০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে নদীর চরে বালু বানিজ্যের মহোৎসব

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ঘাঘট নদীর চরে ভেকু মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সনাতন মিয়া নামের এক অসাধু ব্যক্তি নির্বিকারে বালু বানিজ্য করলেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সরেজমিনে জানা গেছে, দামোদরপুর ইউনিয়নের সোনাপাড়া গ্রামের এছান ব্যাপারীর ছেলে সনাতন মিয়া স্থানীয় পাটনীপাড়া সংলগ্ন ঘাঘট নদীর জেগে ওঠা চরে ভেকু মেশিন স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে বালু
তুলে অন্যত্র ট্রাকযোগে বিক্রি করছে। আর এই বালু বিক্রির টাকায় সনাতন মিয়া আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বুনলেও ক্ষতি হচ্ছে নদী তীরের কৃষকদের। অবাধে বালু উত্তোলন করার ফলে নদীর পেটে বিলীন হচ্ছে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি। একই সাথে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর (কাকড়া) দিয়ে বালু
বহন করায় নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট ও এলাকার পরিবেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কতিপয় দায়িত্বশীলদের বখরা দিয়ে দিনের বেলায় ভেকু দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে গভীর রাতে ওইসব যানবাহন দিয়ে বালু বহন করে বিক্রি করা হয় বিভিন্ন স্থানে। এ বানিজ্যে লাখ লাখ টাকা বালুখেকো সনাতন মিয়ার পকেটে ঢুকছে। আর এই টাকার ৩০ ভাগ বখরা যাচ্ছে সহযোগিদের পেটে। নামপ্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, সনাতন মিয়া প্রায় ৩ বছর ধরে একই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর অপর তীরে অব্যাহত ভাঙনে কয়েক একর কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এর প্রতিকার চেয়ে প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সনাতন মিয়া বলেন, অর্থ সংকটের কারণে আমার নিজের জমি থেকে বালু তুলে বিক্রি করছি। দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইতিপূর্বে ওইস্থানে বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছি। সেখানে আবারও বালু উত্তোলন করে গভীর রাতে বিক্রির খবর শুনেছি। যা ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ওই জায়গায় বাল  উত্তোলন হচ্ছে, সেটি আমার জানা নেই। সাদুল্লাপুর উপজেলা সরকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামাননের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেনি তিনি।

সাদুল্লাপুরে নদীর চরে বালু বানিজ্যের মহোৎসব

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ঘাঘট নদীর চরে ভেকু মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সনাতন মিয়া নামের এক অসাধু ব্যক্তি নির্বিকারে বালু বানিজ্য করলেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সরেজমিনে জানা গেছে, দামোদরপুর ইউনিয়নের সোনাপাড়া গ্রামের এছান ব্যাপারীর ছেলে সনাতন মিয়া স্থানীয় পাটনীপাড়া সংলগ্ন ঘাঘট নদীর জেগে ওঠা চরে ভেকু মেশিন স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে বালু
তুলে অন্যত্র ট্রাকযোগে বিক্রি করছে। আর এই বালু বিক্রির টাকায় সনাতন মিয়া আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বুনলেও ক্ষতি হচ্ছে নদী তীরের কৃষকদের। অবাধে বালু উত্তোলন করার ফলে নদীর পেটে বিলীন হচ্ছে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি। একই সাথে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর (কাকড়া) দিয়ে বালু
বহন করায় নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট ও এলাকার পরিবেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কতিপয় দায়িত্বশীলদের বখরা দিয়ে দিনের বেলায় ভেকু দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে গভীর রাতে ওইসব যানবাহন দিয়ে বালু বহন করে বিক্রি করা হয় বিভিন্ন স্থানে। এ বানিজ্যে লাখ লাখ টাকা বালুখেকো সনাতন মিয়ার পকেটে ঢুকছে। আর এই টাকার ৩০ ভাগ বখরা যাচ্ছে সহযোগিদের পেটে। নামপ্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, সনাতন মিয়া প্রায় ৩ বছর ধরে একই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর অপর তীরে অব্যাহত ভাঙনে কয়েক একর কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এর প্রতিকার চেয়ে প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সনাতন মিয়া বলেন, অর্থ সংকটের কারণে আমার নিজের জমি থেকে বালু তুলে বিক্রি করছি। দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইতিপূর্বে ওইস্থানে বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছি। সেখানে আবারও বালু উত্তোলন করে গভীর রাতে বিক্রির খবর শুনেছি। যা ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ওই জায়গায় বাল  উত্তোলন হচ্ছে, সেটি আমার জানা নেই। সাদুল্লাপুর উপজেলা সরকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামাননের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেনি তিনি।