ইরানের সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইইউর পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান কাজা কালাস। খবর এএফপির।
ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে হত্যা ও তাদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানোর ঘটনায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিলো ইউরোপের ২৭ দেশের এ জোট।
বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ’র সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইইউ’র পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান কাজা কালাস বলেন, ‘কোনো প্রকার দমন-পীড়নকে ইইউ কখনো ক্ষমা করবে না। যে সরকার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে হাজার হাজার নাগরিককে হত্যা করে, আসলে সে নিজের অজান্তে নিজের কবর খুঁড়ছে।’
গত সপ্তাহে ফ্রান্স এবং ইতালি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে বলে জানা গেছে।
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল বৃহস্পতিবারের ইইউ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ইরানে যে রক্তপাত আমরা দেখেছি, তার প্রতিবাদে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। আন্দোলন দমনের নামে তেহরান যে নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে, তা সহ্য করা যায় না।’
এদিকে ইরানের চিরশত্রু ইসরায়েল ইইউর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘ইউরোপের এ পদক্ষেপ ঐতিহাসিক।”
ইসরায়েলের সরকারের অপর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইইউর এ নিষেধাজ্ঞার ফলে আইআরজিসি সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো সহজ হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এটিকে ‘গুরুতর কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধপরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে যখন অনেক দেশ কাজ করছে, সেই সময় ইউরোপ সেই বিপর্যয়ের আগুনে হাওয়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত।’
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসি সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা হলেও দেশের নিয়মিত সেনাবাহিনীর চেয়ে এর মর্যাদা অনেক বেশি। ইরানের অর্থনীতি, সামরিক বিভাগ, ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু প্রকল্পে আইআরজিসির গভীর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
সূত্র : এএফপি























