1:13 am, Saturday, 9 May 2026

ভারত ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’, দাবি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

ভারতের বিরুদ্ধে আবারও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।”

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী

পাকিস্তান গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার ঘটনাকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ নামে উল্লেখ করে থাকে। এ প্রসঙ্গে আহমেদ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহুমাত্রিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করেছে।

তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ভারতীয় বয়ান “সমাধিস্থ” হয়েছে। তার প্রশ্ন, “পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ কোথায়?” তিনি আরও বলেন, ভারত কোনও প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, ভারতের সামরিক বাহিনী এখন “রাজনীতিকরণ” হয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে “সামরিকীকরণ” দেখা যাচ্ছে।

কাশ্মীর প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন আইএসপিআর প্রধান। তিনি বলেন, কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে এবং আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান বর্তমানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তিত ধরন, তথ্যযুদ্ধ, সাইবার সক্ষমতা এবং পারমাণবিক প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকির বিষয়েও কথা বলেন। তার ভাষায়, “দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধের সুযোগ আছে বলে যারা মনে করে, তারা পাগল।”

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

20 − eleven =

About Author Information

Popular Post

 অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী: মির্জা ফখরুল

ভারত ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’, দাবি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

Update Time : ০৪:৪৮:৩৮ pm, Thursday, ৭ মে ২০২৬

ভারতের বিরুদ্ধে আবারও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।”

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী

পাকিস্তান গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার ঘটনাকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ নামে উল্লেখ করে থাকে। এ প্রসঙ্গে আহমেদ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহুমাত্রিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করেছে।

তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ভারতীয় বয়ান “সমাধিস্থ” হয়েছে। তার প্রশ্ন, “পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ কোথায়?” তিনি আরও বলেন, ভারত কোনও প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, ভারতের সামরিক বাহিনী এখন “রাজনীতিকরণ” হয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে “সামরিকীকরণ” দেখা যাচ্ছে।

কাশ্মীর প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন আইএসপিআর প্রধান। তিনি বলেন, কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে এবং আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান বর্তমানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তিত ধরন, তথ্যযুদ্ধ, সাইবার সক্ষমতা এবং পারমাণবিক প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকির বিষয়েও কথা বলেন। তার ভাষায়, “দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধের সুযোগ আছে বলে যারা মনে করে, তারা পাগল।”

শু/সবা