দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তবে তিনি দাবি করেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে রয়েছে এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ওপরে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কী—তা জানতে চান তিনি।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে বৃদ্ধি অনেক কম। তিনি যুক্তি দেন, একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মোট উৎপাদন ব্যয়ের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ জ্বালানিতে খরচ হয়। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়লেও সামগ্রিক উৎপাদন খরচে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
পরিবহন খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে প্রায় ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে, এতে অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় ৪৫০ টাকা। কিন্তু একই জ্বালানি দিয়ে একটি ট্রাক প্রায় ১০ হাজার কেজি পণ্য পরিবহন করতে পারে। ফলে ইউনিট প্রতি পণ্যের দামে এর প্রভাব খুবই সীমিত।
বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, অনেক দেশেই জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের আগে গ্যালনপ্রতি দাম ছিল প্রায় ২ ডলার ৭০-৮০ সেন্ট, যা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী যেসব নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, বাংলাদেশও সেই নীতি অনুসরণ করে সীমিত পরিসরে জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে।
শু/সবা
























