8:57 pm, Wednesday, 1 July 2026

বিগত সময়ে স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে আইসিইউ সেবার অবস্থা সংকটময় : জুবাইদা রহমান

বিগত সময়ের অবহেলার কারণে দেশের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবা ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৮ জেলাতেই কোনো আইসিইউ নেই এবং অধিকাংশ আইসিইউ সুবিধা রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান জানান, দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার শয্যা রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭টি, আর সাধারণ হাসপাতালের শয্যা রয়েছে মাত্র ৯টি। দেশের মোট আইসিইউ ইউনিটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।

তিনি বলেন, দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও আইসিইউ সুবিধার বেশিরভাগই বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা মা, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান না, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, সংকট শুধু আইসিইউ শয্যার নয়; অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট ও নিউরোলজিস্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

প্রত্যন্ত এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ স্থাপন সম্ভব না হলেও আধুনিক জীবনরক্ষাকারী সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সীমিত অবকাঠামো ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিষ্ঠার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। একটি মৃত্যু যেন কোনো পরিবারকে সর্বস্বান্ত না করে, সে জন্য সারা দেশে সমন্বিতভাবে নিবিড় পরিচর্যা সেবার বিস্তার ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে আরও অনেক আইসিইউ প্রয়োজন—এ বিষয়টি সরকার উপলব্ধি করে। ইতোমধ্যে ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ইউনিট স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও জবাবদিহি ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। নতুন আইসিইউ স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব চিকিৎসকদের ওপরই বর্তায়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × 2 =

About Author Information

Popular Post

পানির সংকট নিরসনে ৫টি গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছে

বিগত সময়ে স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে আইসিইউ সেবার অবস্থা সংকটময় : জুবাইদা রহমান

Update Time : ০৬:৫১:৫৩ pm, Wednesday, ১ জুলাই ২০২৬

বিগত সময়ের অবহেলার কারণে দেশের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবা ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৮ জেলাতেই কোনো আইসিইউ নেই এবং অধিকাংশ আইসিইউ সুবিধা রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান জানান, দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার শয্যা রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭টি, আর সাধারণ হাসপাতালের শয্যা রয়েছে মাত্র ৯টি। দেশের মোট আইসিইউ ইউনিটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।

তিনি বলেন, দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও আইসিইউ সুবিধার বেশিরভাগই বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা মা, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান না, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, সংকট শুধু আইসিইউ শয্যার নয়; অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট ও নিউরোলজিস্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

প্রত্যন্ত এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ স্থাপন সম্ভব না হলেও আধুনিক জীবনরক্ষাকারী সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সীমিত অবকাঠামো ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিষ্ঠার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। একটি মৃত্যু যেন কোনো পরিবারকে সর্বস্বান্ত না করে, সে জন্য সারা দেশে সমন্বিতভাবে নিবিড় পরিচর্যা সেবার বিস্তার ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে আরও অনেক আইসিইউ প্রয়োজন—এ বিষয়টি সরকার উপলব্ধি করে। ইতোমধ্যে ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ইউনিট স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও জবাবদিহি ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। নতুন আইসিইউ স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব চিকিৎসকদের ওপরই বর্তায়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।