০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সমুদ্র থেকে ১৫ পাচারকারী আটক, নারী-শিশুসহ ১৫৩ জন উদ্ধার

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানব পাচারের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ১৫ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়—সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেন্টমার্টিনের আশপাশের গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাত ৩টার দিকে ‘অপারেশন সমুদ্র প্রহরা’-এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘কামরুজ্জামান’ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে।

অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দ্রুত ধাওয়া চালিয়ে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করতে সক্ষম হন।

বোটে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং মানব পাচারকারী চক্রের ১৫ জন সদস্যকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্বল্প খরচে বিদেশ যাওয়ার লোভ দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানব পাচার একটি ভয়াবহ সামাজিক অপরাধ। উপকূল ও গভীর সমুদ্র এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ডের অভিযান আরও জোরদার ও অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে আমিরাঘোনা মাটির মসজিদ মাদরাসার ইফতার ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত।

সমুদ্র থেকে ১৫ পাচারকারী আটক, নারী-শিশুসহ ১৫৩ জন উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৫:০২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানব পাচারের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ১৫ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়—সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেন্টমার্টিনের আশপাশের গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাত ৩টার দিকে ‘অপারেশন সমুদ্র প্রহরা’-এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘কামরুজ্জামান’ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে।

অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দ্রুত ধাওয়া চালিয়ে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করতে সক্ষম হন।

বোটে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং মানব পাচারকারী চক্রের ১৫ জন সদস্যকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্বল্প খরচে বিদেশ যাওয়ার লোভ দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানব পাচার একটি ভয়াবহ সামাজিক অপরাধ। উপকূল ও গভীর সমুদ্র এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ডের অভিযান আরও জোরদার ও অব্যাহত থাকবে।