দেশের যেকোনো পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আয়োজন না করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্দেশনার পর ইসির সঙ্গে আলোচনা করে শর্তসাপেক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন কার্যক্রম চলমান থাকলেও, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রাকসুর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মাসুদ রানার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন–২০২৫ উপলক্ষে পূর্বে ঘোষিত পুনঃতফসিল থাকলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইসির নির্দেশনায় দেশের সকল ধরনের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় আইনগত বাধ্যবাধকতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার স্বার্থে এই নির্দেশনা অনুসরণ করা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য আবশ্যক বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনার আলোকে ব্রাকসু নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সময়ে নতুন তফসিল প্রণয়ন করে নির্বাচনী কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে এবং সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাসময়ে অবহিত করা হবে।
এদিকে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম মন্তব্য করেন যে ব্রাকসু ও শাকসু নির্বাচন বিষয়ে ইসি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং উভয় নির্বাচনেই সহযোগিতা করবে। তবে ব্রাকসু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম দেখা যায়নি।
পঞ্চমবারের মতো ব্রাকসু নির্বাচনের তফসিল স্থগিত ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করছেন। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এবং দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে ব্রাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাকসুর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মাসুদ রানা বলেন, শাকসু তিনটি শর্তে নির্বাচন কার্যক্রম চালু রাখার অনুমতি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও ব্রাকসুর ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে তাকে জানানো হয়। সে কারণেই ব্রাকসু নির্বাচন কমিশন সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য এ পর্যন্ত পাঁচবার তফসিল ঘোষণা করা হলেও প্রতিবারই কোনো না কোনো কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেন। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ায় ব্রাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।
শু/সবা
























