1:32 am, Saturday, 4 July 2026

ওগাঁয় শিক্ষিকাকে উত্তোক্ত করায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরাণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকাকে উত্তোক্ত করার অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিয়াউর হক জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই সাথে তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই শোকজ নোটিসের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের কাছে নোটিশটি পাঠিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. ওয়াহেদ আলী।
শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, দীর্ঘ কয়েক বছর হতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা মোছা. জাহানারা খাতুনের সাথে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা, মানহানীকর কার্যকলাপ এবং মারপিটের চেষ্টা করছেন বলে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং প্রধান বরাবর গত ১০ জুন একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। ইতেপুর্বেও মৌখিক অভিযোগে এরূপ ঘটনার জন্য সব সময় তাকে এড়িয়ে চলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নির্দেশনা মোতাবেক আপনাকে গত ১৮ জুন শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে কিন্তু আপনি উক্ত নোটিশের কোন জবাব প্রদান করেন নাই । এছাড়া গত ২১ জুন তারিখ থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়াও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং বানিজ্য পরিচালনা করছেন। এবং আপনি সার্বক্ষনিক ভাবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে আসছেন। আপনার এরুপ সকল অপরাধ অমার্জনীয় হিসেবে কর্তৃপক্ষসহ সকলের কাছে বিবেচ্য।
এমতাবস্থায় কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হবে না তার জবাব আগামী ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে লিখিত ভাবে দাখিল করার জন্য বলা হলো।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটা বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. আঃ ওয়াহেদ আলী বলেন, এর আগে এই বিষয় গুলো নিয়ে তাকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি এ সব কথায় কোন গুরুত্ব দেননি। আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নির্দেশে তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আকতার জাহান সাথী বলেন, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মানববন্ধনের কারণে এর আগে তাকে শোকজ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তিনি সেই শোকজের জবাব দেননি। এরপর আজ তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং এ ঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

12 + 18 =

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে তিতুমীর কলেজে আলিফ পরিবহনের তিন বাস আটক

ওগাঁয় শিক্ষিকাকে উত্তোক্ত করায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

Update Time : ০৪:৩৭:১৪ pm, Friday, ৩ জুলাই ২০২৬
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরাণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকাকে উত্তোক্ত করার অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিয়াউর হক জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই সাথে তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই শোকজ নোটিসের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের কাছে নোটিশটি পাঠিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. ওয়াহেদ আলী।
শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, দীর্ঘ কয়েক বছর হতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা মোছা. জাহানারা খাতুনের সাথে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা, মানহানীকর কার্যকলাপ এবং মারপিটের চেষ্টা করছেন বলে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং প্রধান বরাবর গত ১০ জুন একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। ইতেপুর্বেও মৌখিক অভিযোগে এরূপ ঘটনার জন্য সব সময় তাকে এড়িয়ে চলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নির্দেশনা মোতাবেক আপনাকে গত ১৮ জুন শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে কিন্তু আপনি উক্ত নোটিশের কোন জবাব প্রদান করেন নাই । এছাড়া গত ২১ জুন তারিখ থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়াও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং বানিজ্য পরিচালনা করছেন। এবং আপনি সার্বক্ষনিক ভাবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে আসছেন। আপনার এরুপ সকল অপরাধ অমার্জনীয় হিসেবে কর্তৃপক্ষসহ সকলের কাছে বিবেচ্য।
এমতাবস্থায় কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হবে না তার জবাব আগামী ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে লিখিত ভাবে দাখিল করার জন্য বলা হলো।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটা বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. আঃ ওয়াহেদ আলী বলেন, এর আগে এই বিষয় গুলো নিয়ে তাকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি এ সব কথায় কোন গুরুত্ব দেননি। আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নির্দেশে তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আকতার জাহান সাথী বলেন, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মানববন্ধনের কারণে এর আগে তাকে শোকজ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তিনি সেই শোকজের জবাব দেননি। এরপর আজ তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং এ ঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শু/সবা