১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওষুধ শিল্পে ক্ষতি ২০০ কোটির কার্গো ভিলেজে আগুন

পুড়ে গেছে অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ক্যানসার জাতীয় ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল
অক্ষত মালামালের তালিকা টানিয়েছে বিমান, খুঁজছেন মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শীর্ষ ৪৫টি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল। এতে জীবনরক্ষাকারী এসব ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি)। তাদের ধারণা, এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় চার হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতেও ওষুধের দাম বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতি’। এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফার্মা খাতের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সংকট এড়াতে এবং এ খাতের সুরক্ষায় সরকারের কাছে ১৪টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় (অগ্নিকাণ্ড) মূল্যবৃদ্ধি বা সংকট তৈরির সঙ্গে আমরা যুক্ত নই। আমরা এটা করব না। মূল্যও বৃদ্ধি হবে না, ওষুধের সংকটও হবে না। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফার্মা খাতের ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির ১৪ দাবির মধ্যে আছে আগুনে পুড়ে যাওয়া এবং ইতিমধ্যে শুল্ক, ডিউটি, ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রদান করা পণ্যের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের এলসি সংক্রান্ত ব্যাংক চার্জ ও সুদ মওকুফ। পুনরায় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক মার্জিন, চার্জ ও সুদ ছাড়াই সহজ শর্তে এলসি খোলার সুযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের বিপরীতে ধার্য কাস্টম ডিউটি, ভ্যাট, অগ্রিম আয়করসহ সব ধরনের চার্জ ও দণ্ড মওকুফ। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের কারণে বিন লক না করে উৎপাদনব্যবস্থাকে সচল রাখতে কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ। নারকোটিকস অনুমোদিত পণ্য পুনরায় দ্রুত আমদানির অনুমতি। ডিজিডিএ, নারকোটিকস, কাস্টমস, এনবিআর, বিমান কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে জরুরি সভা ডেকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ। এ ছাড়া ওষুধশিল্পের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শাখায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষের ব্যবস্থা করা ও রাসায়নিকের জন্য আলাদা গুদাম করার দাবিও জানানো হয়।
এদিকে, লিখিত বক্তব্যে মো. জাকির হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামাল ভস্মীভূত হওয়ার ওষুধশিল্প বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন ফার্মা কোম্পানি থেকে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে শীর্ষ ৪৫টি কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিক, ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ছিল। তিনি জানান, এসব কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ায় উল্লিখিত ওষুধ উৎপাদন যেমন ব্যহত হবে, তেমনি বেশ কিছু স্পেয়ার পার্টস ও মেশিনারিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ওষুধ প্রস্তুতকরণে পুনরায় আমদানিও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এতে এর সঙ্গে সংযুক্ত উৎপাদনপ্রক্রিয়াও ব্যহত যাবে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পুড়ে যাওয়া পণ্যের একটি বড় অংশ হলো নারকোটিস বিভাগ থেকে অনুমোদন নেওয়া পণ্য। এই পণ্যগুলো আবার আনা যেমন জটিল, তেমনি সময়সাপেক্ষও। কারণ, এখানে ধাপে ধাপে অনেক ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়। তাই এ নিয়েও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন। এ সময় সমিতির সহসভাপতি সৈয়দ কায়সার কবীর, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওষুধ শিল্পে ক্ষতি ২০০ কোটির কার্গো ভিলেজে আগুন

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

পুড়ে গেছে অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ক্যানসার জাতীয় ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল
অক্ষত মালামালের তালিকা টানিয়েছে বিমান, খুঁজছেন মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শীর্ষ ৪৫টি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল। এতে জীবনরক্ষাকারী এসব ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি)। তাদের ধারণা, এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় চার হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতেও ওষুধের দাম বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতি’। এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফার্মা খাতের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সংকট এড়াতে এবং এ খাতের সুরক্ষায় সরকারের কাছে ১৪টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় (অগ্নিকাণ্ড) মূল্যবৃদ্ধি বা সংকট তৈরির সঙ্গে আমরা যুক্ত নই। আমরা এটা করব না। মূল্যও বৃদ্ধি হবে না, ওষুধের সংকটও হবে না। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফার্মা খাতের ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির ১৪ দাবির মধ্যে আছে আগুনে পুড়ে যাওয়া এবং ইতিমধ্যে শুল্ক, ডিউটি, ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রদান করা পণ্যের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের এলসি সংক্রান্ত ব্যাংক চার্জ ও সুদ মওকুফ। পুনরায় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক মার্জিন, চার্জ ও সুদ ছাড়াই সহজ শর্তে এলসি খোলার সুযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের বিপরীতে ধার্য কাস্টম ডিউটি, ভ্যাট, অগ্রিম আয়করসহ সব ধরনের চার্জ ও দণ্ড মওকুফ। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের কারণে বিন লক না করে উৎপাদনব্যবস্থাকে সচল রাখতে কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ। নারকোটিকস অনুমোদিত পণ্য পুনরায় দ্রুত আমদানির অনুমতি। ডিজিডিএ, নারকোটিকস, কাস্টমস, এনবিআর, বিমান কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে জরুরি সভা ডেকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ। এ ছাড়া ওষুধশিল্পের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শাখায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষের ব্যবস্থা করা ও রাসায়নিকের জন্য আলাদা গুদাম করার দাবিও জানানো হয়।
এদিকে, লিখিত বক্তব্যে মো. জাকির হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামাল ভস্মীভূত হওয়ার ওষুধশিল্প বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন ফার্মা কোম্পানি থেকে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে শীর্ষ ৪৫টি কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিক, ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ছিল। তিনি জানান, এসব কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ায় উল্লিখিত ওষুধ উৎপাদন যেমন ব্যহত হবে, তেমনি বেশ কিছু স্পেয়ার পার্টস ও মেশিনারিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ওষুধ প্রস্তুতকরণে পুনরায় আমদানিও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এতে এর সঙ্গে সংযুক্ত উৎপাদনপ্রক্রিয়াও ব্যহত যাবে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পুড়ে যাওয়া পণ্যের একটি বড় অংশ হলো নারকোটিস বিভাগ থেকে অনুমোদন নেওয়া পণ্য। এই পণ্যগুলো আবার আনা যেমন জটিল, তেমনি সময়সাপেক্ষও। কারণ, এখানে ধাপে ধাপে অনেক ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়। তাই এ নিয়েও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন। এ সময় সমিতির সহসভাপতি সৈয়দ কায়সার কবীর, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।