আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে উত্তরের জেলা দিনাজপুর। সকাল দুপুর কিংবা রাত শীতের তীব্রতা যেন কমছেই না। এতে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে উত্তরে জনজীবন। পাশাপাশি ফসলের জমিতে শীতের তীব্রতার প্রভাব লক্ষ্য করে গেছে। এতে শঙ্কায় রয়েছেন চাষীরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় দিনাজপুরে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
এ দিকে চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আলু, টমেটো, বোরো ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের উপর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ী এলাকার মহুবুর রহমান। কথা হলে তিনি বলেন, এবার ঠান্ডা বাতাসের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা অনেক। লাগাতার ঘন কুয়াশায় টমেটো আর শিম গাছের অবস্থা খারাপ। শিমের ফুলে শীত জমার কারণে ফুল পচে যাচ্ছে, ঝরে পড়তেছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছেনা। টমেটো গাছের পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। টমেটো বড় হচ্ছে না। রোদ না হলে আরও অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।
একই এলাকার কৃষক আলফাজ আলী বলেন, আলুর গাছ বড় হচ্ছে না। শীতের কারণে পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। সার দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ধানের বীজতলার অবস্থা আরও খারাপ। চারা লালচে হয়ে পচে যাচ্ছে। নতুন করে আবার ধানের বীজ লাগাতে হয়েছে। আবহাওয়া ভালো না হলে কীটনাশক বেশি পরিমাণে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে করে আমাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
এদিকে তীব্র শীতের প্রভাবে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ঠান্ডা জনিত কারণে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে অধিক পরিমাণে। ডায়রিয়া নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
এদিকে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণারের আবহাওয়া সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি বলেন, বর্তমানে এ অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। যা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। তারপর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে শীতের তীব্রতা কমে যাবে।
























