3:53 pm, Wednesday, 17 June 2026

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি, স্বাগত জানাল বিশ্ব

ইরানের জনগণের ইচ্ছাশক্তির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরাজিত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোকে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটি। অন্যদিকে, এই ঐতিহাসিক সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। এদিকে চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। তারা চুক্তিটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। একইসঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দেশগুলো।

চুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তকে বিশ্ব নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যেকোনো ধরনের উসকানি ও নাশকতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সমঝোতা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকাও প্রশংসিত হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তার জন্য পাকিস্তানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, ইরান এই চুক্তিকে নিজেদের বড় অর্জন হিসেবে দেখছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, শত্রুপক্ষ তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তেহরানের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংগঠনটি দাবি করেছে, ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের কাছে শত্রুপক্ষ পরাজিত হয়েছে।

তবে চুক্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইলের বিরোধী শিবির। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা Yair Golan অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তি তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সব সামরিক অর্জনকে মুছে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu ক্ষমতা ছাড়ার আগে শত্রুপক্ষকে আরও শক্তিশালী করে যাচ্ছেন।

চুক্তিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে স্বস্তির আবহ তৈরি হলেও এর বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

2 × five =

About Author Information

জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি, স্বাগত জানাল বিশ্ব

Update Time : ০৭:২৮:২৮ pm, Monday, ১৫ জুন ২০২৬

ইরানের জনগণের ইচ্ছাশক্তির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরাজিত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোকে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটি। অন্যদিকে, এই ঐতিহাসিক সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। এদিকে চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। তারা চুক্তিটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। একইসঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দেশগুলো।

চুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তকে বিশ্ব নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যেকোনো ধরনের উসকানি ও নাশকতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সমঝোতা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকাও প্রশংসিত হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তার জন্য পাকিস্তানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, ইরান এই চুক্তিকে নিজেদের বড় অর্জন হিসেবে দেখছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, শত্রুপক্ষ তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তেহরানের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংগঠনটি দাবি করেছে, ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের কাছে শত্রুপক্ষ পরাজিত হয়েছে।

তবে চুক্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইলের বিরোধী শিবির। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা Yair Golan অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তি তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সব সামরিক অর্জনকে মুছে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu ক্ষমতা ছাড়ার আগে শত্রুপক্ষকে আরও শক্তিশালী করে যাচ্ছেন।

চুক্তিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে স্বস্তির আবহ তৈরি হলেও এর বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

শু/সবা