দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে নতুন নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পাওয়া অভিনেতা থালাপতি বিজয়-এর দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের দাবি জানালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ চেয়েছেন রাজ্যপাল আর ভি আরলেকার।
সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, সরকার গঠনের আগে অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি জমা দিতে হবে বলে বিজয়কে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। তার মতে, নির্বাচনে বড় জয় পেলেও এখনও পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেনি টিভিকে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজ্যপালের বাসভবনে বিজয়কে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে ছিল— মাত্র ১১৩ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে কীভাবে সরকার পরিচালনা করবেন, ভবিষ্যতে কোন দলগুলো সমর্থন দেবে এবং সম্ভাব্য জোটসঙ্গী কারা হতে পারে।
টিভিকে রাজ্যপালকে জানিয়েছে, তারা দুটি বাম দল ও দুটি আঞ্চলিক দলের কাছ থেকে অতিরিক্ত ছয়টি আসনের সমর্থন পাওয়ার আশা করছে। একইসঙ্গে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে দলটি।
বুধবারও বিজয় ও রাজ্যপাল আরলেকারের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। তখনও রাজ্যপাল সরকার গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে লোকভবনের সূত্র জানায়, উপস্থাপিত সংখ্যায় সন্তুষ্ট হননি তিনি।
বর্তমানে টিভিকের হাতে রয়েছে ১০৮টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে ১০টি কম। এ ঘাটতির একটি অংশ পূরণ করতে শর্তসাপেক্ষ সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। শর্ত হলো— টিভিকে বিজেপি বা কোনো “সাম্প্রদায়িক শক্তির” সঙ্গে জোট করতে পারবে না।
এছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী), বিদুতলাই চিরুথাইগাল কাচ্চি এবং পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চি-র সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও চলছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এসব দল একত্রিত হলে বিজয়ের জোট ১২৩টি আসনের সমর্থন পেতে পারে। তবে বিজয় দুটি আসনে জেতায় একটি আসন ছাড়তে হবে। সেক্ষেত্রে জোটের শক্তি কমে দাঁড়াবে ১২২ আসনে।
এদিকে, অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে)-র কিছু বিধায়ক টিভিকের সঙ্গে জোটে আগ্রহী বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে দলটির দুই নেতা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, জোটের খবর “সম্পূর্ণ মিথ্যা”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি টিভিকে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাজ্যপাল নবনির্বাচিত বিধানসভা স্থগিত করে কেন্দ্রকে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন নির্বাচনের পথও খুলে যেতে পারে।
এদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিজয়ের ১০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়ককে রাজধানী চেন্নাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের মামাল্লাপুরম এলাকার একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















