাতের বিপক্ষে বিষয়টি আরো বেশী করে সামনে এসেছে। ঐ সিরিজের পর থেকে ভিন্ন ট্রেনিং সেশনে ব্যাটসম্যানরা পাওয়ার-হিটিং নিয়ে কাজ করেছে।

বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছেন যেকোন ফর্মেটেই পার্টনারশীপ গড়ে তোলা দলকে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। তার মতে বড় পার্টনারশীপের অভাবেই বাংলাদেশকে ওয়ানডে সিরিজে হারতে হয়েছে। গতকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে পরাজয়ের পর এ সম্পর্কে মিরাজ বলেন, ‘সেট হবার আগেই আমরা দ্রুত উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছি। খুব বেশীদুর ব্যাটসম্যানরা যেতে পারেনি। আমাদের অবশ্যই এই দিকটি নিয়ে কাজ করতে হবে। এটা যেকোন ফর্মেটের ক্রিকেটের জন্য অপরিহার্য্য। যখন আমি ও হৃদয় ব্যাটিংয়ের ছিলাম তখন অনেকটাই ম্যাচের আবহ বুঝে ফেলেছিলাম। ঐ মুহূর্তে আমি আউট হয়ে যাই, আর এতে ম্যাচের গতি নষ্ট হয়েছে। বড় পার্টনারশীপ আর গড়ে উঠেনি। পার্টনারশীপে স্ট্রাইক রোটেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী মিরাজদের এমন বাজে ব্যাটিংয়ের কারণ খুঁজেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির পরিচালক আকরাম খান। গতকাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আকরাম বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে, স্বাভাবিক যে ক্রিকেটটা, যেটা আমরা ঢাকা লিগে খেলি বা এখানে খেলি, সেটা খেলছে না। হয়তো ওভার কনসাস (অতিরিক্ত সতর্কতা)। আমার কাছে মনে হচ্ছে না যে, তারা মানসিকভাবে ফিট। হয়তো অনেক চাপ নিয়ে নিচ্ছে।’ তবে ক্রিকেটারদের চাপ নেওয়ার কারণ বুঝতে পারছেন না আকরাম, ‘দূর থেকে খেলা দেখে আমার মনে হচ্ছে, খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত চাপে থাকে। কিসের জন্য চাপে থাকে, আমি জানি না। কিন্তু আপনি বেশি চাপে থাকলে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। ওদের ব্যাটিং স্টাইল দেখে, কিছু ভুল দেখে, মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে না তারা স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলছে।’ সম্প্রতি তাওহীদ হৃদয় রান আউট হওয়ার পর ব্যাট ছুঁড়ে মারেন সেটা ইঙ্গিত করে আকরাম বলেন, ‘কিছু অ্যাটিটিউডও আছে, যেগুলো দলে প্রভাব ফেলে। কেউ রান আউট হয়ে এমন অ্যাটিটিউড করছে, এখানে কিন্তু কেউ সেরা খেলোয়াড় না, যারা খেলে সবাই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এসব করলে টিম কিন্তু দিন দিন নেগেটিভ দিকেই যাবে। প্রোপার ক্রিকেট খেলতে হলে আপনাকে সবকিছুতেই উন্নতি করতে হবে।’

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ক্রিকেটারদের

আপডেট সময় : ১২:৫২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশ যেভাবে ক্রিকেট খেলছে তাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়েই শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। টেস্ট ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের সাথে হার, ওয়ানডে ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার সাথে সিরিজ হার। টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ এমনিতেও ছোট দল হিসেবে পরিচিত। কিছু দিন আগে পাকিস্তানের রমিজ রাজা মিরাজদের ক্রিকেট নিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ প্রথমে কিছু ভুল করে। তারপর আরও নতুন কিছু ভুল। সেখান থেকে তারা আরও নতুন নতুন ভুল করে।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছে। বিসিবির নতুন সভাপতি বুলবুল আহমেদও বলেছেন ক্রিকেটারদের সমস্যা মানসিকতায়। মাঝে মাঝে বাংলাদেশের পেস বোলাররা কিছু ম্যাচ জিতিয়েছে। কিন্ত আমাদের ব্যাটসম্যানরা জানে না কিভাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে হয়। কিভাবে ওয়ানডে খেলতে হয় বা কিভাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে হয়। ব্যাটসম্যানদের ফুটওয়ার্ক ঠিক নেই। লেগ সাইড ওরিয়েন্টেড খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেটে রান পেলেও আন্তর্জাতিক খেলায় ব্যর্থ হচ্ছেন। নিজেরা নিজেদের জন্য ইনভেস্ট করে না। হাসারাঙ্গা-থিকসানার গুগলি, স্পিন বা টপস্পিন তারা বুঝতে পারে না। ব্যাট ও প্যাডের মাঝে আকাশ-পাতাল ফাঁক। সেই ফাঁক দিয়েই আউট হচ্ছেন শান্ত-হৃদয়রা।

মাঝের ওভার গুলোতে কেউই ভালো করে স্ট্রাইক রোটেড করতে পারেনা। ছক্কা মারতে গিয়ে বা বাজে শটস খেলতে গিয়ে তারা আউট হচ্ছে। মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল বা সাকিব আল হাসানদের পরের জেনারেশন হওয়া উচিত ছিলো তাদের ছাড়িয়ে যাওয়া। অথচ হৃদয়-শান্ত-শামীম হোসেনরা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতকেই হুমকিতে ফেলে দিচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে জয়ের ধারায় ফিরে আসার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পারফরমেন্সের উন্নতির আশা করছে। আজ ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হবে।

টি-টোয়েন্টি ফর্মেটে গত পাঁচ ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। যদিও গত বছরের শেষের দিকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর, বাংলাদেশ এই ফরমেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশা করছে। তবে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের হতাশা পুরো দলকে ভুগিয়েছে। পরের সপ্তাহেই পাকিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইট ওয়াশ হতে হয়। এই ফর্মেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পাওয়ার-হিটিং দক্ষতা সবসময়ই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আইসিসির সহযোগী দেশ আরব আমিরাতের বিপক্ষে বিষয়টি আরো বেশী করে সামনে এসেছে। ঐ সিরিজের পর থেকে ভিন্ন ট্রেনিং সেশনে ব্যাটসম্যানরা পাওয়ার-হিটিং নিয়ে কাজ করেছে।

বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছেন যেকোন ফর্মেটেই পার্টনারশীপ গড়ে তোলা দলকে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। তার মতে বড় পার্টনারশীপের অভাবেই বাংলাদেশকে ওয়ানডে সিরিজে হারতে হয়েছে। গতকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে পরাজয়ের পর এ সম্পর্কে মিরাজ বলেন, ‘সেট হবার আগেই আমরা দ্রুত উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছি। খুব বেশীদুর ব্যাটসম্যানরা যেতে পারেনি। আমাদের অবশ্যই এই দিকটি নিয়ে কাজ করতে হবে। এটা যেকোন ফর্মেটের ক্রিকেটের জন্য অপরিহার্য্য। যখন আমি ও হৃদয় ব্যাটিংয়ের ছিলাম তখন অনেকটাই ম্যাচের আবহ বুঝে ফেলেছিলাম। ঐ মুহূর্তে আমি আউট হয়ে যাই, আর এতে ম্যাচের গতি নষ্ট হয়েছে। বড় পার্টনারশীপ আর গড়ে উঠেনি। পার্টনারশীপে স্ট্রাইক রোটেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী মিরাজদের এমন বাজে ব্যাটিংয়ের কারণ খুঁজেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির পরিচালক আকরাম খান। গতকাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আকরাম বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে, স্বাভাবিক যে ক্রিকেটটা, যেটা আমরা ঢাকা লিগে খেলি বা এখানে খেলি, সেটা খেলছে না। হয়তো ওভার কনসাস (অতিরিক্ত সতর্কতা)। আমার কাছে মনে হচ্ছে না যে, তারা মানসিকভাবে ফিট। হয়তো অনেক চাপ নিয়ে নিচ্ছে।’ তবে ক্রিকেটারদের চাপ নেওয়ার কারণ বুঝতে পারছেন না আকরাম, ‘দূর থেকে খেলা দেখে আমার মনে হচ্ছে, খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত চাপে থাকে। কিসের জন্য চাপে থাকে, আমি জানি না। কিন্তু আপনি বেশি চাপে থাকলে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। ওদের ব্যাটিং স্টাইল দেখে, কিছু ভুল দেখে, মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে না তারা স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলছে।’ সম্প্রতি তাওহীদ হৃদয় রান আউট হওয়ার পর ব্যাট ছুঁড়ে মারেন সেটা ইঙ্গিত করে আকরাম বলেন, ‘কিছু অ্যাটিটিউডও আছে, যেগুলো দলে প্রভাব ফেলে। কেউ রান আউট হয়ে এমন অ্যাটিটিউড করছে, এখানে কিন্তু কেউ সেরা খেলোয়াড় না, যারা খেলে সবাই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এসব করলে টিম কিন্তু দিন দিন নেগেটিভ দিকেই যাবে। প্রোপার ক্রিকেট খেলতে হলে আপনাকে সবকিছুতেই উন্নতি করতে হবে।’