০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকৃবি ছাত্রদল নেতা আবিদের বিরুদ্ধে শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজিবুল হক আবিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক এবং ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ ঘটনায় উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অধ্যাপক ড. সামছুল আলম। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

লিখিত অভিযোগে অধ্যাপক ড. সামছুল আলম বলেন, সকাল ১০ টায় ফার্মাকোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী তার ভর্তিজনিত কিছু ত্রুটির কারণে আমার চেম্বারে আসেন। সেসময় ওই শিক্ষার্থীর  সাথে বাকৃবি শাখা ছাত্রদল নেতা নাজিবুল হক আবিদও আসেন। ভর্তি সংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে কথা বলার সময় নাজিবুল হক আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। গালিগালাজ, হেনস্তা করা থেকে শুরু করে আমাকে হুমকি দেওয়াও শুরু করেন। মৌখিকভাবে সর্বপ্রকারে সে আমাকে হেনস্তা করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিবুল হক আবিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগের জুনিয়র এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ভর্তিজনিত ত্রুটি নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের সাথে কথা বলতে যাই। ওই শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর ১ম ও ২য় সেমিস্টার শেষ করেছেন এবং পরীক্ষার ফলাফলে সিজিপিএ-৪ পেয়েছেন। এরপরে সর্বশেষ থিসিস সেমিস্টারে গিয়ে কিছুদিন আগে তাকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটি থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে যে তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাকে আগাম কোনো সতর্কবার্তা বা নোটিশ পাঠানো হয়নি। সিজিপিএ-৪ রেজাল্ট করা মেধাবী একজন ছাত্রকে দুই সেমিস্টার পার করার পরে হুট করে ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তার সাথে এটি গুরুতর অন্যায় করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি এবং এই বিষয়টি নিয়ে আমি স্যারের সাথে ন্যায়সঙ্গত কথা বলেছি।

শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায়ের পক্ষে আমি জোরালোভাবে কথা বলেছি এবং ন্যায়সঙ্গত কথা এভাবেই বলা উচিত। বিভিন্ন মানুষ এটিকে বিভিন্নভাবে নিতে পারে। আমরা তাকেই হুমকি দিতে পারব যিনি হাসিনার মতো স্বৈরাচার। ন্যায়ের পক্ষে থাকা মানুষকে আমরা কখনও হুমকি দিবো না। জোরালোভাবে  কথা বলাকে উনি হুমকি মনে করছেন।

এ বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের কেউ অসাংগঠনিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কাজ করলে সাংগঠনিকভাবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নাজিবুল হক আবিদ ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকেন না, ছাত্রজীবনও শেষ। তিনি তার বিভাগের বড় ভাই হিসেবে তার জন্য একটি দাবি নিয়ে স্যারের কাছে গেছেন। তবে একজন শিক্ষকের সাথে যেভাবে আচরণ করেছেন সেটি অবশ্যই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অন্যায় করেছেন। আমরা সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।’

এ বিষয়ে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমি ঘটনাটি জানার পর সাথে সাথে সেই ছাত্রকে হল থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চত করা হবে।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × one =

About Author Information

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

বাকৃবি ছাত্রদল নেতা আবিদের বিরুদ্ধে শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ

Update Time : ০৫:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজিবুল হক আবিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক এবং ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ ঘটনায় উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অধ্যাপক ড. সামছুল আলম। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

লিখিত অভিযোগে অধ্যাপক ড. সামছুল আলম বলেন, সকাল ১০ টায় ফার্মাকোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী তার ভর্তিজনিত কিছু ত্রুটির কারণে আমার চেম্বারে আসেন। সেসময় ওই শিক্ষার্থীর  সাথে বাকৃবি শাখা ছাত্রদল নেতা নাজিবুল হক আবিদও আসেন। ভর্তি সংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে কথা বলার সময় নাজিবুল হক আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। গালিগালাজ, হেনস্তা করা থেকে শুরু করে আমাকে হুমকি দেওয়াও শুরু করেন। মৌখিকভাবে সর্বপ্রকারে সে আমাকে হেনস্তা করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিবুল হক আবিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগের জুনিয়র এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ভর্তিজনিত ত্রুটি নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের সাথে কথা বলতে যাই। ওই শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর ১ম ও ২য় সেমিস্টার শেষ করেছেন এবং পরীক্ষার ফলাফলে সিজিপিএ-৪ পেয়েছেন। এরপরে সর্বশেষ থিসিস সেমিস্টারে গিয়ে কিছুদিন আগে তাকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটি থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে যে তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাকে আগাম কোনো সতর্কবার্তা বা নোটিশ পাঠানো হয়নি। সিজিপিএ-৪ রেজাল্ট করা মেধাবী একজন ছাত্রকে দুই সেমিস্টার পার করার পরে হুট করে ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তার সাথে এটি গুরুতর অন্যায় করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি এবং এই বিষয়টি নিয়ে আমি স্যারের সাথে ন্যায়সঙ্গত কথা বলেছি।

শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায়ের পক্ষে আমি জোরালোভাবে কথা বলেছি এবং ন্যায়সঙ্গত কথা এভাবেই বলা উচিত। বিভিন্ন মানুষ এটিকে বিভিন্নভাবে নিতে পারে। আমরা তাকেই হুমকি দিতে পারব যিনি হাসিনার মতো স্বৈরাচার। ন্যায়ের পক্ষে থাকা মানুষকে আমরা কখনও হুমকি দিবো না। জোরালোভাবে  কথা বলাকে উনি হুমকি মনে করছেন।

এ বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের কেউ অসাংগঠনিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কাজ করলে সাংগঠনিকভাবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নাজিবুল হক আবিদ ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকেন না, ছাত্রজীবনও শেষ। তিনি তার বিভাগের বড় ভাই হিসেবে তার জন্য একটি দাবি নিয়ে স্যারের কাছে গেছেন। তবে একজন শিক্ষকের সাথে যেভাবে আচরণ করেছেন সেটি অবশ্যই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অন্যায় করেছেন। আমরা সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।’

এ বিষয়ে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমি ঘটনাটি জানার পর সাথে সাথে সেই ছাত্রকে হল থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চত করা হবে।

শু/সবা