2:57 am, Thursday, 11 June 2026

“অসুস্থতা নয়, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বেই কি পদত্যাগ?” — দীপেন দেওয়ানকে ঘিরে নতুন বিস্ফোরক দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় উপজাতিবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনীষ দেওয়ান

মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মনীষ দেওয়ান দাবি করেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তাকে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করাই দীপেন দেওয়ানের মন্ত্রিত্ব হারানোর মূল কারণ। তিনি লেখেন, “দীপেন দেওয়ান তার মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন শুধুমাত্র একটি কারণে। তিনি আসন্ন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল মনীষ দেওয়ানকে।”

একই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার–কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মনীষ দেওয়ান তার পোস্টে বলেন, “খুবই দুঃখজনক যে সুপারিশের এই দ্বন্দ্বে আমাদের পূর্ণ মন্ত্রী, পাহাড়ি-বাঙালির প্রিয় নেতা, সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত দীপেন দেওয়ান হেরে গেছেন। শুধু তা-ই নয়, তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়েছে।”

পরে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যেও ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি নিজের বলে নিশ্চিত করেন মনীষ দেওয়ান। তিনি বলেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে “আসল ঘটনা খোলাসা” করার জন্যই তিনি পোস্টটি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি দীপন তালুকদার। তিনি বলেন, “কে কী বলল, তা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে আমি রাজপথে ছিলাম কি না, তা দলের নেতা-কর্মীরা জানেন।” জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দল যেখানেই দায়িত্ব দেবে, সেটি গ্রহণে তিনি প্রস্তুত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনও। তিনি বলেন, দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে তার কোনো দূরত্ব ছিল না, বরং তাদের মধ্যে “চমৎকার সম্পর্ক” ছিল। পদত্যাগের খবর জানার পর তিনি ফোন করেছিলেন বলেও জানান।

এর আগে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার আহ্বানও জানান।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five + seven =

About Author Information

বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক কর্মশালা

“অসুস্থতা নয়, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বেই কি পদত্যাগ?” — দীপেন দেওয়ানকে ঘিরে নতুন বিস্ফোরক দাবি

Update Time : ০৬:৩২:১২ pm, Tuesday, ২ জুন ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় উপজাতিবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনীষ দেওয়ান

মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মনীষ দেওয়ান দাবি করেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তাকে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করাই দীপেন দেওয়ানের মন্ত্রিত্ব হারানোর মূল কারণ। তিনি লেখেন, “দীপেন দেওয়ান তার মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন শুধুমাত্র একটি কারণে। তিনি আসন্ন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল মনীষ দেওয়ানকে।”

একই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার–কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মনীষ দেওয়ান তার পোস্টে বলেন, “খুবই দুঃখজনক যে সুপারিশের এই দ্বন্দ্বে আমাদের পূর্ণ মন্ত্রী, পাহাড়ি-বাঙালির প্রিয় নেতা, সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত দীপেন দেওয়ান হেরে গেছেন। শুধু তা-ই নয়, তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়েছে।”

পরে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যেও ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি নিজের বলে নিশ্চিত করেন মনীষ দেওয়ান। তিনি বলেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে “আসল ঘটনা খোলাসা” করার জন্যই তিনি পোস্টটি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি দীপন তালুকদার। তিনি বলেন, “কে কী বলল, তা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে আমি রাজপথে ছিলাম কি না, তা দলের নেতা-কর্মীরা জানেন।” জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দল যেখানেই দায়িত্ব দেবে, সেটি গ্রহণে তিনি প্রস্তুত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনও। তিনি বলেন, দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে তার কোনো দূরত্ব ছিল না, বরং তাদের মধ্যে “চমৎকার সম্পর্ক” ছিল। পদত্যাগের খবর জানার পর তিনি ফোন করেছিলেন বলেও জানান।

এর আগে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার আহ্বানও জানান।

শু/সবা