ঝিনাইদহ-৪-এ ফলাফল ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫ » দৈনিক সবুজ বাংলা
১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহ-৪-এ ফলাফল ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

ঝিনাইদহ-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ১৪ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— জোবায়ের, তৌহিদ আলম, জাবেদ রহমান, ইভন, খোকন, আমীর হোসেন, মোশাররফ হোসেন, মশিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, ইমন রহমান ও রিয়াজ উদ্দিন।

আহতদের মধ্যে আমীর হোসেন স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এছাড়া খোকন ও ইভন সম্পর্কে বাবা-ছেলে।

যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দল ছিল। আসনটিতে জয়ী হন মো. আবু তালিব, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী।

ফলাফল ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের (কাপ-পিরিচ প্রতীক) সমর্থক এবং ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় কাপ-পিরিচ প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে মহেশপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়েও হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় জামায়াত নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন; তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে কালিগঞ্জ ও মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিকেল ৪টা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করেন, বিনা উস্কানিতে তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি পুলিশের সহযোগিতা চাননি—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না মেনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, সহযোগিতা না করার অভিযোগ সঠিক নয়। খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে পাস ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বিল-২০২৬

ঝিনাইদহ-৪-এ ফলাফল ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

আপডেট সময় : ০৫:৩২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহ-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ১৪ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— জোবায়ের, তৌহিদ আলম, জাবেদ রহমান, ইভন, খোকন, আমীর হোসেন, মোশাররফ হোসেন, মশিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, ইমন রহমান ও রিয়াজ উদ্দিন।

আহতদের মধ্যে আমীর হোসেন স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এছাড়া খোকন ও ইভন সম্পর্কে বাবা-ছেলে।

যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দল ছিল। আসনটিতে জয়ী হন মো. আবু তালিব, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী।

ফলাফল ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের (কাপ-পিরিচ প্রতীক) সমর্থক এবং ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় কাপ-পিরিচ প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে মহেশপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়েও হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় জামায়াত নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন; তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে কালিগঞ্জ ও মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিকেল ৪টা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করেন, বিনা উস্কানিতে তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি পুলিশের সহযোগিতা চাননি—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না মেনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, সহযোগিতা না করার অভিযোগ সঠিক নয়। খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শু/সবা