12:22 am, Sunday, 3 May 2026

নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত, যুক্তরাষ্ট্রে ডাবল মার্ডার মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (এইচসিএসও) জানিয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি-র।

শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার জানান, এই শনাক্তকরণ যেমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, তেমনি গভীর শোকেরও সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি ও তার সহপাঠী জামিল লিমন—দুজনেই ২৭ বছর বয়সী পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

তদন্তকারীরা প্রথমে লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে অনুসন্ধান চালিয়ে রক্তের চিহ্নসহ বিভিন্ন আলামত পান। পরে কাছাকাছি একটি ডাস্টবিনে তার রক্তমাখা সামগ্রী উদ্ধার হলে মামলাটি নতুন মোড় নেয়। পরবর্তীতে বাসা ও সন্দেহভাজনের কক্ষে রক্তের দাগ এবং একটি মানুষের দেহের আকৃতির চিহ্ন পাওয়া যায়।

সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহ-র গাড়িতেও বৃষ্টির রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তার অনলাইন কেনাকাটায় বড় ব্যাগ, পরিষ্কার করার সরঞ্জাম ও দাহ্য পদার্থ কেনার তথ্য এবং মোবাইলে হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত সন্দেহজনক সার্চ হিস্ট্রিও পাওয়া গেছে।

এর আগে ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ-এর কাছে একটি ব্যাগ থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল এবং তার হাত-পা বাঁধা ছিল। পরদিন একই এলাকা থেকে আরেকটি ব্যাগে পাওয়া মরদেহটি ডিএনএ ও ডেন্টাল রেকর্ডের মাধ্যমে নাহিদা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করা হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও লিমন মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করছিলেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, তারা একসময় একসঙ্গে ছিলেন।

ঘটনার দিনই পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে ৯১১-এ কল পাওয়ার পর সন্দেহভাজন আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নিহত দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, যাতে তাদের পরিবার শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four × five =

About Author Information

Popular Post

নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত, যুক্তরাষ্ট্রে ডাবল মার্ডার মামলা

Update Time : ০৪:৫৭:১২ pm, Saturday, ২ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (এইচসিএসও) জানিয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি-র।

শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার জানান, এই শনাক্তকরণ যেমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, তেমনি গভীর শোকেরও সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি ও তার সহপাঠী জামিল লিমন—দুজনেই ২৭ বছর বয়সী পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

তদন্তকারীরা প্রথমে লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে অনুসন্ধান চালিয়ে রক্তের চিহ্নসহ বিভিন্ন আলামত পান। পরে কাছাকাছি একটি ডাস্টবিনে তার রক্তমাখা সামগ্রী উদ্ধার হলে মামলাটি নতুন মোড় নেয়। পরবর্তীতে বাসা ও সন্দেহভাজনের কক্ষে রক্তের দাগ এবং একটি মানুষের দেহের আকৃতির চিহ্ন পাওয়া যায়।

সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহ-র গাড়িতেও বৃষ্টির রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তার অনলাইন কেনাকাটায় বড় ব্যাগ, পরিষ্কার করার সরঞ্জাম ও দাহ্য পদার্থ কেনার তথ্য এবং মোবাইলে হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত সন্দেহজনক সার্চ হিস্ট্রিও পাওয়া গেছে।

এর আগে ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ-এর কাছে একটি ব্যাগ থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল এবং তার হাত-পা বাঁধা ছিল। পরদিন একই এলাকা থেকে আরেকটি ব্যাগে পাওয়া মরদেহটি ডিএনএ ও ডেন্টাল রেকর্ডের মাধ্যমে নাহিদা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করা হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও লিমন মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করছিলেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, তারা একসময় একসঙ্গে ছিলেন।

ঘটনার দিনই পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে ৯১১-এ কল পাওয়ার পর সন্দেহভাজন আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নিহত দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, যাতে তাদের পরিবার শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারে।

শু/সবা