কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদীর বন্যা ও ভাঙন কবলিত ১৬০ পরিবারকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার(১জুলাই) দুপুরে উপজেলার নদী তীরবর্তী বিন্দান্দন ইউনিয়নের রামহরি ও খরিয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ সরিষাবাড়ি ও গতিয়াসাম এলাকার মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। রাজারহাট উপজেরা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) তালজিলা তাসনিম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আনিছুর রহমান লিটন, প্রেসক্লাব রাজারহাট’র সভাপতি আ. কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, ইউপি সদস্য আ. বাতেন প্রমূখ।
উল্লেখ্য, গত ৪/৫দিন ধরে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এতে ফসলাদিসহ নিচু ঘর-বাড়ি পানিবন্ধী হয়ে পড়ে। সেই সাথে কয়েকটি এলাকায় দেখা যায় নদী ভাঙন।
বুধবার(১জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।এসময় তিনি বন্যাকবলিত ১৬০টি পরিবারে শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, শাকসবজীর বীজ বিতরণ করেন।
রামহরি গ্রামের স্কুল শিক্ষক মজিবর রহমান(৫০) কর্মকর্তাদের কাছে আর্জি জানিয়ে বলেন, তিস্তা নদীতে রামহরি ও খিতাবখাঁ গ্রামে প্রায় দেড়শ মিটার জায়গা অরক্ষিত রয়েছে। আমরা এখানে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করছি। যে কোন মুহুর্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। প্রটেকশনের জন্য অন্য জায়গায় কাজ করা হলেও এই জায়গায় কোন ধরনের কাজ করা হচ্ছে না। আমরা এলাকাবাসী ত্রাণ চাই না, ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী কাজ চাই।
সরিষাবাড়ি গ্রামের কুলসুম বেগম(৫০) শুকনো খাবার পেয়ে খুশি হয়ে বলেন, হামরা বানত এল্যা পায়া খুব খুশি।
রামহরি মৌজার ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া বলেন, নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এটা স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী। কাজটা দ্রুত শুরু করার দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম জানান,আমরা রামহরি ও খিতাবখাঁ এলাকায় তিস্তা নদীর অরক্ষিত অংশে প্রটেকশনের জন্য পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুত কাজ সম্প্রসারণ করা হবে। এখানে কাজ হলে মানুষের দূর্ভোগ লাঘব হবে।
শু/সবা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 













