প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ঠিকাদার ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে রংপুর সিনিয়র স্পেশাল জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। রংপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাকিব ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাকিব, মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার মালিক এটিএম ফুহাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম দুলাল, মেঘনা ব্যাংক রংপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মাহফুজুল ইসলাম, সহকারী ব্যবস্থাপক একেএম শফিকুল মমতাজ, সিনিয়র অফিসার আতিকুর রহমান এবং সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মঞ্জুর হোসেন পাটওয়ারী।
মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মো. শাওন মিয়া জানান, আসামিরা প্রতারণামূলক কৌশলে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৩ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডারের কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের অনুকূলে মেঘনা ব্যাংকে চেক ইস্যুর নিশ্চয়তা প্রদান করেন। পরবর্তীতে অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে ৮ম ও ৯ম বিলের অর্থ অন্য ব্যাংকের অনুকূলে চেক ইস্যু করায় মেঘনা ব্যাংকের পাওনা ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৩ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতে সহযোগিতা করা হয়।
এছাড়া মেসার্স রাকিব ব্রাদার্স কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার হয়েও প্রকল্পের কাজ নিজে না করে অন্য ব্যক্তিকে কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করেন এবং বিলের অর্থ গ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুদকের উপপরিচালক মো. শাওন মিয়া আরও বলেন, অনুসন্ধানে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শু/সবা























