দেশে বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট হলেও গড়ে প্রতিদিন প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট—এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী কোনো নিয়মিত লোডশেডিং নেই, তবে কিছু পরিস্থিতিতে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ চাহিদা, কৃষি-সেচের চাপ, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি, সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
মন্ত্রী আরও জানান, পূর্ববর্তী সময়ে ‘বিশেষ বিধান আইন, ২০১০’-এর আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে ক্যাপাসিটি চার্জ ও উচ্চ ট্যারিফ নির্ধারণে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।
তার ভাষায়, সেই প্রক্রিয়ায় “দলীয় ব্যক্তি ও স্বজনদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল” বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই ‘দায়মুক্তি আইন’ বাতিল করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে, যা পরে সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে।
এছাড়া কুইক রেন্টাল প্রকল্প ও বিদ্যুৎ খাতের অর্থ পাচার তদন্তে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
সরকার এখন বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় বলে সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।
শু/সবা





















