11:51 pm, Saturday, 4 July 2026

ঈদগাঁওতে কচুঝাড় পরিষ্কার করতে গিয়ে রান্নার সরঞ্জাম উদ্ধার 

কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন থেকে ডেক- পাতিলসহ রান্নার মূল্যবান সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ৩ জুলাই শুক্রবার দুপুরে ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চলছে নানা কানাঘুসা। তবে এখনো মালামালের প্রকৃত মালিক পাওয়া যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্যই জানা গেছে, উক্ত এলাকার দোকানদার নাসির উদ্দিন দুপুরে নিজ বাড়ির পার্শ্ববর্তী কচু ঝাড় পরিষ্কার করতে ছিলেন। জমিটুকু তিনি মরহুম শফিকুর রহমান ফরেস্টারের কাছ থেকে কিনেছিলেন। এ সময় তিনি বস্তায় মোড়ানো কিছু একটা দেখতে পান। যা তার স্ত্রী এলাকার মাংস ব্যবসায়ী নুরুল হককে জানান। তিনি ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল হুদাকে বিষয়টি অবহিত করেন। মেম্বার তৎক্ষণাৎ ঘটনা স্থলে তার ইউনিয়নের দফাদার মিজানুর রহমানকে পাঠান। তার নির্দেশনা মতে কচুঝাড়ের মালিক নাসির উদ্দিন বস্তায় আচ্ছাদিত রান্নার বেশকিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। যা দফাদার মিজানুর রহমানের জিম্মায় নেয়া হয়েছে।
উদ্ধারকারী নাসির উদ্দিন জানান, উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে আটটি বড় পাতিল, দুইটি ডেক, একটি বড় কড়াই রয়েছে। মশা, মাছি, সাপ, ইঁদুর ও অন্যান্য পোকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে তিনি তার কচু ঝাড় পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় তিনি বস্তায় আচ্ছাদিত রান্নার সরঞ্জামগুলো দেখতে পেয়ে তার স্ত্রীর মাধ্যমে এলাকাবাসীকে জানান।
ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়ক অবস্থিত মেসার্স হাজী বিরিয়ানির স্বত্বাধিকারী ছিদ্দিক আহমদ জানান, ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি সংলগ্ন নুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় তিনি বসবাস করেন। সেখান থেকে নয়টি পাতিল, দুইটি ডেক, একটি বড় কড়াই, একটি হাতা, দুইটি বটি এবং একটি বেলেন্ডার কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। গত কোরবানির ঈদে যখন তিনি নিজ জেলা বরিশালে ছিলেন তখন কেবা কারা  এ ঘটনা ঘটায়। পরে ঈদগাঁওতে এসে চুরির ঘটনা জানতে পেরে তিনি পার্শ্ববর্তী থানায় বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন। তার মতে সেই ঘটনার এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
জালালাবাদ থেকে রান্নার সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা শুনেছি। তবে এখনো ঘটনাস্থলে যাইনি।
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার জানান, এ সংক্রান্ত কোনো ঘটনা তিনি শুনেননি। এ প্রতিবেদকের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তাকে কেউ অভিযোগ দেয়নি বা অবহিতও করেনি। সাংবাদিকের কাছ থেকে শোনার পর তিনি খোঁজ নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাবেন বলে জানান।
এদিকে খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানার এসআই অন্তূ বড়ুয়া বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন যে, বিষয়টির স্থানীয়ভাবে মিমাংসার কথা চলছে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

two + twenty =

About Author Information

Popular Post

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ঈদগাঁওতে কচুঝাড় পরিষ্কার করতে গিয়ে রান্নার সরঞ্জাম উদ্ধার 

Update Time : ০৯:২৫:৩৮ pm, Friday, ৩ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন থেকে ডেক- পাতিলসহ রান্নার মূল্যবান সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ৩ জুলাই শুক্রবার দুপুরে ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চলছে নানা কানাঘুসা। তবে এখনো মালামালের প্রকৃত মালিক পাওয়া যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্যই জানা গেছে, উক্ত এলাকার দোকানদার নাসির উদ্দিন দুপুরে নিজ বাড়ির পার্শ্ববর্তী কচু ঝাড় পরিষ্কার করতে ছিলেন। জমিটুকু তিনি মরহুম শফিকুর রহমান ফরেস্টারের কাছ থেকে কিনেছিলেন। এ সময় তিনি বস্তায় মোড়ানো কিছু একটা দেখতে পান। যা তার স্ত্রী এলাকার মাংস ব্যবসায়ী নুরুল হককে জানান। তিনি ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল হুদাকে বিষয়টি অবহিত করেন। মেম্বার তৎক্ষণাৎ ঘটনা স্থলে তার ইউনিয়নের দফাদার মিজানুর রহমানকে পাঠান। তার নির্দেশনা মতে কচুঝাড়ের মালিক নাসির উদ্দিন বস্তায় আচ্ছাদিত রান্নার বেশকিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। যা দফাদার মিজানুর রহমানের জিম্মায় নেয়া হয়েছে।
উদ্ধারকারী নাসির উদ্দিন জানান, উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে আটটি বড় পাতিল, দুইটি ডেক, একটি বড় কড়াই রয়েছে। মশা, মাছি, সাপ, ইঁদুর ও অন্যান্য পোকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে তিনি তার কচু ঝাড় পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় তিনি বস্তায় আচ্ছাদিত রান্নার সরঞ্জামগুলো দেখতে পেয়ে তার স্ত্রীর মাধ্যমে এলাকাবাসীকে জানান।
ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়ক অবস্থিত মেসার্স হাজী বিরিয়ানির স্বত্বাধিকারী ছিদ্দিক আহমদ জানান, ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি সংলগ্ন নুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় তিনি বসবাস করেন। সেখান থেকে নয়টি পাতিল, দুইটি ডেক, একটি বড় কড়াই, একটি হাতা, দুইটি বটি এবং একটি বেলেন্ডার কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। গত কোরবানির ঈদে যখন তিনি নিজ জেলা বরিশালে ছিলেন তখন কেবা কারা  এ ঘটনা ঘটায়। পরে ঈদগাঁওতে এসে চুরির ঘটনা জানতে পেরে তিনি পার্শ্ববর্তী থানায় বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন। তার মতে সেই ঘটনার এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
জালালাবাদ থেকে রান্নার সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা শুনেছি। তবে এখনো ঘটনাস্থলে যাইনি।
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার জানান, এ সংক্রান্ত কোনো ঘটনা তিনি শুনেননি। এ প্রতিবেদকের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তাকে কেউ অভিযোগ দেয়নি বা অবহিতও করেনি। সাংবাদিকের কাছ থেকে শোনার পর তিনি খোঁজ নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাবেন বলে জানান।
এদিকে খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানার এসআই অন্তূ বড়ুয়া বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন যে, বিষয়টির স্থানীয়ভাবে মিমাংসার কথা চলছে।
শু/সবা