কক্সবাজারে বাড়ছে হামের রোগী: ১জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪ » দৈনিক সবুজ বাংলা
০২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে বাড়ছে হামের রোগী: ১জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪

কক্সবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ৩৪ জন শিশু রোগি ভর্তি রয়েছে। ১জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪ জন, সুস্থ হয়ে চলে গেছে ৬ জন।
১ এপ্রিল, বুধবার, কক্সবাজার ২৫০ শর্যা জেলা সদর হাসপাতালে হীরা মনি নামে ৭ মাসের এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। হীরা মনি মহেশখালী উপজেলার সরওয়ার কামালের শিশুকন্যা।
সরওয়ার কামাল বলেন, জ্বর কাশি হয় গত কয়দিন ধরে হঠাৎ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পষ্ট দেখা গেলে গত পরশু ৩০ মার্চ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। আজকে সকালে মারা যায়।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর
একজন হাম রোগে আক্রান্ত শিশু মরা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হামের টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই দফায় দেওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তিনি আরও জানান, সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
গত সোমবার একদিনে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। পাশাপাশি একটি বেসরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে আরও ৫ জন আক্রান্ত শিশু। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে মোট ১২৪ শিশু। এর মধ্যে ৮৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। মোট মৃত্যু হয়েছে ২ জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও পরে পরীক্ষা করে অনেক শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হচ্ছে। এতে করে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
জোয়ারিয়া নালার বাসিন্দা মরজিনা বেগম জানান, ঈদের চারদিন থেকেই  শিশু কন্যা রাবেয়াকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও এক সপ্তাহ পর পরীক্ষায় ধরা পড়ে হাম আক্রান্ত। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মহেশখালীর শাপলাপুরের রুমা আক্তার ও শহরের শাহীনুর আক্তার। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। সন্তানদের সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন এসব পরিবার।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, মিঠাছড়ি এবং শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও সমিতি পাড়া, জোয়ারিয়ানালা, রুমালিয়ারছড়া এলাকা থেকে আক্রান্তের ভর্তি হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে একটি ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’। সেখানে আলাদা করে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি হামের ঝুঁকি বাড়ায় এবং এটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।
শু/সবা
জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে পাস ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বিল-২০২৬

কক্সবাজারে বাড়ছে হামের রোগী: ১জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪

আপডেট সময় : ০৭:০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ৩৪ জন শিশু রোগি ভর্তি রয়েছে। ১জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪ জন, সুস্থ হয়ে চলে গেছে ৬ জন।
১ এপ্রিল, বুধবার, কক্সবাজার ২৫০ শর্যা জেলা সদর হাসপাতালে হীরা মনি নামে ৭ মাসের এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। হীরা মনি মহেশখালী উপজেলার সরওয়ার কামালের শিশুকন্যা।
সরওয়ার কামাল বলেন, জ্বর কাশি হয় গত কয়দিন ধরে হঠাৎ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পষ্ট দেখা গেলে গত পরশু ৩০ মার্চ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। আজকে সকালে মারা যায়।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর
একজন হাম রোগে আক্রান্ত শিশু মরা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হামের টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই দফায় দেওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তিনি আরও জানান, সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
গত সোমবার একদিনে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। পাশাপাশি একটি বেসরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে আরও ৫ জন আক্রান্ত শিশু। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে মোট ১২৪ শিশু। এর মধ্যে ৮৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। মোট মৃত্যু হয়েছে ২ জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও পরে পরীক্ষা করে অনেক শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হচ্ছে। এতে করে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
জোয়ারিয়া নালার বাসিন্দা মরজিনা বেগম জানান, ঈদের চারদিন থেকেই  শিশু কন্যা রাবেয়াকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও এক সপ্তাহ পর পরীক্ষায় ধরা পড়ে হাম আক্রান্ত। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মহেশখালীর শাপলাপুরের রুমা আক্তার ও শহরের শাহীনুর আক্তার। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। সন্তানদের সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন এসব পরিবার।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, মিঠাছড়ি এবং শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও সমিতি পাড়া, জোয়ারিয়ানালা, রুমালিয়ারছড়া এলাকা থেকে আক্রান্তের ভর্তি হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে একটি ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’। সেখানে আলাদা করে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি হামের ঝুঁকি বাড়ায় এবং এটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।
শু/সবা