12:59 am, Friday, 15 May 2026

ববি উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে রেজিস্ট্রারসহ একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে তালা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৪ শিক্ষকের পদোন্নতির আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষকদের একাংশ উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে শিক্ষকদের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, অর্থ, পরিকল্পনা, জনসংযোগ ও ডিন অফিসসহ একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরগুলো তালবদ্ধ করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা। এসময় দপ্তরগুলোতে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকরা কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১১ই মে) সকাল ৯টায় পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবন-০১ এর নিচতলায় অবস্থান নেন। একঘন্টা অবস্থান কর্মসূচির পর সকাল ১০টায় শিক্ষকদের একটি অংশ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান এবং রেজিস্ট্রারকে উপাচার্যকে অসহযোগিতা করার নির্দেশ দেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক। একপর্যায়ে চাপের মুখে রেজিস্ট্রার তার কার্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর কর্মচারীরা একে একে বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন।
একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালকের অফিসে গিয়ে তাকে চাপ দেয়া হয় এবং চাপের মুখে তিনি দপ্তর ছেড়ে বের হয়ে গেলে শিক্ষকদের নির্দেশে কর্মচারীরা দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, “আমাদের নির্দেশনায় প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝোলানো হয়েছে।”
তালা ঝোলানোর সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, “শিক্ষকদের নির্দেশনাতেই আমরা তালা ঝুলিয়েছি।”
দপ্তরের তালা দেয়া ও শিক্ষকদের চাপের বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একটি দপ্তরের প্রধান বলেন, এভাতে তারা এটা করতে পারেন না। আমাদের অফিসে অফিসে এসে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালাবদ্ধ করে দিচ্ছেন। তাদের আন্দোলন সফলহোক সেটা আমরাও চাই কিন্তু এভাবে জোরপূর্বক কিছু আমরা চাই না।
আন্দোলনকারী শিক্ষক ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা  বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার
রয় বলেন, “আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাঁকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করবো না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন। ইতোমধ্যে তিনজন পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই আমরা আর তাঁকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করবো না।”
শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “সব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। কেউ আন্দোলন করলে ব্যক্তিগতভাবে কর্মবিরতি পালন করতে পারে। তবে অন্যের কাজে বাধা দেওয়া এবং কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × five =

About Author Information

Popular Post

ভূঞাপুরে স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে  অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ 

ববি উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে রেজিস্ট্রারসহ একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে তালা

Update Time : ০৫:২৪:৫১ pm, Monday, ১১ মে ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৪ শিক্ষকের পদোন্নতির আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষকদের একাংশ উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে শিক্ষকদের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, অর্থ, পরিকল্পনা, জনসংযোগ ও ডিন অফিসসহ একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরগুলো তালবদ্ধ করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা। এসময় দপ্তরগুলোতে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকরা কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১১ই মে) সকাল ৯টায় পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবন-০১ এর নিচতলায় অবস্থান নেন। একঘন্টা অবস্থান কর্মসূচির পর সকাল ১০টায় শিক্ষকদের একটি অংশ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান এবং রেজিস্ট্রারকে উপাচার্যকে অসহযোগিতা করার নির্দেশ দেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক। একপর্যায়ে চাপের মুখে রেজিস্ট্রার তার কার্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর কর্মচারীরা একে একে বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন।
একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালকের অফিসে গিয়ে তাকে চাপ দেয়া হয় এবং চাপের মুখে তিনি দপ্তর ছেড়ে বের হয়ে গেলে শিক্ষকদের নির্দেশে কর্মচারীরা দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, “আমাদের নির্দেশনায় প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝোলানো হয়েছে।”
তালা ঝোলানোর সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, “শিক্ষকদের নির্দেশনাতেই আমরা তালা ঝুলিয়েছি।”
দপ্তরের তালা দেয়া ও শিক্ষকদের চাপের বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একটি দপ্তরের প্রধান বলেন, এভাতে তারা এটা করতে পারেন না। আমাদের অফিসে অফিসে এসে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালাবদ্ধ করে দিচ্ছেন। তাদের আন্দোলন সফলহোক সেটা আমরাও চাই কিন্তু এভাবে জোরপূর্বক কিছু আমরা চাই না।
আন্দোলনকারী শিক্ষক ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা  বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার
রয় বলেন, “আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাঁকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করবো না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন। ইতোমধ্যে তিনজন পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই আমরা আর তাঁকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করবো না।”
শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “সব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। কেউ আন্দোলন করলে ব্যক্তিগতভাবে কর্মবিরতি পালন করতে পারে। তবে অন্যের কাজে বাধা দেওয়া এবং কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
শু/সবা