০৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকাশছোঁয়া এলপিজি’র সিলিন্ডার

* সরবরাহ সংকটে বন্ধ খুচরা দোকান, পাইকাররা উধাও
* মিলছে না স্বস্তি, সরকারি অভিযানে গ্রাহকরা হতাশ
* প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়

‘কিছু খুচরা বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি’
– মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)

‘বাজারে সংকট নেই, এরপরও যারা নিয়মিত আমদানি করছে, তাদের আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার তদারকির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে’
– মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী, যুগ্ম সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়

 

দফায় দফায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিলেও এখনও এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের চলমান অভিযানেও মিলছে না স্বস্তি। হতাশায় ধুকছেন ভোক্তারা। দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের খুচরা দোকানিরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। শহর ছাপিয়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এলপিজি ডিলার বা পাইকারও হঠাৎ করেই মার্কেট থেকে উধাও হয়ে গেছেন। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বল্প কয়েকটি দোকানে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গৃহিনী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। আকাশছোঁয়ায় পৌঁছেছে এলপিজি সিলিন্ডার। সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত এ পণ্যটি ক্রয় ক্ষমতা আর সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রাহকরা। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলছেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়াছে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলছেন, ‘বাজারে এলপিজি’র কোনো সংকট নেই, এরপরও যারা নিয়মিত আমদানি করছে, তাদের আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার তদারকির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযানও চলছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগসহ কয়েকটি এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দোকানগুলোতে সাঁটার বন্ধ। বাইরে তালা ঝুলছে। দোকানিরাও গা ঢাকা দিয়েছে। ওইসব দোকন ঘিরে নিত্যপণ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত জরুরি প্রয়োজনীয় জ¦ালানি এলপিজি সিলিন্ডার সংগ্রহের জন্য ভোক্তারা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হুঁ হুঁ করে বাড়ছে। এর মধ্যেই আবাসিক বাসার তিতাসের পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ নেই। ঘরে বিকল্প থাকা সিলিন্ডারের গ্যাসও শেষ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সারাদিন দোকানে ফোন করেও কোনও এলপিজি পায়নি ভোক্তারা। এর আগে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) দোকানি নিজেই ফোন করে ভোক্তাদের জানিয়েছেন, ডিলার বা পাইকাররা সংকটের অজুহাতে দাম বাড়িয়ে এলপিজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, ফলে বাড়তি দামে তাদের কিনে আনতে হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা। এতে কেউ কেউ সন্তুষ্টি হলেও অনেকেই ছিলেন ক্ষুব্ধ। এরপর রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকেই ফের বন্ধ হয়ে যায় সব দোকান। কিছু কিছু দোকান খোলা থাকলেও ছিল না এলপিজি ভর্তি সিলিন্ডার। দিন গড়িয়ে ৩ দিন না পেরোতেই ২ হাজার ৫০০ করে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হাঁকেন দোকানিরা। নিরুপায় হয়ে অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে সেই বাড়তি মূল্যেই সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হন। এভাবেই ১২ কেজির এক সিলিন্ডার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) জোগাড়ের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা কাজী মিলি। তবে এই ভোগান্তি শুধু তার একার নয়।

এদিকে বয়সের ভারে নতজানু চা দোকানি হতদরিদ্র সিদ্দিকুর রহমান। দেহে বাসা বেঁধেছে নানা রোগব্যাধি। হাত পাতারও অভ্যাস নেই তার। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ সদস্যের সংসার। দুই রুমের ছোট্ট একটি ফ্ল্যাট নিয়ে ভাড়ায় থাকেন পুরান ঢাকার লালবাগের নবাবগঞ্জ এলাকায়। টানাপোড়েনের জীবন-সংসার চালাতে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে চা বিক্রি করছেন এক যুগ ধরে। চা তৈরি করতে অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে ১২ কেজি’র এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসও ব্যবহার করতে হয় তাকে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে সিন্ডিকেটের কালো থাবায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা চালানো নিয়ে রীতিমতো তার কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ভোক্তার চাহিদা থাকলেও আকাশছোঁয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দামে ঠিকমত ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতা দোকানগুলো বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। ডিলার বা পাইকারী ব্যবসায়ীরাও হঠাৎ করেই উধাও। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ২৫০০ টাকায় কিনতে হলেও মাইলের পর মাইল হেঁটে বিক্রেতাদের দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে তাকে।
তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, মহল্লাভিত্তিক চায়ের দোকান আমার। এখানে নিম্ন আয়ের মানুষ। পেশায় অধিকাংশই শ্রমিক, দিনমজুর। আগে প্রতিকাপ চা ৫ টাকা নিতাম। তখন একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ছিল ১২৫০ টাকা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫০০ টাকায়ও মিলছে না। অনেক পথ হেঁটে সিলিন্ডার আনলেও চায়ের দাম ৭টাকা চাইলেই ক্রেতারা তেড়ে আসেন। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। নিরুপায় হয়ে লোকসানই গুণতে হচ্ছে। শুধু সিদ্দিকুর রহমানই নয়, মেগা সিটি ঢাকার প্রায় সব এলাকায়ই একই অবস্থা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করছেন। ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, সরকার দাম নির্ধারণও করে দিয়েছেন, কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারদের ওপর দায় চাপিয়ে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছেন। সরকারের চলমান অভিযানেও হতাশা প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলপিজির সংকট দেখিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের কার্যত জিম্মি করে বাড়তি দাম আদায় করছেন। বাজার থেকে উধাও রয়েছেন ডিলার বা পাইকারী ব্যবসায়ীরা।
উত্তরার বাসিন্দা হাসিনা ইসলাম বলেন, তিনি দুই মাস পর পর ৩৫ কেজির একটি সিলিন্ডার কেনেন। জানুয়ারি মাসে এই সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ৩ হাজার ৮০৯ টাকা। কিন্তু এই মাসে তিনি সিলিন্ডারই পাচ্ছেন না। দোকানদার জানিয়েছেন গ্যাস নেই, বাড়তি দাম দিলে চেষ্টা করে দেখবেন।
মানিকদির বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রানু আক্তার জানান, তার বাসায় পাইপলাইনের গ্যাস থাকলেও চুলা জ্বলে না। তাই বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। কিন্তু এখন সেই এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও দাম আকাশছোঁয়া। তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকায়।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ সোলায়মান মিয়া দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ তিনি সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এখন সেই একই সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার প্রশ্ন, এভাবে দাম বাড়ে কীভাবে?
ফেনীতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, টিভিতে দাম ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না। ক্রেতা ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। মেহেরুন নেসা বলেন, তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।
পরিবেশক রবিন বলেন, গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। ট্রাংক রোডের নবাব বিরিয়ানি হাউজের স্বত্বাধিকারী অভিযোগ করেন, দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।
ওমেরা এলপিজির পরিবেশক সাইফুল ইসলাম ফটিক বলেন, ওমেরা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর গত ৬ জানুয়ারি ফেনী শহরের পোস্ট অফিস রোডে বিপ্লব ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। দাগনভূঁঞায় এক ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে।
গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, এলাকাভেদে এলপিজির দাম ভিন্ন ভিন্ন। শুধু বাড়তি দাম নয়, অনেক এলাকায় সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু এলপিজি সিলিন্ডারে করে পরিবহন করা হয়, তাই মানুষ সাধারণত নিজ এলাকার দোকান থেকেই গ্যাস সংগ্রহ করে। সংকটের কথা বলে দাম নিয়ে দরকষাকষি করলে অনেক দোকানদারই জানিয়ে দেন এলপিজি নেই।
এলপিজির বাড়তি দামের সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে গত ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারও প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বৈঠক শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে একে অপরের প্রতি অনুরোধ জানায় সরকার ও এলপিজি সরবরাহকারীরা। তবে একে অপরের ওপর দায়িত্ব চাপানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব উভয় পক্ষের হলেও কেউই কার্যকরভাবে তা করতে পারছে না।
যদিও মাঠপর্যায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সীমিত পরিসরে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গত দুই মাসে যে পরিমাণ এলপিজি আমদানি হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। তাহলে বাজারে সংকট কেন, তা অনুসন্ধান করা জরুরি বলে মনে করছেন জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি সিলিন্ডার মজুত করে রেখেছেন কিনা, কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে চাইলে সেই তথ্য যাচাই করা সম্ভব।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাজার তদারকিতে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।
বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বাজারে বাড়তি দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, আমদানির পরিমাণ বিবেচনায় কোনও সংকট নেই। তবে, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর কিছু অপারেটর আমদানি কমিয়ে দিয়েছে বলেও তিনি জানান। যারা নিয়মিত আমদানি করছে, তাদের আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার তদারকির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

দাঁড়িপাল্লা-মাহফিল নিয়ে দেওয়া আরেক জামায়াত নেতার বক্তব্য ভাইরাল

আকাশছোঁয়া এলপিজি’র সিলিন্ডার

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

* সরবরাহ সংকটে বন্ধ খুচরা দোকান, পাইকাররা উধাও
* মিলছে না স্বস্তি, সরকারি অভিযানে গ্রাহকরা হতাশ
* প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়

‘কিছু খুচরা বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি’
– মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)

‘বাজারে সংকট নেই, এরপরও যারা নিয়মিত আমদানি করছে, তাদের আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার তদারকির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে’
– মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী, যুগ্ম সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়

 

দফায় দফায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিলেও এখনও এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের চলমান অভিযানেও মিলছে না স্বস্তি। হতাশায় ধুকছেন ভোক্তারা। দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের খুচরা দোকানিরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। শহর ছাপিয়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এলপিজি ডিলার বা পাইকারও হঠাৎ করেই মার্কেট থেকে উধাও হয়ে গেছেন। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বল্প কয়েকটি দোকানে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গৃহিনী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। আকাশছোঁয়ায় পৌঁছেছে এলপিজি সিলিন্ডার। সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত এ পণ্যটি ক্রয় ক্ষমতা আর সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রাহকরা। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলছেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়াছে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলছেন, ‘বাজারে এলপিজি’র কোনো সংকট নেই, এরপরও যারা নিয়মিত আমদানি করছে, তাদের আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার তদারকির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযানও চলছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগসহ কয়েকটি এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দোকানগুলোতে সাঁটার বন্ধ। বাইরে তালা ঝুলছে। দোকানিরাও গা ঢাকা দিয়েছে। ওইসব দোকন ঘিরে নিত্যপণ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত জরুরি প্রয়োজনীয় জ¦ালানি এলপিজি সিলিন্ডার সংগ্রহের জন্য ভোক্তারা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হুঁ হুঁ করে বাড়ছে। এর মধ্যেই আবাসিক বাসার তিতাসের পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ নেই। ঘরে বিকল্প থাকা সিলিন্ডারের গ্যাসও শেষ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সারাদিন দোকানে ফোন করেও কোনও এলপিজি পায়নি ভোক্তারা। এর আগে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) দোকানি নিজেই ফোন করে ভোক্তাদের জানিয়েছেন, ডিলার বা পাইকাররা সংকটের অজুহাতে দাম বাড়িয়ে এলপিজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, ফলে বাড়তি দামে তাদের কিনে আনতে হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা। এতে কেউ কেউ সন্তুষ্টি হলেও অনেকেই ছিলেন ক্ষুব্ধ। এরপর রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকেই ফের বন্ধ হয়ে যায় সব দোকান। কিছু কিছু দোকান খোলা থাকলেও ছিল না এলপিজি ভর্তি সিলিন্ডার। দিন গড়িয়ে ৩ দিন না পেরোতেই ২ হাজার ৫০০ করে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হাঁকেন দোকানিরা। নিরুপায় হয়ে অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে সেই বাড়তি মূল্যেই সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হন। এভাবেই ১২ কেজির এক সিলিন্ডার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) জোগাড়ের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা কাজী মিলি। তবে এই ভোগান্তি শুধু তার একার নয়।

এদিকে বয়সের ভারে নতজানু চা দোকানি হতদরিদ্র সিদ্দিকুর রহমান। দেহে বাসা বেঁধেছে নানা রোগব্যাধি। হাত পাতারও অভ্যাস নেই তার। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ সদস্যের সংসার। দুই রুমের ছোট্ট একটি ফ্ল্যাট নিয়ে ভাড়ায় থাকেন পুরান ঢাকার লালবাগের নবাবগঞ্জ এলাকায়। টানাপোড়েনের জীবন-সংসার চালাতে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে চা বিক্রি করছেন এক যুগ ধরে। চা তৈরি করতে অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে ১২ কেজি’র এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসও ব্যবহার করতে হয় তাকে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে সিন্ডিকেটের কালো থাবায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা চালানো নিয়ে রীতিমতো তার কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ভোক্তার চাহিদা থাকলেও আকাশছোঁয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দামে ঠিকমত ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতা দোকানগুলো বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। ডিলার বা পাইকারী ব্যবসায়ীরাও হঠাৎ করেই উধাও। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ২৫০০ টাকায় কিনতে হলেও মাইলের পর মাইল হেঁটে বিক্রেতাদের দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে তাকে।
তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, মহল্লাভিত্তিক চায়ের দোকান আমার। এখানে নিম্ন আয়ের মানুষ। পেশায় অধিকাংশই শ্রমিক, দিনমজুর। আগে প্রতিকাপ চা ৫ টাকা নিতাম। তখন একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ছিল ১২৫০ টাকা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫০০ টাকায়ও মিলছে না। অনেক পথ হেঁটে সিলিন্ডার আনলেও চায়ের দাম ৭টাকা চাইলেই ক্রেতারা তেড়ে আসেন। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। নিরুপায় হয়ে লোকসানই গুণতে হচ্ছে। শুধু সিদ্দিকুর রহমানই নয়, মেগা সিটি ঢাকার প্রায় সব এলাকায়ই একই অবস্থা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করছেন। ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, সরকার দাম নির্ধারণও করে দিয়েছেন, কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারদের ওপর দায় চাপিয়ে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছেন। সরকারের চলমান অভিযানেও হতাশা প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলপিজির সংকট দেখিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের কার্যত জিম্মি করে বাড়তি দাম আদায় করছেন। বাজার থেকে উধাও রয়েছেন ডিলার বা পাইকারী ব্যবসায়ীরা।
উত্তরার বাসিন্দা হাসিনা ইসলাম বলেন, তিনি দুই মাস পর পর ৩৫ কেজির একটি সিলিন্ডার কেনেন। জানুয়ারি মাসে এই সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ৩ হাজার ৮০৯ টাকা। কিন্তু এই মাসে তিনি সিলিন্ডারই পাচ্ছেন না। দোকানদার জানিয়েছেন গ্যাস নেই, বাড়তি দাম দিলে চেষ্টা করে দেখবেন।
মানিকদির বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রানু আক্তার জানান, তার বাসায় পাইপলাইনের গ্যাস থাকলেও চুলা জ্বলে না। তাই বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। কিন্তু এখন সেই এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও দাম আকাশছোঁয়া। তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকায়।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ সোলায়মান মিয়া দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ তিনি সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এখন সেই একই সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার প্রশ্ন, এভাবে দাম বাড়ে কীভাবে?
ফেনীতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, টিভিতে দাম ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না। ক্রেতা ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। মেহেরুন নেসা বলেন, তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।
পরিবেশক রবিন বলেন, গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। ট্রাংক রোডের নবাব বিরিয়ানি হাউজের স্বত্বাধিকারী অভিযোগ করেন, দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।
ওমেরা এলপিজির পরিবেশক সাইফুল ইসলাম ফটিক বলেন, ওমেরা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর গত ৬ জানুয়ারি ফেনী শহরের পোস্ট অফিস রোডে বিপ্লব ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। দাগনভূঁঞায় এক ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে।
গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, এলাকাভেদে এলপিজির দাম ভিন্ন ভিন্ন। শুধু বাড়তি দাম নয়, অনেক এলাকায় সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু এলপিজি সিলিন্ডারে করে পরিবহন করা হয়, তাই মানুষ সাধারণত নিজ এলাকার দোকান থেকেই গ্যাস সংগ্রহ করে। সংকটের কথা বলে দাম নিয়ে দরকষাকষি করলে অনেক দোকানদারই জানিয়ে দেন এলপিজি নেই।
এলপিজির বাড়তি দামের সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে গত ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারও প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বৈঠক শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে একে অপরের প্রতি অনুরোধ জানায় সরকার ও এলপিজি সরবরাহকারীরা। তবে একে অপরের ওপর দায়িত্ব চাপানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব উভয় পক্ষের হলেও কেউই কার্যকরভাবে তা করতে পারছে না।
যদিও মাঠপর্যায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সীমিত পরিসরে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গত দুই মাসে যে পরিমাণ এলপিজি আমদানি হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। তাহলে বাজারে সংকট কেন, তা অনুসন্ধান করা জরুরি বলে মনে করছেন জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি সিলিন্ডার মজুত করে রেখেছেন কিনা, কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে চাইলে সেই তথ্য যাচাই করা সম্ভব।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাজার তদারকিতে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।
বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বাজারে বাড়তি দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, আমদানির পরিমাণ বিবেচনায় কোনও সংকট নেই। তবে, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর কিছু অপারেটর আমদানি কমিয়ে দিয়েছে বলেও তিনি জানান। যারা নিয়মিত আমদানি করছে, তাদের আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার তদারকির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এমআর/সবা